|

জ্যাক ম্যাকব্রায়ান

২২ জুলাই, ১৮৯২ তারিখে উইল্টশায়ারের বক্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দূর্দান্ত ব্যাটসম্যানের স্বীকৃতি পান। তবে, মন্দ ভাগ্যের কবলে পড়ে হঠাৎ আলোর ঝলকানীর ন্যায় খেলোয়াড়ী জীবন থেমে যায়। এক্সটার স্কুলে অধ্যয়নের পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। তবে, নিজেকে কখনো ক্রিকেটার হিসেবে দেখতে চাননি। এক্সটার স্কুলের নেতৃত্বে ছিলেন। এছাড়াও, কেমব্রিজের পক্ষে হকি খেলায় অংশ নেন। ১৯২০ সালে অ্যান্টার্পে অনুষ্ঠিত অলিম্পিকে গ্রেট ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ড দলের সদস্যরূপে হকিতে স্বর্ণপদক জয়ী দলের সদস্য ছিলেন। স্নায়ুবিজ্ঞান বিষয়ের দিকেই তাঁর অধিক ঝোঁক লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু, তাঁর পিতা মানসিক ভারসাম্য হবার কারণে এ আশা পরিত্যাগ করতে হয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। লি কেতুয় ডানহাতে আঘাত পান। কয়েক বছর হল্যান্ডে যুদ্ধবন্দী ছিলেন। খাঁটি মানসম্পন্ন ব্যাটসম্যান হলেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখেননি। পিছনের পায়ে ভর রেখে খেলার কারণে শর্ট-পিচ বোলিং ও স্পিনের বিপক্ষে তাঁকে উপযোগী করে তুলে। এছাড়াও, ইংল্যান্ড দলের ব্যাটিং উদ্বোধনের ক্ষেত্রেও এ ধাঁচের ব্যাটিংয়ের প্রয়োজন ছিল।

১৯১১ থেকে ১৯৩৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৯ গড়ে ১০৩২২ রান তুলেছেন। অধিকাংশই কেমব্রিজ ও সমারসেটের শৌখিন ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছিলেন। ১৯২০-এর দশকের অর্ধেক সময় সমারসেটের সেরা ব্যাটসম্যানের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ১৯২৪ সালে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ৪১ গড়ে ১৬০৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

১৯২৪ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৪ সালে নিজ দেশে হার্বি টেলরের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৬ জুলাই, ১৯২৪ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। জর্জ ডাকওয়ার্থ ও জর্জ গিয়েরি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, প্রথম দিন পৌণে তিন ঘণ্টায় সফরকারীদের সংগ্রহ ১১৬/৪ হবার পর বাদ-বাকী সময় বৃষ্টির কবলে পড়ে। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এরপর, আর তাঁকে খেলানো হয়। তবে, ঐ বছরের শেষদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেছিলেন। তাঁর পুরো টেস্ট খেলোয়াড় জীবনে ব্যাট, বল কিংবা কোন ক্যাচ তালুবন্দী করেননি। একই টেস্টে অভিষেক ঘটা অন্যান্য খেলোয়াড়ও একই ফলাফল করে; তবে তাঁরা আরও টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯২৫ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন।

দূর্ভাগ্যবশতঃ ব্যক্তিগত জীবনে সুখী ছিলেন না। পিতা-মাতার সাথে সু-সম্পর্ক ছিল না। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তবে, পরবর্তীতে তা বিবাহ-বিচ্ছেদে পরিণত হয়। একের-পর এক চাকুরী ছেড়েছেন। শেষ জীবনে আর্থিক দূর্দশার কবলে পড়েন। ১৪ জুলাই, ১৯৮৩ তারিখে ৯১তম জন্মদিন উদযাপনের আট দিন পূর্বে কেমব্রিজে ৯০ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন ইংল্যান্ডের প্রবীণতম জীবিত টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

Similar Posts

  • | | |

    জ্যাকি হেনড্রিক্স

    ২১ ডিসেম্বর, ১৯৩৩ তারিখে জ্যামাইকার সেন্ট অ্যান্ড্রু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, রেফারি ও প্রশাসক। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংকর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯৬০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘকায় গড়ন ও আমুদে প্রকৃতির অধিকারী ছিলেন। দারুণ উইকেট-রক্ষক হিসেবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। তবে, খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময়ই তাঁকে…

  • | |

    জিম পার্কস, ১৯৩১

    ২১ অক্টোবর, ১৯৩১ তারিখে সাসেক্সের হেওয়ার্ডস হিদ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং ও লেগ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাঁচ বছর বয়সে ক্রিকেটের প্রতি তাঁর আসক্তি গড়ে উঠে। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারে সর্বাপেক্ষা সদস্যের মর্যাদা পান। তাঁর পরিবারের সাথে সাসেক্সের সম্পর্ক ১৯২৪…

  • | |

    মোহাম্মদ হাফিজ

    ১৭ অক্টোবর, ১৯৮০ তারিখে পাঞ্জাবের সারগোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং কর্মে অগ্রসর হন। পাকিস্তান দলের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নেয়াসহ অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সচরাচর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কৌশলগতভাবে প্রয়োজনমাফিক রক্ষণাত্মক ঢংয়েও অগ্রসর হয়ে থাকেন। পাকিস্তান দলের অন্যতম অনুসঙ্গ তিনি। বেশ কয়েকবার বোলিং…

  • | |

    শিখর ধবন

    ৫ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।…

  • | |

    মুদাসসর নজর

    ৬ এপ্রিল, ১৯৫৬ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। টেস্টে খাঁটিমানের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ও ওডিআইয়ে দূর্দান্ত অল-রাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অপরিসীম ধৈর্য্য ও ফুরফুরে মেজাজের অধিকারী থেকে খেলায় বিরাট ভূমিকা রেখে গেছেন।…

  • |

    কাইল অ্যাবট

    ১৮ জুন, ১৯৮৭ তারিখে কোয়াজুলু-নাটালের এম্পাঙ্গেনি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কিয়ার্সনি কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। দীর্ঘদেহী ও শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। পেস ও বলে গতি সঞ্চারণে বেশ সক্ষম ছিলেন ও…