|

যোগরাজ সিং

২৫ মার্চ, ১৯৫৮ তারিখে চণ্ডীগড়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দীর্ঘদেহের অধিকারী ও শক্ত মজবুত গড়ন নিয়ে ডানহাতে মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন। কপিল দেবের যোগ্য সহচর ছিলেন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে হরিয়াণা ও পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলগুলোর পক্ষে ৩০টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। ২৬.৬০ গড়ে ৬৬ উইকেটের সন্ধান পান। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে স্বর্ণালী মৌসুম অতিবাহিত করেন। ২৩ গড়ে ২১ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, জম্মু ও কাশ্মীরের বিপক্ষে ৯ উইকেট পেয়েছিলেন। প্রাপ্ত ৬৬ উইকেটের ২৩টি পেয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের বিপক্ষে ৯ গড়ে। অপর ৪৩ উইকেট লাভে ৩৬ গড়ে রান খরচ করতে হয়েছিল।

১৯৮০ থেকে ১৯৮১ সময়কালে সব মিলিয়ে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও ছয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলোই খেলেছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ১৯৮০-৮১ মৌসুমে অনেকটা বিস্ময়করভাবে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে তাঁকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে কীর্তি আজাদরবি শাস্ত্রী’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। কিন্তু, তেমন সফলতার সন্ধান পাননি। একমাত্র ইনিংসে বোলিং করার সুযোগ পেয়ে ১/৬৩ লাভ করেন। এছাড়াও, ৪ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জন রাইট তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, সন্দীপ পাতিলের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলায় তাঁর দল ৬২ রানে পরাজিত হয় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। ঐ সফরে সাতটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ করেও তেমন সফলতার সন্ধান পাননি। সব মিলিয়ে ঐ সফরে মাত্র ১৩ উইকেট দখল করেছিলেন।

ওডিআইয়েও তাঁর অংশগ্রহণ তেমন আশাপ্রদ ছিল না। ২১ ডিসেম্বর, ১৯৮০ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। পাঁচবার বোলিংয়ে নেমে ৪৬.৫০ গড়ে মাত্র ৪ উইকেট দখল করেছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে হ্যামিল্টনে সর্বশেষ ওডিআই খেলেন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় দলের সদস্যরূপে এমসিসি দলের বিপক্ষে অংশ নিয়েছিলেন।

আঘাতের কারণে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন শেষ হয়ে যায়। পাঞ্জাবী চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন ও কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে বলিউডেও অংশ নিতেন। তাঁর পুত্র যুবরাজ সিং ভারতের টেস্ট দলে অংশ নিয়েছেন। যুবরাজ সিং জাতীয় পর্যায়ের অনূর্ধ্ব-১৪ রোলার-স্কেটিং চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয় করলে তিনি পদক ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন ও তাঁকে ক্রিকেটে মনোযোগ দেয়ার কথা বলেন। ২৫ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে প্রতিবেশীর সাথে ঝগড়-বিবাদে যুক্ত থাকার অভিযোগে হরিয়াণা পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

কিছুটা রহস্যজনক কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন না খেলার বিষয়ে কপিল দেবকে দায়ী করেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় স্বীয় সন্তান যুবরাজ সিংয়ের বাদ পড়ার বিষয়ে এমএস ধোনি’র দিকে অঙ্গুলী হেলন করেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ম্যাচ রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১২টি প্রথম-শ্রেণী, সমসংখ্যক লিস্ট-এ ও ১৬টি টি২০ খেলা পরিচালনা করেছেন।

Similar Posts

  • |

    একনাথ সোলকার

    ১৮ মার্চ, ১৯৪৮ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘এক্কি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। বোম্বের ক্রিকেটের ভিত্তি গড়ার ক্ষেত্রে তিনি কল্পনাতীত ভূমিকা রেখেছিলেন। কার্যকর বামহাতি ব্যাটসম্যান হলেও বামহাতে মিডিয়াম-পেস বোলিংয়ের…

  • |

    জিম ম্যাককোনন

    ২১ জুন, ১৯২২ তারিখে কো ডারহামের বার্নপফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫০ থেকে ১৯৬১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তুলনামূলকভাবে বেশ দেরীতে ২৮…

  • |

    ফিওন হ্যান্ড

    ১ জুলাই, ১৯৯৮ তারিখে ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী তিনি। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। আর্ডজিলান কমিউনিটি কলেজে অধ্যয়নের পর টানটনের কুইন্স কলেজে পড়াশুনো করেন। ২০১৯ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আইরিশ ক্রিকেটে লিনস্টার লাইটনিংয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৭…

  • |

    আরশাদ খান

    ২২ মার্চ, ১৯৭১ তারিখে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মূখ্যতঃ দুইটি কারণে নিজেকে অফ-স্পিনারের মর্যাদার আসনে নিয়ে যেতে পারেননি। প্রথমতঃ পেশাওয়ার থেকে এসেছেন ও এলাকাটি ফাস্ট বোলারদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত। দ্বিতীয়তঃ অন্যদের…

  • | | |

    এভারটন উইকস

    ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৫ তারিখে বার্বাডোসের পিকউইক গ্যাপ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, রেফারি ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সেন্ট লিওনার্ডস বয়েজ স্কুলে অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে, হোটেল ম্যানেজম্যান্ট বিষয়ে পড়াশুনো করেছেন। তবে,…

  • | |

    জুলফিকার আহমেদ

    ২২ নভেম্বর, ১৯২৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। লখনউ দলের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…