১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯১ তারিখে সমারসেটের হলফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও শৌখিন ক্রিকেটার এবং প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
‘ফারমার’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। নিজের সেরা দিনগুলো শীর্ষস্থানীয় শৌখিন স্লো বোলার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। সূদীর্ঘ ও সফলতম খেলোয়াড়ী জীবন পাড় করেছেন। বলকে শূন্যে ভাসানোর মাধ্যমে সফলতার সন্ধান পেয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৯ থেকে ১৯৩৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। এ পর্যায়ে ছয়টি শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়াও, পাঁচ মৌসুম সমারসেটের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯২৯ ও ১৯৩০ সালে সহস্র রান ও শত উইকেট লাভের ন্যায় ‘ডাবল’ লাভের ন্যায় সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। ১৯১৯ সালে বাথে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে এক দিনে ১৬ উইকেট পেয়েছিলেন। এছাড়াও, ১৯২১ সালে নিউ রোডে একই দলের বিপক্ষে ইনিংসে সবকটি উইকেট করায়ত্ত্ব করেছিলেন। ইনিংসে চারবার নয় উইকেট ও তিনবার খেলায় ১৫ উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন।
১৯২১ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্টে অংশ নিয়েছেন। ৩২.২৬ গড়ে ৪৯ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯২১ সালে নিজ দেশে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২ জুলাই, ১৯২১ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। অ্যান্ডি ডুকাট, জর্জ ব্রাউন ও ওয়ালি হার্ডিঞ্জের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মাত্র ১ ও ৬ রান তুলতে পেরেছেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭০ ও ৩/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ২১৯ রানে পরাভূত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯২৮-২৯ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজে অন্যতম স্বর্ণালী মুহূর্ত উদযাপন করেন। অ্যাডিলেডে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে ১২৫ ওভার বোলিং করে অজিদের বিপক্ষে খেলায় ২৫৬ রান খরচায় ১৩ উইকেট লাভ করেন। ইংল্যান্ড দলকে ১২ রানের নাটকীয় জয় এনে দিয়েছিলেন।
১৯৩০-৩১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৩০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ২ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রেই বুস্টার নুপেনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ২৮ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে ডারবানের কিংসমিডে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ১/৬৩ ও ১/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
সব মিলিয়ে সমারসেটের পক্ষে ১৮.০২ গড়ে ২১৬৭ উইকেট ও ১৮.৪০ গড়ে ১২২০২ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, ৩৮১টি ক্যাচ তালুবন্দী করে রেকর্ড গড়েন। পরবর্তীতে, ২০১৬ সালে মার্কাস ট্রেস্কোথিক তাঁর এর রেকর্ড নিজের করে নেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৬০ সালে সমারসেটের সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। এছাড়াও, ১৯২৯ থেকে ১৯৩০ সময়কালে টেস্ট দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২ মে, ১৯৬১ তারিখে সমারসেটের ইয়ার্ড ফার্ম এলাকায় ৭০ বছর ৭২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
