|

টিবি কটার

৩ ডিসেম্বর, ১৮৮৩ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ফিলিপ স্ট্রিট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে মারকুটে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ইংরেজ বংশোদ্ভূত জন হেনরি কটার ও স্কটল্যান্ডীয় মার্গারেট হে দম্পতির কনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন। ছয় বছর বয়সে তাঁর পরিবার গ্লেবে চলে যায়। ফরেস্ট লজ পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। এরপর, ১৮৯৯ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত সিডনি গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯০১-০২ মৌসুম থেকে ১৯১৩-১৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮ বছর বয়সে ১৯০১ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন।

১৯০৪ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০২ সালের অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন।

১৯০৩-০৪ মৌসুমের শেষদিকে নিজ দেশে পেলহাম ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। পিটার ম্যাকালিস্টারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০/৪৪ ও ৩/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৩৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১৫৭ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, এমসিজিতে নিজের দ্বিতীয় ও সিরিজের চূড়ান্ত টেস্ট ৮/৬৫ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া দলের জয়লাভে ভূমিকা রাখেন।

১৯০৫ সালে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরে ২০.১৯ গড়ে ১২১ উইকেট পেয়েছিলেন। তিন টেস্টে অংশ নেন। ১৪ আগস্ট, ১৯০৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭/১৪৮ ও ২/৭৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯০৭-০৮ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম দুই টেস্ট থেকে পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন।

১৯০৯ সালে মন্টি নোবেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরে ২১.৪৭ গড়ে ১৭ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ৯ আগস্ট, ১৯০৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৬/৯৫ ও ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

১৯১০-১১ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও চমৎকার ছন্দ ধরে রেখেছিলেন। তবে, পরের মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার পূর্বে শীর্ষ খেলোয়াড়দের সাথে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ডের মতবিরোধ ঘটে। এরফলে, ছয়জন শীর্ষ খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে ১৯১২ সালের ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ইংল্যান্ড গমন করা থেকে বিরত থাকেন। দৃশ্যতঃ তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটে।

১৯১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯১২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৫ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ২২৫ রানে জয়লাভ করে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ২৮.৬৪ গড়ে ৮৯ উইকেট দখল করেছিলেন। ইনিংসে সাতবার পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, ১৩ ঊর্ধ্ব গড়ে রান সংগ্রহ করেছিলেন। সর্বোচ্চ ৪৫ রান তুলেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলোয় ২৪.২৭ গড়ে ৪৪২ উইকেট পেয়েছেন। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে সন্দেহাতীতভাবে সেরা ফাস্ট বোলার ছিলেন। বাউন্সারকে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে গ্রহণ করে সফলতা পেয়েছেন। থিতু হয়ে আসা জুটি ভেঙ্গে ফেলতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল।

এপ্রিল, ১৯১৫ সালে ৩১ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ান ইম্পেরিয়াল ফোর্সে যোগ দেন। ৩১ অক্টোবর, ১৯১৭ তারিখে ফিলিস্তিনের দুই মাইল দক্ষিণ বীরশেবা এলাকায় মাত্র ৩৩ বছর ৩৩২ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    রবিউল ইসলাম

    ২০ অক্টোবর, ১৯৮৬ তারিখে উপকূলীয় শহর সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০০-এর দশকের পরবর্তী সময়ে স্বল্পসংখ্যক বাংলাদেশী পেস বোলারদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে তাঁর একনিষ্ঠ সুইং বলগুলো অগোচরে ছিল। শুধুমাত্র গণমাধ্যমে কিংবা…

  • |

    আসাদ শফিক

    ২৮ জানুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। টেপ-বল খেলে নিজেকে ক্রিকেট খেলার উপযোগী করে তুলেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে বালুচিস্তান, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড,…

  • |

    জন ম্যাকলারিন

    ২২ ডিসেম্বর, ১৮৮৬ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের টুয়ুং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯০৬-০৭ মৌসুম থেকে ১৯১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র…

  • |

    খোরশেদ মেহেরামজী

    ৯ আগস্ট, ১৯১১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ে অগ্রসর হতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুম থেকে ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বে, পার্সি ও ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • | | |

    বাল দানি

    ২৪ মে, ১৯৩৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের দুধানি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম, ডানহাতে অফ-ব্রেক ও লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। অসাধারণ অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপিত করেছিলেন। ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী হলেও বিশ্বস্ত…

  • | |

    ভরত অরুণ

    ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৬২ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়াবাদা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্ষীপ্র গতিসম্পন্ন মিডিয়াম-পেস বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে কার্যকর মারকুটে ব্যাটিং করতে পারতেন। আশির দশকে বেশ কয়েকজন উদীয়মান খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে…