|

জর্জ হার্ন, ১৮৫৬

৭ জুলাই, ১৮৫৬ তারিখে মিডলসেক্সের ইলিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, রাউন্ড আর্ম ভঙ্গীমায় বামহাতে মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘জিজি’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। সুপরিচিত হার্ন পরিবারের অন্যতম সদস্য তিনি। ফ্রাঙ্ক ও অ্যালেক ভ্রাতৃদ্বয় রয়েছে এবং তিনি জ্যেষ্ঠ ছিলেন। ভ্রাতৃত্রয় প্রত্যেকেই কেন্টের সদস্য ছিলেন। ১৮৭৫ থেকে ১৯০৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, ১৮৭৫ থেকে ১৮৯৫ সালে ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পিতা জর্জ হার্ন একই মাঠের মাঠ কর্মকর্তা ছিলেন। পিতাসহ কাকা টমের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এক পর্যায়ে পরিবারটি কেন্টে চলে আসে। এছাড়াও, ইংল্যান্ড সাউথ, সাউথ প্লেয়ার্স ও এমসিসি’র পক্ষে খেলেছেন। ১৮৯০ সালে কেন্টের ক্যাপ লাভ করেন। বামহাতে রাউন্ড আর্ম বোলার ছিলেন। সহজাত প্রকৃতিতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং লেগ থেকে অফের দিকে যাবার ফলে অগণিত ক্যাচ স্লিপ অঞ্চলে চলে যেতো। শুরুতে ব্যাট হাতে তেমন সফলতার সন্ধান না পেলেও পরবর্তীতে এর উন্নয়ন ঘটে। বেশ সঠিক মানে ও ব্যাপক অর্থে রক্ষণাত্মক ধাঁচে ব্যাটিং করতেন। সচরাচর, পয়েন্ট কিংবা মিড-উইকেট বরাবর ফিল্ডিং করতেন। পরিশ্রমী ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। প্রকৃত মানসম্পন্ন অল-রাউন্ডার ছিলেন।

১৮৮৬ সালে ৪০ ঊর্ধ্ব গড়ে প্রায় সহস্র রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৮৮৪ সালে কেন্টের সদস্যরূপে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে খেলেন ও দলের বিজয়ে অপূর্ব ভূমিকা রাখেন। সর্বমোট ৩৮২টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, ২৫২টি কেন্টের পক্ষে ছিল।

১৮৯২ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৯১-৯২ মৌসুমে ডব্লিউ. ডব্লিউ. রিডের নেতৃত্বাধীন দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৯ মার্চ, ১৮৯২ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। উইলিয়াম চ্যাটারটন, অ্যালেক হার্ন, জ্যাক হার্ন, ডিক পাওয়ার ও ভিক্টর বার্টনের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ খেলায় ভ্রাতা অ্যালেক ও কাকাতো ভাই জে.টি. ইংল্যান্ড দলের পক্ষে খেললেও অপর ভ্রাতা ফ্রাঙ্ক দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষাবলম্বন করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে দান্তে পার্কিনের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮৯ রানে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৮৭৬ সালে প্রিন্স’স গ্রাউন্ডের সাথে যুক্ত হন। পরবর্তী বছর লর্ডসের মাঠ কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে মনোনীত করা হয়। ১৯০১ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন। শীতকালে পিতার ন্যায় তিনিও ক্রিকেট মাঠ প্রস্তুত ও ১৪০, লুইশাম হাই রোডে ক্রিকেট সরঞ্জাম ব্যবসা ১৮৯৫ সাল পর্যন্ত পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে, ব্যবসাটি উইজডেনের সাথে যোগ করা হয়। ১৮৯০ সালে কেন্ট এবং ১৮৯৮ সালে মিডলসেক্স বনাম সমারসেটের মধ্যকার আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। মেরি জেন শ্যারন নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ১৯১৬ সালে স্ত্রীর মৃত্যুর পর অবিবাহিত কন্যাকে নিয়ে ক্যাটফোর্ডের ৫৬, ভার্ডান্ট লেনের মাবেলস হাউজে চলে যান। ব্রঙ্কাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হলে কিংস কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩২ তারিখে লন্ডনের ডেনমার্ক হিল এলাকায় ৭৫ বছর ২২১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    পার্সি ম্যানসেল

    ১৬ মার্চ, ১৯২০ তারিখে ইংল্যান্ডের সেন্ট জর্জেসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মাত্র তিন মাস তিন দিন বয়সে পরিবারের সাথে রোডেশিয়ায় চলে আসেন ও এরপর থেকে বুলাওয়েতে রয়ে…

  • |

    অশোক গন্দোত্রা

    ২৪ নভেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে রিও ডি জেনেরিওতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। প্রতিভাবান বামহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। পাঁচ ফুট পৌণে সাত ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। বামহাতি স্পিনার হিসেবে বলকে উভয়দিক দিয়েই বাঁক খাওয়াতে পারতেন। ১৯৬৫-৬৬…

  • |

    এডওয়ার্ড টাইলকোট

    ২৩ জুন, ১৮৪৯ তারিখে বেডফোর্ডশায়ারের মার্সটন মোরটেইন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্লিফটন কলেজে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। অক্সফোর্ডে থাকাকালীন ব্লুধারী হন। স্ট্যাম্পের কাছাকাছি অবস্থান করে দ্রুতগতির বল থেকে কট কিংবা স্ট্যাম্পিং করার…

  • | | |

    উইলি ওয়াটসন, ১৯২০

    ৭ মার্চ, ১৯২০ তারিখে ইয়র্কশায়ারের বোল্টন-অন-ডিয়ার্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, ফুটবলার, প্রশাসক ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। এছাড়াও, দক্ষ ফিল্ডার হিসেবেও তাঁর সুনাম ছিল। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘বিল’ কিংবা ‘বিলি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার ও ইয়র্কশায়ার দলের…

  • |

    ব্রাইস ম্যাকগেইন

    ২৫ মার্চ, ১৯৭২ তারিখে ভিক্টোরিয়ার মর্নিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ২০০০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১.৮২ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে ক্লাব পর্যায়ের ক্রিকেটে ফ্রাঙ্কস্টন পেনিনসুলা ও প্রাহরানের পক্ষে ২৮৪…

  • | | |

    মার্ক টেলর

    ২৭ অক্টোবর, ১৯৬৪ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের লিটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেট অধিনায়ক হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ ও কার্যকরী অধিনায়কের গুণাবলীর কারণে খেলোয়াড়ী জীবনে ‘টাবি’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ…