| |

ডব্লিউজি গ্রেস

১৮ জুলাই, ১৮৪৮ তারিখে ব্রিস্টলের ডাউনএন্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত শৌখিন ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ডের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সন্দেহাতীতভাবেই সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের প্রতীকি খেলোয়াড়ের পরিচিতি লাভ করেছেন। পরিচিতিমূলক দাঁড়ি রাখার পাশাপাশি অসম্ভব ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে ঊনবিংশ ও বিংশ শতকের সূচনালগ্নে অন্যতম ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। ‘ক্রিকেটের জনক’ হিসেবে পরিচিত উইলিয়াম গিলবার্ট গ্রেস ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখিয়ে মাঠে দর্শকদের সমাগমসহ ইংল্যান্ডে ক্রিকেটের প্রসারণে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখেন। এক কথায়, অন্য যে-কোন খেলোয়াড়ের তুলনায় ক্রিকেটকে জনসমক্ষে তুলে ধরতে বিস্ময়কর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

তাঁর সময়কালে খুব স্বল্পসংখ্যক ক্রিকেটারকেই তাঁর সাফল্যের সাথে যুক্ত হতে দেখা যায়। এছাড়াও, স্বল্পসংখ্যক ফিল্ডারকে দক্ষতা প্রদর্শনে এগিয়ে আসতে দেখা যেতো। তরুণ বয়সে অসাধারণ আউটফিল্ডার ছিলেন। সচরাচর পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করতেন। এছাড়াও, নিজের বোলিং থেকে দূর্দান্ত ক্যাচ মুঠোয় পুড়েছেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ধারনা করতে পারতেন যে ব্যাটসম্যান কোথায় বলে আঘাত করবেন। এরফলে, নিজেকে সামলে নিয়ে ক্যাচ নেয়ার জন্যে নিজেকে সঠিক অবস্থানে নিয়ে যেতে দৌঁড়ে যেতেন। ফ্রাঙ্ক ওলি’র পর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন।

প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সম্মুখের পা ও পিছনের পায়ের উপর ভর দিয়ে খেলতেন। এছাড়াও অফ-সাইড ও লেগ-সাইডে সমান দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। ‘দ্য ডক্টর’, ‘ডব্লিউজি’ কিংবা ‘ডক’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। ১৮৬৫ থেকে ১৯০৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, জেন্টলম্যান, লন্ডন কাউন্টি, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব ও ইংল্যান্ড সাউথ দলের পক্ষে খেলেছেন।

প্রায় ১৭৫ বছর পূর্বে তাঁর জন্ম। ইডব্লিউএস সোয়ানটন তাঁর ‘সর্ট অব এ ক্রিকেট পারসন’ শীর্ষক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, খুব সম্ভবতঃ ১৯১০ সালে ফারেস্ট হিল মাঠে ডব্লিউজি গ্রেসের খেলা দেখেছিলেন। মৃত্যুর একশত বছর পরও তিনি ক্রিকেট বিশ্লেষকদের হৃদয়ে গেঁথে আছেন ও নিয়মিত বিরতিতে কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে আসছেন।

ক্রিকেটপ্রেমী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এ পরিবার থেকে ডব্লিউজিসহ এডওয়ার্ড ও ফ্রেড নামীয় তিনজন টেস্ট ক্রিকেটার এবং ডব্লিউজি জুনিয়র, চার্লস, হেনরি, আলফ্রেড ও নরম্যান নামীয় পরবর্তী প্রজন্মের অপর পাঁচজন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন।

চুয়াল্লিশ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১২৪টি শতক সহযোগে ৫৪২১১ রান পেয়েছেন। ১৮৭৬ সালে ১১ থেকে ১৮ আগস্ট তারিখ পর্যন্ত মাত্র আটদিনে উপর্যুপরী তিন ইনিংসে শতক হাঁকিয়ে ৮৩৯ রান সংগ্রহ করে স্বর্ণালী সপ্তাহ অতিবাহিত করেন। এ পর্যায়ে দুইটি ত্রি-শতক হাঁকান। এমসিসি’র পক্ষে ৩৪৪, গ্লুচেস্টারশায়ারের পক্ষে ১৭৭ ও অপরাজিত ৩১৮ রান তুলেন। ঘটনাক্রমে এগুলোই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম দুইটি ত্রি-শতরানের ইনিংস ছিল। তাঁর সাথে কেবলমাত্র আরেকজন ব্যাটসম্যান রয়েছেন। পুরো মৌসুমে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। প্রায় ৪৭ বছর বয়সে ১৮৯৫ সালের মে মাসেই সহস্র রান সংগ্রহ করেছিলেন। ব্যাটিংয়ের তুলনা কেবলমাত্র ডন ব্র্যাডম্যানের সাথে করা গেলেও অন্য কেউ ধারে-কাছেও নেই।

১৮.১৪ গড়ে ২৮০৯টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেন। তন্মধ্যে, ২৪০বার ইনিংসে পাঁচ-উইকেট ও ৬৪বার খেলায় দশ উইকেট পেয়েছেন। খেলায় প্রকৃত বোলার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। রাউন্ড-আর্ম মিডিয়াম-পেস বোলিং করলেও খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে কাট ও সিম আনয়ণের চেয়ে বৈচিত্র্যতাপূর্ণ পেস বোলিং কর্মে অগ্রসর হয়েছিলেন। প্রায়শঃই আলতোভাবে বলকে শূন্যে ভাসিয়ে ব্যাটসম্যানকে বোকা বনে ফেলতেন ও ফিল্ডারের হাতে বলটি চলে যেতো। খুব কম সময়ই খেলার জগৎ থেকে দূরে সড়ে যেতেন। কিন্তু, নিচেরসারির কিংবা অভিজ্ঞতাহীন ব্যাটসম্যানেরা প্রায়শঃই *বলে শিকারে পরিণত হতেন ও দণ্ডায়মান ফিল্ডারের তালুবন্দীতে বিদেয় নিতেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৯.৪৫ গড়ে রান সংগ্রহ আকর্ষণীয় না হলেও ঐ যুগের মানদণ্ডে ব্যাটিং করা অনেকাংশেই স্বপ্নের ন্যায় ছিল। পাঁচ মৌসুমে দুই সহস্রাধিক রান ও আটাশবার সহস্রাধিক রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। প্রায়শঃই লীগে নিকটতম ব্যাটসম্যানের তুলনায় এগিয়ে থাকতেন। বেশ কয়েকবার নিকটতম ব্যাটসম্যানের চেয়ে এক মৌসুমে প্রায় দ্বিগুণ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে ১২৪টি শতক ও ২৫১টি অর্ধ-শতক করেছেন। তন্মধ্যে, ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম টেস্টে অংশ নিয়ে টেস্ট অভিষেকেই ১৫২ রান তুলেছিলেন।

চিকিৎসা পেশায় যুক্ত ছিলেন। সন্দেহাতীতভাবেই ক্রিকেটে সেরা প্রতীকি চিকিৎসকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছেন। শৌখিন ক্রিকেটার হিসেবে খেললেও চিকিৎসক হিসেবে পেশাদারীত্বের পরিচয় দিতেন। পিতা ও অপর ভ্রাতা চিকিৎসক ছিলেন। সর্বত্র ‘দ্য ডক্টর’ নামে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রচারিত হওয়া ‘ডক্টর হু!’ অনুষ্ঠানটি ঐ নাম থেকে আহড়িত হয়েছে। প্রায়শঃই খেলার মাঠে এর প্রয়োগ ঘটাতেন।

একদা তাঁর ভ্রাতা ইএম গ্রেস শবদেহ পরীক্ষক হিসেবে খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বরফ সহযোগে মৃতদেহ নিয়ে অপেক্ষা করেছিলেন। ক্রিজে স্বীয় মেধার বিচ্ছুরণে ব্যস্ত থাকায় অনেকদিন সময় নিয়ে চিকিৎসার প্রশিক্ষণ শেষ করেন। ১৯ বছর বয়সে স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তি হন ও ত্রিশের বয়সে এসে তিন সন্তানের জনকরূপে ওয়েস্টমিনস্টার হাসপাতালে যুক্ত হন। ওল্ড ট্রাফোর্ড মাঠে দূর্ভাগ্যজনকভাবে ফিল্ডার বাউন্ডারি সীমানায় আঘাত পেলে চিকিৎসকের ভূমিকায়ও অবতীর্ণ হতেন।

ঐ সময়ে ক্রিকেট খেলায় একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তবে, বিখ্যাত ক্রিকেট লেখক সিএলআর জেমস ঐ সময়কার ইতিহাস সম্বন্ধীয় আদর্শ গ্রন্থে কেন তাঁকে উল্লেখ করা হয়নি তার কোন কূল-কিনারা খুঁজে পাননি। স্বর্গীয় আশীর্বাদপুষ্ট অবস্থায় ৫০ বছর বয়সেও ইংল্যান্ডের পক্ষে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। ১৮ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের সদস্যরূপে সারের বিপক্ষে ২২৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ঐ খেলার মাঝামাঝি সময়ে খেলা থেকে চলে আসেন ও ক্রিস্টাল প্যালেসে অনুষ্ঠিত সিকি মাইল হার্ডলস চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয় করেন। এতে সন্দেহ হবার অবকাশ ছিল না যে গ্ল্যাডস্টোন ছাড়া তিনি সুপরিচিত ইংরেজ ছিলেন। এভলিন ওয়াহ’র বন্ধু মনসিগনর রনি নক্সের অভিমত যে, গ্ল্যাডস্টোন ও গ্রেস উভয়েই সমমানের তারকা খেলোয়াড় ছিলেন।

