৫ মার্চ, ১৯২১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ, আম্পায়ার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৫২-৫৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নর্দার্ন ইন্ডিয়া ও পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তেরো বছরের অধিক সময় নিয়ে ৪৫টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ৮ শতক সহযোগে ৪১.৫০ গড়ে ২৭৩৯ রান সংগ্রহসহ ৪০ ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন।

১৯৫২ সালে পাকিস্তানের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন। প্রত্যেক টেস্টেই হানিফ মোহাম্মদের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। রামচন্দ্র গুহ রেডিফে এক প্রতিবেদনে তাঁদের টুক-টুক করে বল আটকিয়ে রান সংগ্রহে অগ্রসর হবার কথা তুলে ধরেছেন। এ পর্যায়ে ৩৯.৫৭ গড়ে ২৭৭ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ৭ ক্যাচ হাতে মুঠোয় পুড়েন। দৃষ্টিনন্দন ফিল্ডিং করে ভারতীয় ধারাভাষ্যকারদের কাছ থেকে ‘গালির রাজপুত্র’ হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন।

১৯৫২-৫৩ মৌসুমে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১৬ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আব্দুল কারদার ও আমির ইলাহী ব্যতীত বাদ-বাকী সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। পাকিস্তানের প্রথম বল মোকাবেলার কৃতিত্বের অধিকারী হন। ২৭ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭০ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

পরের টেস্টে পাকিস্তানের প্রথম টেস্ট শতকধারীর মর্যাদা পান। লখনউয়ের ম্যাটিং উইকেটে আট ঘণ্টা ৩৫ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করে ১২৪ রানে অপরাজিত থাকেন ও দলের ইনিংস বিজয়ের ভিত রচনা করেন। পাশাপাশি, পাকিস্তানের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্টে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ছাড়েন।

একই সফরের ১২ ডিসেম্বর, ১৯৫২ তারিখে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৫৫ ও ৪৭ রান তুলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। তবে, এ সিরিজে অংশ নেয়ার পর নিজ দেশে দূর্ঘটনায় পতিত হন। বামহাতে আঘাত পান ও তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে।

ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করার পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এছাড়াও, কোচ ও দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর সন্তান মুদাসসর নজর পাকিস্তানের পক্ষে ৭৬ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১২ জুলাই, ১৯৯৬ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে ৭৫ বছর ১২৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    উইলিয়াম স্কটন

    ১৫ জানুয়ারি, ১৮৫৬ তারিখে নটিংহামের মাউন্ট স্ট্রিট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। তাঁর জন্মসনদে পিতার নাম স্কটর্ন নামে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে, ধারনা করা হয় যে – এটি ভুল ছিল। নটিংহামের পিপলস…

  • |

    ম্যাথু হামফ্রেস

    ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০০২ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০২২-২৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। নর্দার্ন নাইটসের পক্ষে লিস্ট-এ ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরে কোন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে জাতীয় দলে…

  • |

    রন স্যাগার্স

    ১৫ মে, ১৯১৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডেনহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে এগিয়ে আসতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মারেকভিল পাবলিক স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। বেশ পরিশ্রমী ছিলেন। ১৯৩২-৩৩ মৌসুমে মারিকভিল ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট ক্লাবের সদস্যরূপে যোগ দেন। থার্ড গ্রেডের ক্রিকেটে…

  • | |

    বিরাট কোহলি

    ৫ নভেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভীতিহীন, মারকুটে প্রতিভাবান ডানহাতি ব্যাটসম্যান। নিজ প্রজন্মের সময়কালে সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। সন্দেহাতীতভাবে ভারতের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারদের…

  • | |

    গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার

    ২০ ডিসেম্বর, ১৯৭০ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। হারারেভিত্তিক সেন্ট জর্জেস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০১০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া…

  • |

    বিল হান্ট

    ২৬ আগস্ট, ১৯০৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের বলমেইন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৩১-৩২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত…