| |

পিটার ফুলটন

১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দৃষ্টিনন্দন ও ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ফাস্ট বোলারের উপযোগী দৈহিক গড়ন নিয়ে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরূপে আবির্ভূত হন। দীর্ঘ উচ্চতার কারণে ‘টু মিটার পিটার’ ডাকনামে ভূষিত হন। তাঁর কাকা রডি ফুলটন ১৯৭২ থেকে ১৯৮৫ সময়কালে ক্যান্টারবারি ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস- উভয় দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। লোয়ারহাউজ ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে ২০০৪ সময়কালে খেলেছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৬ বছরের পুরোটা সময়ই ক্লাবটিতে খেলে ২০১৭ সালে বিদেয় নেন।

প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অকল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে প্রথমবারের মতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। এরফলে, নিউজিল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ত্রি-শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজর আকর্ষণে সক্ষম হন।

২০০৪ থেকে ২০১৪ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৩ টেস্ট, ৪৯টি ওডিআই ও ১২টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে ক্রমাগত রান সংগ্রহের স্বীকৃতিস্বরূপ নিউজিল্যান্ডের ওডিআই দলে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৪-০৫ মৌসুমে দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ২ নভেম্বর, ২০০৪ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। খেলায় মাত্র ৯ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।

এরপর, নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। দ্বিতীয়বারের মতো ওডিআই খেলার জন্যে তাঁকে এক বছর অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল। ডিসেম্বর, ২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঐ সিরিজটি তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে বিরাট পরিবর্তন আনে। চার খেলায় অংশ নিয়ে একটি শতক ও দুইটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

সুন্দর ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ নিজ দেশে ২০০৫-০৬ মৌসুমে শিবনারায়ণ চন্দরপলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ এনে দেয়। ওডিআই অভিষেকের দেড় বছর পর ৯ মার্চ, ২০০৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জেমি হাউয়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে ১৭ ও ২৮ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। শেন বন্ডের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। এর একমাস পূর্বে একই দলের বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথম খেলেন।

২০০৫-০৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের অন্যতম সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৫ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪ ও ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। মাখায়া এনটিনি’র অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ১২৮ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

তবে, টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা বেশ সাদামাটা গড়নের ছিল। প্রথম ১০ খেলা থেকে মাত্র ২০ গড়ে ৩১৪ রান তুলতে সমর্থ হয়েছিলেন। এ সময়ে ওডিআইয়ে ভালো করলেও ধারাবাহিকতা ছিল না। ফলশ্রুতিতে, দল থেকে বাদ পড়েন।

মার্চ, ২০১৩ সালে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত টেস্টে দারুণ খেলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐ টেস্টের উভয় ইনিংসে শতক হাঁকানোর গৌরবের অধিকারী হন। এরফলে, নিউজিল্যান্ডের চতুর্থ ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ৬০তম খেলোয়াড় হিসেবে এ কৃতিত্ব অর্জনে জড়িত হন।

২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ৯ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭৩ ও ৫৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সোহাগ গাজী’র অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০১৪ সালে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৮ জুন, ২০১৪ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ১ ও ০ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অভিষেকধারী মার্ক ক্রেগের অনবদ্য বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১৮৬ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। এরফলে, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে নিউজিল্যান্ড দল দ্বিতীয়বারের মতো জয়লাভে সমর্থ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রমাগত আঘাতের কবলে পড়ে এপ্রিল, ২০১৭ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর পাঁচ-বছর দায়িত্বে থাকা ক্রেগ ম্যাকমিলানের পরিবর্তে ১৫ মে, ২০১৯ তারিখে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং কোচ হিসেবে তাঁকে মনোনীত করা হয়। তবে, ২ জুলাই, ২০২০ তারিখে এ দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নিয়ে ক্যান্টারবারিতে যুক্ত হন। ৬ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে ক্যান্টারবারির চতুর্থবারের মতো প্লাঙ্কেট শীল্ডের শিরোপা বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন।

Similar Posts

  • |

    যশস্বী যশওয়াল

    ২৮ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে উত্তরপ্রদেশের ভাদোহির সূর্য্যবন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মুম্বই ও বহিঃভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, রাজস্থান রয়্যালস, ভারত ‘এ’ অনূর্ধ্ব-১৯, ভারত ‘বি’, ভারত অনূর্ধ্ব-২৩ দলের পক্ষে খেলেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে…

  • |

    ডেনিস বেগবি

    ১২ ডিসেম্বর, ১৯১৪ তারিখে ট্রান্সভালের মিডেলবার্গ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক কিংবা লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দ্রুতলয়ে রান সংগ্রহে বেশ তৎপরতা দেখাতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুম থেকে…

  • |

    আব্দুল রাজ্জাক

    ২ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রথিতযশা ও শক্তিধর অল-রাউন্ডার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। দীর্ঘদিনের খেলোয়াড়ী জীবনে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কারণে সুনাম কুড়িয়েছেন। বলকে সীমানা পাড় করতে তৎপরতা দেখাতেন। তবে, শেষেরদিকের…

  • | | |

    অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল

    ২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট সিরিজ বিজয়ে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অনেকটা সহজাত প্রকৃতির ক্রিকেটার ছিলেন। পিতা ইয়ান কিশোর দলের কোচ ছিলেন ও ভবিষ্যতের তারকা ক্রিকেটার…

  • |

    এরল হান্ট

    ৩ অক্টোবর, ১৯০৫ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হবার পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৮-২৯ মৌসুম থেকে ১৯৩৩-৩৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত…

  • | |

    জনি ক্লে

    ১৮ মার্চ, ১৮৯৮ তারিখে ওয়েলসের বনভিলস্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। উইনচেস্টারে অধ্যয়ন করেছেন। চিপস্টো এলাকায় ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারের সন্তান ছিলেন। যুবক অবস্থায় ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন ফাস্ট বোলার ছিলেন। শুরুতে মাইনর কাউন্টি…