কিছু সূত্রে জানা যায় যে, ভিক্টর ট্রাম্পারের ন্যায় তিনি কখনো দর্শনীয়ভাবে বলকে আঘাত করতে পারতেন না। তবে, নান্দনিকতার চেয়ে শক্তিমত্তা প্রয়োগেই সফলতা পেয়েছিলেন।

সামাজিক ইতিহাসবেত্তা এরিক মিডউইন্টার উল্লেখ করেছেন যে, ১৮৭৩-৭৪ মৌসুমে গ্রেসের নেতৃত্বাধীন দলের প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে আয়োজকদের কাছ থেকে £১৫০০ পাউন্ড-স্টার্লিং লাভ করেছেন যা বতর্মানের £১,০০০,০০০ পাউন্ড-স্টার্লিংয়ের অধিক মূল্যমানের সমতুল্য। এ সময়ে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন ও পাশাপাশি মধুচন্দ্রিমাও উদযাপন করেছিলেন। ১৮৯১-৯২ মৌসুমে তাঁর দ্বিতীয় সফরে অস্ট্রেলিয়ায় ১৩জন ইংরেজ ক্রিকেটারের সফরের পুরো খরচের এক-পঞ্চমাংশ নিজের কাছে রেখে দেন। নিয়মিতভাবে সেখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। এমসিসি কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রাপ্ত £১৪৫৮ পাউন্ড-স্টার্লিং লাভ করেন যা তাঁর চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ে হয়তোবা কাজে লাগবে এবং সামগ্রীকভাবে বর্তমান মূল্যমানে £১ মিলিয়ন পাউন্ড-স্টার্লিংয়ের সমপরিমাণ অর্থ পেয়েছেন। ঐ সময়ে তাঁর উপার্জিত আয়ের জন্যে কোন ব্যবসায়িক চুক্তিনামা কিংবা এনডোর্সমেন্ট ছিল না।

এ সকল বিষয়ে তাঁর জড়িয়ে পড়ার পরও সর্বদাই তাঁকে শৌখিন খেলোয়াড় হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। ক্রিকেটের সামনের দিনগুলো পুরোপুরি পেশাদারী পর্যায়ের দিকে চলে যাবার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

১৮৮০ থেকে ১৮৯৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮০ সালে নিজ দেশে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৮০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। অ্যালান স্টিল, এডওয়ার্ড গ্রেস, ফ্রেড মর্লে, ফ্রাঙ্ক পেন, ফ্রেড গ্রেস, আলফ্রেড লিটলটন ও বিলি বার্নসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। জিএফইএমের সাথে একত্রে খেলেন। এরফলে, প্রথম ঘটনা হিসেবে একই টেস্টে তিন ভাইয়ের একত্রে অংশগ্রহণের ঘটনা ঘটে। খেলায় তিনি ১৫২ ও ৯* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২ ও ২/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এরফলে, ইংল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো নিজ দেশে টেস্ট জয়ের সন্ধান পায়। সিরিজের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয়লাভ করে।

১৮৮৪ সালে নিজ দেশে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ আগস্ট, ১৮৮৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঘটনাবহুল এ টেস্টে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে এগারোজন খেলোয়াড়ের প্রত্যেকেই বোলিং করেছিলেন। এ পর্যায়ে তিনি নিয়মিত উইকেট-রক্ষক আলফ্রেড লিটলটন বল হাতে নিলে তিনি উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

১৮৮৬ সালে নিজ দেশে টাপ স্কটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১২ আগস্ট, ১৮৮৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে দলের একমাত্র ইনিংসে ১৭০ রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এ পর্যায়ে পূর্ববর্তী টেস্টে আর্থার শ্রিউসবারি সিনিয়রের সংগৃহীত ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইংরেজ রেকর্ড নিজের করে নেন। ২৭০ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করে ২৪টি চারের মার মারেন। বিদেয়কালীন দলের সংগৃহীত ২১৬ রানের মধ্যে তিনি ১৭০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২১৭ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৮৮৮ সালে নিজ দেশে পার্সি ম্যাকডোনেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৩ আগস্ট, ১৮৮৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১ রান সংগ্রহসহ সমসংখ্যক ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। ইনিংস ও ১৩৭ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনতে সমর্থ হয়।

১৮৯০ সালে নিজ দেশে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২১ জুলাই, ১৮৯০ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ০ ও ৭৫* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ১১ আগস্ট, ১৮৯০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ০ ও ১৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জে.জে. ফেরিসের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। জ্যাক বারেট সহজ রান-আউট করতে ব্যর্থ হলে ওভারথ্রোয়ের কারণে ইংল্যান্ড দল দুই উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৮৯১-৯২ মৌসুমে এমসিসি দলকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৯ জানুয়ারি, ১৮৯২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ২৬ ও ৫ রান সংগ্রহসহ পাঁচটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৮৯৩ সালে নিজ দেশে জ্যাক ব্ল্যাকহামের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ আগস্ট, ১৮৯৩ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৪০ ও ৪৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের তৃতীয় ইনিংসে খেলা রক্ষায় অগ্রসরমান চার্লি টার্নার হাতে আঘাত পান ও আঙ্গুলের জোড়া ছুঁটে যায়। এ অবস্থায় তিনি আঙ্গুলের জোড়া ঠিক করে দেন। পরবর্তীতে, টার্নার শেষ উইকেটে ব্ল্যাকহামের সাথে ৩৬ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়ার সময় ক্ষেপণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

১৮৯৬ সালে নিজ দেশে হ্যারি ট্রটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২২ জুন, ১৮৯৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে তিনি এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৬৬ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

কেবলমাত্র অস্ট্রেলিয়ার বার্ট আয়রনমোঙ্গারের সাথে তিনি পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়স নিয়েও অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৯৯ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ১ জুন, ১৮৯৯ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৩১ ও ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২৮ ও ১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। এটিই ইংল্যান্ডের মাটিতে শুরু হওয়া প্রথম পাঁচ-টেস্টের রাবার ছিল। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। খেলার শেষদিনে তাঁর বয়স ছিল ৫০ বছর ৩২০ দিন। কেবলমাত্র তাঁর তুলনায় ডব্লিউ রোডস অধিক বয়স নিয়ে খেলেছিলেন। ঘটনাক্রমে গ্রেসের শেষ খেলায় রোডসের অভিষেক ঘটেছিল।

১৮৯৬ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। মার্থা গ্রেস নাম্নী এক ক্রিকেটপ্রিয় রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ডব্লিউজি গ্রেস জুনিয়র ও সিবি গ্রেস নামীয় সন্তানের জনক। ২৩ অক্টোবর, ১৯১৫ তারিখে ৬৭ বছর ৯৭ দিন কেন্টের মটিংহাম এলাকায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয় নিজ গৃহে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তিনদিন পর লন্ডনের এলমার্স এন্ড সিমেট্রিতে তাঁকে সমাহিত করা হয়। ৭ ডিসেম্বর, ১৯১৫ তারিখের হিসেব অনুযায়ী £৭২৭৮ পাউন্ড-স্টার্লিং মূল্যমানের সম্পদ রেখে যান। মৃত্যু পরবর্তীকালে ১২ মে, ২০০৯ তারিখে লন্ডনে তাঁর ব্যবহৃত ব্যাট নিলামে তোলা হয়।

Similar Posts

  • | |

    মরিস অলম

    ২৩ মার্চ, ১৯০৬ তারিখে মিডলসেক্সের নর্থউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদেহী ও শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। ১৯২৬ থেকে ১৯৩৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের ইংরেজ কাউন্টি…

  • | | |

    হাবিবুল বাশার

    ১৭ আগস্ট, ১৯৭২ তারিখে কুষ্টিয়া জেলার নাগাকান্দা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-স্পিন বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ‘সুমন’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের…

  • |

    জন ইভান্স

    ১ মে, ১৮৮৯ তারিখে হ্যাম্পশায়ারের নিউটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। উইনচেস্টারে অধ্যয়নের পর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি গল্ফ ও র‍্যাকেট খেলায় সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। ১৯০৮ থেকে প্রথম-শ্রেণীর…

  • | | | |

    গুণ্ডাপ্পা বিশ্বনাথ

    ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে মহীশূরের ভদ্রবাটি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রেফারি। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটক ও মহীশূরের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • | |

    ফ্রেডরিক ফেন

    ২৭ এপ্রিল, ১৮৭৫ তারিখে আয়ারল্যান্ডের কুরা ক্যাম্প এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে ক্রিকেট জগতে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। চার্টারহাউজ স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৮৯২ থেকে ১৮৯৪ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রথম একাদশ দলের পক্ষে ক্রিকেট খেলায় অংশ নিতেন। এরপর,…

  • | |

    সাকলাইন মুশতাক

    ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বিশ্বের সেরা স্পিনারদের অন্যতম ছিলেন। স্পিনের উপর তাঁর অসম্ভব নিয়ন্ত্রণ ছিল। দুসরার জন্যে সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। ব্যাটসম্যানের কাছে…