৬ অক্টোবর, ১৮৮৭ তারিখে অক্সফোর্ডের কাউলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
অন্যতম বর্ণাঢ্যময় ক্রিকেটার ছিলেন। বামহাতে আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভূত হতেন। ১৯০৮ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পেশাদারী পর্যায়ে হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে সেরা অল-রাউন্ডার হিসেবে অংশ নিয়েছেন। নিজের শেষ মৌসুমে ওভালে ব্যাটিং অনুপযোগী পিচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে ১৫০ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন।
খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে দারুণ ফাস্ট বোলিং করতেন। ১৯১২ সালে অস্ট্রেলীয় একাদশকে হ্যাম্পশায়ার পর্যদুস্ত করে। ঐ খেলার প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেট পেয়েছিলেন। মিড-অফ অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডিং করে দর্শনীয় রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। জ্যাক হবসের হার্ড ড্রাইভ সিলি-পয়েন্ট অঞ্চলে তালুবন্দী করলে উইজডেন তাঁর প্রচেষ্টাকে ‘অসাধারণ’ হিসেবে উল্লেখ করে।
ব্যাটসম্যান হিসেবে কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে তৎপর ছিলেন। ওয়ারউইকশায়ার দল হ্যাম্পশায়ারকে মাত্র ১৫ রানে গুটিয়ে দিলে ইনিংস পরাজয় এড়াতে দলের সংগ্রহ ৩১/৬ থাকাকালে মাঠে নামেন। ১৭২ রান তুলে দলের অবস্থার উত্তরণ ঘটান ও হ্যাম্পশায়ার দল ১৫৫ রানে জয় পায়।
অনেকগুলো ঘটনার সাথে নিজেকে জড়িয়েছেন। তন্মধ্যে একবার অধিনায়ক লিওনেল টেনিসনের সাথে মতানৈক্য ঘটায় ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে দশ নম্বর অবস্থানে মাঠে নামেন। হ্যারি হাওয়েলের বাউন্সারে আসা প্রথম বলে উইকেট-রক্ষকের পিছন দিয়ে ছক্কা হাঁকান। কিছু সময় পর আরেকটি বলে তাঁর ব্যাট ভেঙ্গে যায়। ভাঙ্গা অংশ আম্পায়ারের হাতে দেন ও খণ্ডাংশ নিয়েই ব্যাটিং চালিয়ে যান।
১৯২১ থেকে ১৯২৩ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২১ সালে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের শোচনীয় ফলাফল অবলোকন করেন। ঐ বছর নিজ দেশে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২ জুলাই, ১৯২১ তারিখে লিডসে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। অ্যান্ডি ডুকাট, ওয়ালি হার্ডিঞ্জ ও জ্যাক হোয়াইটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ড্রাইভ ও হুকের মাধ্যমে জ্যাক গ্রিগরি ও টেড ম্যাকডোনাল্ডকে যথেষ্ট ভুগিয়েছেন। খেলায় তিনি ৫৭ ও ৪৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ২১৯ রানে পরাভূত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। এ সিরিজে ৫০ গড়ে রান পেয়েছেন।
১৯২২-২৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ফ্রাঙ্ক মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯২২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২২ ও ১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জিমি ব্লাঙ্কেনবার্গের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। সফরকারীরা ১৬৮ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৫* ও ১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ১০৯ রানে জয়লাভ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয় পায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
স্মর্তব্য যে, হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে নিয়মিতভাবে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর না হলেও ইংল্যান্ডের পক্ষে অংশগ্রহণকৃত সাত টেস্টের সবকটিতেই উইকেট-রক্ষকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। দৃশ্যতঃ গ্লাভস কর্মে তাঁর ভূমিকা ছিল বিশ্বমানসম্পন্ন। হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে ২৬ মৌসুম খেলে ৪৬ বছর বয়সে খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি টানেন।
৩ ডিসেম্বর, ১৯৬৪ তারিখে হ্যাম্পশায়ারের উইনচেস্টার এলাকার হাসপাতালে ৭৭ বছর ৫৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
