| |

মেরিক প্রিঙ্গল

২২ জুন, ১৯৬৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের অ্যাডিলেড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ডেল কলেজে অধ্যয়ন শেষে কিংসউড কলেজে পড়াশুনো করেছেন। দ্রুতগতিতে বোলিং না করলেও বলে কৌণিকভাবে সিম আনয়ণে সক্ষম ছিলেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে ইপি নাফ ও ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে এসএ স্কুলসের পক্ষে কিশোর ক্রিকেটে অংশ নেন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স, অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে সাসেক্সের সদস্যরূপে ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম পর্যন্ত ইস্টার্ন প্রভিন্স / ইস্টার্ন প্রভিন্স ‘বি’ দলের পক্ষে খেলেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও ১৭টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৯ উইকেটে জয়লাভ করেছিল। ৫ মার্চ, ১৯৯২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে গ্রুপ-পর্বের খেলায় আট ওভারে ৪/১১ নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। এগুলো খেলার প্রথম চার উইকেট ছিল ও দল ৬৪ রানে জয় পায়।

১৯৯২ সালে কেপলার ওয়েসেলসের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৮ এপ্রিল, ১৯৯২ তারিখে বার্বাডোসের ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। পিটার কার্স্টেন, অ্যান্ড্রু হাডসন, অ্যালান ডোনাল্ড, অ্যাড্রিয়ান কুইপার, ডেভিড রিচার্ডসন, মার্ক রাশমেয়ার, রিচার্ড স্নেল, টারটিয়াস বস ও হান্সি ক্রোনিয়ে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৬২ ও ০/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৫ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অপর অভিষেকধারী অ্যান্ড্রু হাডসনের অসাধারণ শতক সত্ত্বেও খেলায় সফরকারীরা ৫২ রানে পরাজিত হয়।

১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। মার্চ, ১৯৭০ সালের পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এটি প্রথম টেস্ট খেলা ছিল। ১৩ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৬৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রবীণ আম্রে’র অসাধারণ শতকে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। ওয়ান্ডারার্স টেস্টে জবাগল শ্রীনাথের বাউন্সারে গুরুতর চোট পান।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৩০ নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৪৬ ও ১/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১০* ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জ্যাক রাসেলের অসাধারণ অল-রাউন্ড কৃতিত্বে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৯০-এর দশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে পুণরায় ফিরে আসার পর কয়েকজন ফাস্ট-মিডিয়াম বোলারের অন্যতম হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে খেলার সুযোগ পান। টেস্টের তুলনায় সীমিত-ওভারের ক্রিকেটেই অধিক সফল ছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। বিভিন্ন আইসিসি সহযোগী দেশের কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। রাজস্থান দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন।

Similar Posts

  • | |

    ভার্নন ফিল্যান্ডার

    ২৪ জুন, ১৯৮৫ তারিখে বেলভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘প্রো’ কিংবা ‘দ্য সার্জন’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। দ্রুততম বোলার না হলেও উপযোগী পরিবেশে সর্বাপেক্ষা বিপজ্জ্বনক বোলারে পরিণত হতেন। বলে নিখুঁতভাব…

  • | |

    চম্পকা রামানায়েকে

    ৮ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম থেকে ২০০১-০২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে গল ক্রিকেট ক্লাব এবং তামিল ইউনিয়ন ও…

  • |

    উইলিয়াম মোল

    ৩১ জানুয়ারি, ১৮৫৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ব্রাইটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৮৮৫-৮৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮০ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে…

  • | |

    জাভেদ আখতার

    ২১ নভেম্বর, ১৯৪০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদেহের অধিকারী অফ-স্পিনার ছিলেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    যাদবিন্দ্র সিং

    ১৭ জানুয়ারি, ১৯১৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের পাতিয়ালায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ক্রিকেটপ্রেমী পরিবারে তাঁর জন্ম। ক্রিকেটের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। রঞ্জী ট্রফি প্রদানকারী পিতা পাতিয়ালার মহারাজা ছিলেন। মানবমূখী কর্মকাণ্ডের তুলনায় খেলোয়াড় হিসেবেই নিজেকে চিত্রিত করেছেন। দীর্ঘকায় গড়নের দর্শনীয়…

  • |

    গ্রাহাম শ্যাভলিয়ার

    ৯ মার্চ, ১৯৩৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুম থেকে ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…