|

জর্জ বিসেট

৫ নভেম্বর, ১৯০৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কিম্বার্লী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে মারকুটে ভঙ্গীমায় ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাশাপাশি চমৎকার ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ১৯২০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দীর্ঘকায় ও লিকলিকে গড়নের অধিকারী ছিলেন। তিনি তাঁর সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বাধিক দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট, ট্রান্সভাল ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২২-২৩ মৌসুম থেকে ১৯২৯-৩০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

আট বছরের অধিক সময় নিয়ে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন গড়ে উঠেছিল। এ পর্যায়ে তিনটি দক্ষিণ আফ্রিকান দলে ও একবার ইংল্যান্ড সফরে যান। সর্বসাকুল্যে মাত্র ২১টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ১৯২২-২৩ মৌসুমে অভিষেকের প্রথম দুই খেলায় অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের বিপক্ষে খেলেন। দ্বিতীয় খেলার প্রথম ইনিংসে ১০ ওভারে ৫/৩৮ পান। পরের বছর বর্ডারের প্রথম ইনিংস থেকে ৬/৮৭ লাভ করে নিজের বোলিংকে আরও সমৃদ্ধ করেন।

এরফলে, ১৯ বছর বয়সে ১৯২৪ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে হার্বি টেলরের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ঠাঁই দেয়া হয়। ব্যক্তিগতভাবে এ সফরে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। শুরুরদিকের খেলাগুলোয় খুবই কম সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। তবে, জুনের শেষদিকে নিজেকে কিছুটা মেলে ধরেন। হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/১০২ পান। তবে, দুই সপ্তাহের মধ্যে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে বোলিংকালে পায়ে চোট পান ও আর খেলেননি। এ সফরে তিনি মাত্র সাত খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

সাড়ে তিন বছর প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে দূরে সড়ে থাকলেও বিস্ময়করভাবে তাঁকে নিজ দেশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা পাঠানো হয়।

১৯২৭-২৮ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ১৯২৭-২৮ মৌসুমে নিজ দেশে রনি স্ট্যানিফোর্থের নেতৃত্বাধীন সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে খেলেছিলেন। যথাসম্ভব নিজেকে মেলে ধরে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে দুই টেস্টে পিছিয়ে পড়েও সিরিজ ড্র করতে অপূর্ব ভূমিকা রাখেন। প্রথম টেস্টে সফরকারীরা খুব সহজে ১০ উইকেটে জয়লাভের পর কেপটাউনে দ্বিতীয় বিভাগ লীগের খেলায় ব্যস্ত জর্জ বিসেটকে দলের বোলিং বিভাগ শক্তিশালীকরণে যুক্ত করা হয়।

৩১ ডিসেম্বর, ১৯২৭ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। আর্চিবল্ড পামের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তাৎক্ষণিকভাবে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে প্রথমবারের মতো টেস্টে পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। প্রথম পাঁচ উইকেটের পতন ঘটান। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও তিন উইকেট পেলেও তাঁকে বেশ রান খরচ করতে হয়েছিল। খেলায় তিনি ৫/৩৭ ও ৩/৯৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩ ও ১১* রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ৮৭ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/৬১ ও ৭/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের কোন ইনিংসেই তাঁকে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ২-২ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৪ নভেম্বর, ১৯৬৫ তারিখে নাটালের বোথাস হিল এলাকায় ৬০ বছর ৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | |

    ইউনুস খান

    ২৯ নভেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের মারদান এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে অংশ নিতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। মারদানে জন্মগ্রহণ করলেও শৈশবেই পাকিস্তানের বন্দর নগরী করাচীতে চলে যান।…

  • |

    ওয়াহাব রিয়াজ

    ২৮ জুন, ১৯৮৫ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ভিকি’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন বামহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার। প্রায়শঃই ভালো-মন্দ নিয়ে খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ফুরফুরে মেজাজে থাকলে তিনি দুর্নিবার, অন্যদিকে, ধারাবাহিকতার অভাবে…

  • |

    বব নিউসন

    ২ ডিসেম্বর, ১৯১০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের সী পয়েন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলিং উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৪৯-৫০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে রোডেশিয়া ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    ড্যারিল টাফি

    ১১ জুন, ১৯৭৮ তারিখে ওতাগোর মিল্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ বোলারের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী তিনি। পর্যাপ্ত পেস ও নিখুঁতভাব বজায় রেখে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, চমৎকার আউট-সুইঙ্গার বোলিং করতে পারতেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম…

  • |

    অ্যান্ডি ব্লিগনট

    ১ আগস্ট, ১৯৭৮ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। আরামপ্রিয় চরিত্রের অধিকারী। নামের প্রথমাংশ আর্নোল্ডাস মৌরিতাস দিয়েই বোঝা যায় যে, আফ্রিকানার কৃষক পরিবারের সন্তান। স্বীয় শক্তিমত্তার সাথে সঙ্গতি রেখে পেস বোলিং রপ্ত করেছেন। ১৯৯৭-৯৮…

  • |

    জিম স্মিথ

    ২৫ আগস্ট, ১৯০৬ তারিখে উইল্টশায়ারের করশ্যাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘বিগ জিম স্মিথ’ ডাকনামে ভূষিত জিম স্মিথ ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ১৯২৬ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত উইল্টশায়ারের…