৩১ ডিসেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার নর্দাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ক্রিকেট খেলতে তাঁকে অনেক কাঠখড় পুড়তে হয়েছে। উইকেটের মূল্য সম্পর্কে যথেষ্ট সজাগ ছিলেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এক পর্যায়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৮৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৫০ টেস্ট ও ১১৭টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে নিজ দেশে কপিল দেবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। মার্ভ হিউজ ও ব্রুস রিডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৫ ও ২* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই মৌসুমে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৩ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ১৩ মার্চ, ১৯৮৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৯২ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। খেলায় তিনি ১১৮ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে রিচার্ড হ্যাডলি’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। জন ব্রেসওয়েলের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে নিজ দেশে জেফ ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৮৭ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ২৫ ও ৩১* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ডেভিড বুনের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে গ্রেগ চ্যাপেল, ডেনিস লিলি ও রড মার্শের অবসর গ্রহণের কারণে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণে নিজেকে মেলে ধরতে তৎপর হন। ডেভিড বুনের সাথে ৪৭ ইনিংসে ৪৫ গড়ে ১৯৮০ রান সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে, মার্ক টেলরের উত্থানে ডেভিড বুনকে তিন নম্বর অবস্থানে চলে যেতে হয়। মার্ক টেলরের সাথে ৪১ ইনিংসে ৪৬.৭৭ গড়ে ১৮৭১ রান তুলেন।
১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের অন্যতম সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ৭ অক্টোবর, ১৯৮৮ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ৬৪ ও ৮৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর জোড়া অর্ধ-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে জয় পায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৮৯ সালের অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে অপূর্ব খেলেন। মার্ক টেলরের সাথে উদ্বোধনী জুটিতে ৩২৯ রান তুলেন। নিজে করেন ১৩৮ রান। এ পর্যায়ে প্রথম জুটি হিসেবে ইংল্যান্ডের মাটিতে পুরো দিন অপরাজিত অবস্থায় ছিলেন ও দলকে বিনা উইকেটে ৩০১ রান তুলতে ভূমিকা রাখেন। পরদিন এ সংগ্রহকে তাঁরা ৩২৯ রানে নিয়ে যান। এরফলে, জ্যাক হবস ও উইলফ্রেড রোডসের গড়া ৩২৩ রানের উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড ভেঙ্গে যায়।
১৯৯১-৯২ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জানুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৮ ও ৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ক্রেগ ম্যাকডারমটের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৩৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
শেষদিকের ৩৭ টেস্টে নিয়মিত অধিনায়ক অ্যালান বর্ডারের সহকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ৩৩.১৮ গড়ে ২৮৫৪ রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও, ওডিআইয়ে ৩৯.৯৭ গড়ে ৪৩৫৭ রান তুলেছেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এক পর্যায়ে শ্রীলঙ্কা দলের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। ২০১২ সালে তাঁকে কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। অতঃপর, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে আর্থিক সমঝোতায় পৌঁছেন।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ধাবিত হন। জাতীয় দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শিরোপা বিজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এরফলে, প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ক্রিকেট ও কোচের দায়িত্ব থেকে বিশ্বকাপের শিরোপা বিজয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার শতাব্দীর সেরা দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর দুই সন্তান – শন মার্শ ও মিচেল মার্শ টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করে। ২২ অক্টোবর, ২০১৪ তারিখে দুবাইয়ে দ্বিতীয় সন্তান মিচেল মার্শকে ব্যাগি গ্রীন প্রদান করেন।
