|

টিশেপো মোরকেই

৭ অক্টোবর, ১৯৯৩ তারিখে নাটাল প্রদেশের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন।

‘মার্লে’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ভ্রমণপ্রিয় তিনি। গ্লেনউড হাই স্কুল থেকে পূর্বে অধ্যয়নকারী সিম বোলার স্টিফেন জ্যাকের ন্যায় তিনি অতিরিক্ত গুণাবলী হিসেবে পেসে আগুয়ান ছিলেন। কিশোর অবস্থাতেই দেরীতে সুইং করানোসহ বিধ্বংসী ইয়র্কারে পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছিলেন।

২০১২-১৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে কোবরাজ, টাইটান্স, গটেং, কেপ কোবরাজ, ডলফিন্স, নর্দার্নস, কোয়াজুলু-নাটাল ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বোল্যান্ড, পার্ল রক্স, লায়ন্স, দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশ, বেনোনি জালমি, কোয়াজুলু-নাটাল অনূর্ধ্ব-১৯, দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের পক্ষে খেলেছেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুইটি অনূর্ধ্ব-১৯ ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, কোয়াজুলু-নাটালের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অভিষেক ঘটে। ২০ ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখে অটশুর্নে অনুষ্ঠিত কোয়াজুলু-নাটাল বনাম সাউথ ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টসের মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। দলটির পক্ষে দুই মৌসুম দূর্দান্ত খেলে ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় একাডেমির পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। একাডেমি দলটির সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা সফরে যান এবং চার-দিনের ও একদিনের খেলার উভয়টিতে বোলিং গড়ে শীর্ষে অবস্থান করেন।

ডলফিন্সের পক্ষ থেকে কোন চুক্তির প্রস্তাবনা না পাবার ফলে ২০১৫-১৬ মৌসুমের গ্রীষ্মে কেপ কোবরাজে চলে যান। দলটির পক্ষে চূড়ান্ত খেলাসহ ওয়ান-ডে কাপের সবগুলো খেলায় অংশ নেন। ঐ প্রতিযোগিতায় শীর্ষ পাঁচ উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় নিজেকে ঠাঁই করে নেন। এছাড়াও, ঐ মৌসুমে কোবরাজের পক্ষে দশটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ করেন।

২০২৩-২৪ মৌসুম থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। তবে, টেস্ট ক্রিকেটে আমন্ত্রণ লাভের পূর্বে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে কোন পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পাননি। এ মৌসুমে নীল ব্রান্ডের অধিনায়কত্বে স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে অংশ নেন। ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে এডওয়ার্ড মুর, নীল ব্রান্ড, ক্লাইড ফরচুন, রেনার্ড ফন টন্ডার ও রুয়ান ডি সোয়ার্টের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়।

খেলায় তিনি ১/১১০ ও ০/১৬ লাভ করেন এবং ব্যাট হাতে ৫ ও ৬ রান সংগ্রহ করেন। তন্মধ্যে, ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। নিজের প্রথম বলে ডেভন কনওয়েকে এলবিডব্লিউতে বিদেয় করে প্রথম উইকেট পেয়েছিলেন। এরফলে ২০২৪ সালে দ্বিতীয় বোলার হিসেবে এ কীর্তিগাঁথায় নিজেকে যুক্ত করেন। এছাড়াও, বার্ট ভগলার, ডেন পাইত, হরদাস বিলজোয়েনের পর চতুর্থ দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে এ সাফল্য পান। সবমিলিয়ে বিশ্বের ২৪তম বোলার হিসেবে প্রথম বল থেকে উইকেটের সন্ধান পান। তবে, ঐ ইনিংসে আর কোন উইকেট লাভে ব্যর্থ হন। রচিন রবীন্দ্রের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ২৮১ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৩২ ও ০/৪৪ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৪* ও ০* রান সংগ্রহ করেন। তবে, উইলিয়াম ও’রোর্কের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা খেলায় ৭ উইকেটে জয়লাভসহ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। সব মিলিয়ে ঐ সিরিজে ১০১.০০ গড়ে ২ উইকেট পেয়েছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৭.৫০ গড়ে ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন।

Similar Posts

  • | |

    খালেদ মাসুদ

    ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে উত্তরাঞ্চলীয় শহর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংকর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব করেন। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট দলের দ্বিতীয় অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। টেস্টভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দলের স্বীকৃতি লাভের প্রথম দশকে দলের সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পান। কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করার মানসিকতা…

  • |

    জনি লিন্ডসে

    ৮ সেপ্টেম্বর, ১৯০৮ তারিখে কেপ প্রভিন্সের বার্কলি ইস্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৪০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভাল ও নর্থ ইস্টার্ন ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুম থেকে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • | | |

    কেন রাদারফোর্ড

    ২৬ অক্টোবর, ১৯৬৫ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গটেংয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, গটেং…

  • |

    ভিক পোলার্ড

    ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ তারিখে ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ারের বার্নলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। সচরাচর কভার এলাকায় দণ্ডায়মান থেকে ক্ষীপ্রতার সাথে ফিল্ডিং করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ছোটখাটো গড়ন ও দৃঢ় প্রত্যয়ী মনোভাব নিয়ে খেলা অগ্রসর হতেন। সময়ের প্রয়োজনে একান্ত নিষ্ঠার সাথে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংশৈলী…

  • |

    জন ওয়ার্ড

    ১১ মার্চ, ১৯৩৭ তারিখে ক্যান্টারবারির টিমারু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সর্বদাই তাঁকে আর্টি ডিক ও এরিক পেট্রি’র সহকারী হিসেবে খেলতে হয়েছে। বিশ্বস্ত উইকেট-রক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ব্যাপকভাবে তেমন সফলতার সন্ধান না পেলেও নিচেরসারিতে বেশ খাঁটিমানের প্রতিরক্ষাব্যূহ গড়ে তুলতে…

  • |

    ফ্রাঙ্ক স্মেইলস

    ২৭ মার্চ, ১৯১০ তারিখে ইয়র্কশায়ারের রিপ্লি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৪০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩২ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে দলের পেস বোলার ও বিনোদনধর্মী ব্যাটসম্যান হিসেবে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত…