| |

দিলাবর হোসেন

১৯ মার্চ, ১৯০৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯২৪-২৫ মৌসুম থেকে ১৯৪০-৪১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ইন্ডিয়া, মুসলিম, নর্দার্ন ইন্ডিয়া ও উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৩৪ থেকে ১৯৩৬ সময়কালে ভারতের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে নিজ দেশে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৫ জানুয়ারি, ১৯৩৪ তারিখে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সি.এস. নায়ড়ু, মোরাপ্পাতাম গোপালনমুশতাক আলী’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দুই নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে ৫৯ ও আঘাতের কারণে চূড়ান্ত ইনিংসে মাঝামাঝি অবস্থানে নেমে ৫৭ রান সংগ্রহ করেন। এরফলে, প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এক টেস্টের উভয় ইনিংসে দুইটি অর্ধ-শতক হাঁকানোর কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।

ব্যাটিং উদ্বোধনে নামার পর এক পর্যায়ে মরিস নিকোলসের শর্ট বলে মাথার পিছন দিকে আঘাত পেলে তাঁকে রিটায়ার হার্ট হতে হয়। দ্বিতীয় দিনের শেষদিকে এ ঘটনা ঘটে। অবশ্য পরদিন তিনি মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে খেলতে নেমেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিং করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

নবি ক্লার্কের বলে বৃদ্ধাঙ্গুলে আঘাত পেয়ে বিদেয় নেন। স্থির চিত্তে অনন্য ক্রীড়াশৈলী উপহার দেন ও ৫৯ রান তুলে ভারতের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। ফলো-অনের কবলে পড়ে ভারত দল। পুণরায় তিনি তাঁর অসম্ভব ধৈর্য্য শক্তির পরিচয় দেন। সাত নম্বরে নেমে প্রতিপক্ষীয় বোলিং রুখে ৫৭ রান তুলেন। এ পর্যায়েও তিনি দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। এরফলে, স্বল্পসংখ্যক খেলোয়াড়দের অন্যতম হিসেবে টেস্ট অভিষেকের উভয় ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের কৃতিত্বের অধিকারী হন।

টেস্টের ন্যায় প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটাও অনেকাংশে একই ধাঁচের ছিল। প্রথম খেলা থেকেই ৬৪ ও ১১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক-পূর্ব শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজ কুমারের নেতৃত্বে ১৯৩৬ সালে ইংল্যান্ডে সফররত ভারত দলের মূল উইকেট-রক্ষকদ্বয় – ডি. ডি. হিন্দেলকর ও কে. আর. মেহেরমজী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দলে যোগদানের জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ১৫ আগস্ট, ১৯৩৬ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৩৫ ও ৫৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এ সফরে দুই শতক সহযোগে ৪৪.২৮ গড়ে ৬২০ রান সংগ্রহ করেন। রক্ষণাত্মক ধাঁচে অসম্ভব ধৈর্য্যশক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেন। সবমিলিয়ে ৬ টেস্ট ইনিংস থেকে ৪২.৩৩ গড়ে ২৫৪ রান সংগ্রহ করেছেন।

কেমব্রিজে অধ্যয়নের ফলে খেলোয়াড়ী জীবনের কয়েক মৌসুমে খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে তাঁকে বিরত থাকতে হয়। সবমিলিয়ে ৫৭টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। চার শতক ও তেরোটি অর্ধ-শতকের সহায়তায় ২৩৯৪ রান তুলেন। এছাড়াও, ১০২টি ডিসমিসালের সাথে স্বীয় নামকে জড়িয়ে রেখেছেন।

জীবনের শেষদিকে ‘প্রফেসর’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। পিএইচডি ও দ্বৈত এমএ ডিগ্রীধারী তিনি। সমগ্র কর্মজীবনে লন্ডনভিত্তিক গভর্নমেন্ট কলেজ ও লাহোরভিত্তিক মুসলিম অ্যাংলো-অরিয়েন্টাল কলেজ – এ দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাকিস্তানের ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের দায়িত্ব পালনসহ টেস্ট দল নির্বাচক ছিলেন। সর্বদাই আমোদপ্রিয় ছিলেন ও নৈশভোজন পরবর্তী বক্তা হিসেবে প্রসিদ্ধি পান।

২৬ আগস্ট, ১৯৬৭ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে ৬০ বছর ১৬০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ওয়াকার আহমেদ ও নাদিম আহমেদ নামীয় সন্তানদ্বয়ের জনক। তন্মধ্যে ওয়াকার আহমেদ ১৯৬৭ সালে ইংল্যান্ডে সফররত পাকিস্তান দলের সদস্য ছিলেন। ওভাল টেস্ট চলাকালীন তাঁর মৃত্যুসংবাদ জ্ঞাত হলে দেশে ফিরে যান।

সম্পৃক্ত পোস্ট