২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৮ তারিখে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণে এগিয়ে আসেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন।
শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী। সময়ের পাশে থেকে সহজাত দক্ষতা নিয়ে খেলায় অগ্রসর হন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতেই শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খাঁটিমানের ব্যাটিং কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছিল। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স, পেশাওয়ার ও জারাই তারাকিয়াতি ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অ্যাবোটাবাদ ফ্যালকন্স, অ্যাবোটাবাদ রাইনোস, নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্স প্যান্থার্স ও পেশাওয়ার প্যান্থার্সের পক্ষে খেলেছেন।
২০০৩ থেকে ২০১০ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ২৫ টেস্ট ও ৫৬টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০ মে, ২০০৩ তারিখে ডাম্বুলায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২০০৩ সালে নিজ দেশে খালেদ মাহমুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। মোহাম্মদ হাফিজ, উমর গুল ও শাব্বির আহমেদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অভিষেকে স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করার পাশাপাশি দুইটি টেস্ট শতক হাঁকিয়ে সদর্প উপস্থিতির কথা ঘোষণা করেন। ২০ আগস্ট, ২০০৩ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে এ সফলতা পেয়েছিলেন। এরফলে, বিখ্যাত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার লরেন্স রো’র পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এ বিরল কৃতিত্ব অর্জনে নিজেকে শামিল করেন। তাঁর জোড়া শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
একদিনের ক্রিকেট জগতেও তাঁর সূচনাপর্বটি বেশ উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। শীর্ষসারিতে ইমরান ফরহাতের সাথে অপূর্ব সমন্বয়পূর্বক জুটি গড়ে প্রভূতঃ সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। নিজ দেশে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁদের এ জুটি উপর্যুপরী চারটি শতরানের সন্ধান পায়। এ প্রতিশ্রুতিশীলতা পরবর্তীতেও ধরে রাখেন। কিন্তু, খেলার শুরুতে বল অপচয়ের বিষয়টি বেশ দুঃশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। ২০-এর কোটা স্পর্শের পরপরই নিজের উইকেট বিলিয়ে দেয়ার প্রবণতা ছিল। প্রায়শঃই অফের বাইরের বলগুলো মোকাবেলায় ব্যর্থ হতে। ফলশ্রুতিতে, ২০০৪ সালের শেষদিকে দল থেকে বাদ পড়েন।
ধারাবাহিকতা না থাকায় তাঁকে দলে রাখতে সহায়তা করেনি। সিডনিতে অনুষ্ঠিত পরের খেলায় দুই অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলা সত্ত্বেও বাদ পড়েন। এরপর থেকে খেলায় ফেরার সুযোগ স্তিমিত হয়ে পড়ে। স্বল্প কয়েকটি ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। এরপর, জুন, ২০০৫ সালের পর থেকে কোন টেস্টে তাঁকে রাখা হয়নি। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ পুণরায় জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ পান।
নভেম্বর, ২০০৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হন। ওডিআই সিরিজে দুই অর্ধ-শতক হাঁকান। ফলশ্রুতিতে, ২০০৭ সালের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে পাকিস্তান দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়। মোহাম্মদ ইউসুফের অনুপস্থিতিতে নিজেকে ঝালাই করার সুযোগ পান। বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান দলের সদস্যের মর্যাদা পাননি। তাসত্ত্বেও, ইউনুস আহমেদের অনুপস্থিতির সুযোগে আবুধাবিতে তিন নম্বর অবস্থানে খেলা নিশ্চিত করেন।
২০১০ সালে সালমান বাটের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৮ আগস্ট, ২০১০ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অংশ নেন। ২ ও ৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অভিষেক ঘটা ওয়াহাব রিয়াজের পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্বের ফলে পাকিস্তান দল খেলায় ৪ উইকেটে জয় পায় ও সিরিজে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ এ নিয়ে আসে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
