| | |

অ্যালান স্টিল

২৪ সেপ্টেম্বর, ১৮৫৮ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ওয়েস্ট ডার্বি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

জন্ম সনদে তিনি ‘অ্যালান গিবসন স্টিল’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। মার্লবোরা কলেজে অধ্যয়ন শেষে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। অসাধারণ অল-রাউন্ডার হিসেবে সুনাম কুড়ান। ডব্লিউজি গ্রেস স্বয়ং তাঁকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হিসেবে ঘোষণা করেন। শীর্ণকায় গড়নের অধিকারী হলেও দ্রুত পদ সঞ্চালনায় স্ট্রোকের ফুলঝুড়ি ছোটাতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৭৭ থেকে ১৮৯৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। নিখুঁত মানসম্পন্ন ডানহাতি স্লো বোলার হিসেবে উভয়দিক দিয়েই বলকে স্পিন করাতে পারতেন। ১৮৭৮ সালে নিজের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌসুমে ১৬৪ উইকেট লাভ করেন ও জাতীয় পর্যায়ে বোলিং গড়ে শীর্ষে আরোহণ করেন।

১৮৮০ থেকে ১৮৮৮ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ১৩ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ৩৫ গড় রান ও ২০ গড়ে উইকেট পেয়েছিলেন। ১৮৮০ সালে নিজ দেশে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হন। ৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৮০ তারিখে লন্ডনের ওভালে পনেরোজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৫৮ ও ২/৭৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এরফলে, ইংল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো নিজ দেশে টেস্ট জয়ের সন্ধান পায়। সিরিজের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয়লাভ করে।

১৮৮২-৮৩ মৌসুমে ইভো ব্লাইয়ের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৩৪ ও ৩/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩৫* ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৪ উইকেটে পরাজয়বরণ করলেও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

ক্রিকেটের স্বর্গভূমিতে অনুষ্ঠিত প্রথম খেলায় ও প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। এরফলে, প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে চিত্রিত করেন। ১৮৮৪ সালে প্রথমবারের মতো লর্ডসে অনুষ্ঠিত টেস্টে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৪৮ রান তুলে দলের জয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। স্বাগতিকদের সংগ্রহ ১২০/৪ থাকাকালীন মাঠে নামেন। মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৩০ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করে ১৩টি চারের মারে এ ইনিংস সাজান।

কাউন্টি দলের নিয়মিত অধিনায়কের মর্যাদা না পেলেও মার্লবোরা বনাম রাগবি, কেমব্রিজ বনাম অক্সফোর্ড, জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ার্স, ল্যাঙ্কাশায়ার বনাম ইয়র্কশায়ার ও ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার খেলায় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অধিনায়ক হিসেবে উজ্জ্বীবিত ভূমিকা রাখেন। ১৮৮৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলকে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। ঐ বছর নিজ দেশে টাপ স্কটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৫ জুলাই, ১৮৮৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ ও ১৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২/৪৭ ও ১/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৮৮৮ সালে নিজ দেশে পার্সি ম্যাকডোনেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৬ জুলাই, ১৮৮৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৩ ও ১০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪ ও ০/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৬১ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে মাত্র ৪৭টি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

পেশায় ব্যারিস্টার ছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবন শেষে প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯০২ সালে এমসিসি’র প্রেসিডেন্ট হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এআই স্টিল নামীয় সন্তানের জনক ছিলেন। ১৫ জুন, ১৯১৪ তারিখে লন্ডনের হাইড পার্ক এলাকায় ৫৫ বছর ২৬৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    ক্রেগ উইশার্ট

    ৯ জানুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। শুরুতে অবশ্য মিডিয়াম-পেস বোলিং করেছেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। কার্যকর শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান। দূর্ধর্ষ প্রকৃতির স্ট্রোক মারার অধিকারী। বেশ ঝুঁকি সহকারে মারমুখী ভঙ্গীমায় শট খেলতে অভ্যস্ত। এক পর্যায়ে তিনি নিজের দোষেই উইকেট বিলিয়ে…

  • |

    ইএম গ্রেস

    ২৮ নভেম্বর, ১৮৪১ তারিখে ব্রিস্টলের ডাউনএন্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘দ্য করোনার’ ডাকনামে পরিচিত ই. এম. গ্রেস ১৮৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের সেরা ক্রিকেটারদের অন্যতম হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান ছিলেন। ড. হেনরি মিলস গ্রেস ও…

  • | |

    অমল সিলভা

    ১২ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে মোরাতুয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে মোরাতুয়া স্পোর্টস ক্লাব ও নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট…

  • |

    রেগ পার্কস

    ৪ অক্টোবর, ১৯১১ তারিখে হিয়ারফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকই তাঁকে সর্বাপেক্ষা উপেক্ষিত বোলার হিসেবে চিত্রিত করেছেন। অথচ, ১৯৩০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত ওরচেস্টারশায়ারের প্রধান বোলিং চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। ক্রিকেটপ্রেমী…

  • | | | | |

    শ্রীনিবাসরাঘবন বেঙ্কটরাঘবন

    ২১ এপ্রিল, ১৯৪৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক, রেফারি ও আম্পায়ার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘বেঙ্কট’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয়…

  • |

    অভিনব মুকুন্দ

    ৬ জানুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী। ২০১০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কিশোর অবস্থাতেই তাঁর প্রতিভার স্ফূরণ ঘটে। ২০০৭ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দক্ষিণাঞ্চল ও তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব…