|

ইয়াসির আরাফাত

১২ মার্চ, ১৯৮২ তারিখে পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘ইয়াস’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ, পাকিস্তান রিজার্ভস, রাওয়ালপিন্ডি ও রেডকো পাকিস্তান লিমিটেড, ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট, ল্যাঙ্কাশায়ার, সমারসেট, সারে ও সাসেক্স, দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ডলফিন্স এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি ও ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, স্কটল্যান্ড, বরিশাল বার্নার্স ও পার্থ স্কর্চার্সের পক্ষে খেলেছেন।

সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ধাঁচে খেলতেন। নিজস্ব ৩০তম জন্মদিনের পূর্বই ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি টানেন। এরপর থেকেই ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে থিঁতু হবার সুযোগ আসেন। ছয়টি কাউন্টি দলে খেলেন। ২০১৫ সালে হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে টি২০ দলে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।

বলে পেস আনয়ণসহ সুইং করতে পারতেন। প্রায়শঃই খেলার গতিধারাকে পরিবর্তনে সবিশেষ ভূমিকা রাখতে পারতেন। এছাড়াও, নিচেরসারির বিপজ্জ্বনক খেলোয়াড়ে পরিণত হতেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে পাঁচটি শতক হাঁকানোর পাশাপাশি লিস্ট-এ ক্রিকেটেও একটি শতরানের ইনিংস খেলেছেন।

অনেকগুলো বছর পাকিস্তান দলের সম্ভাব্য খেলোয়াড় হিসেবে দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজরে ছিলেন। আব্দুল রাজ্জাক, শহীদ আফ্রিদি এবং এমনকি শোয়েব মালিকের ন্যায় অল-রাউন্ডারদেরকে তাঁর চেয়ে এগিয়ে রাখা হলে দলে খেলার সুযোগ বেশ সীমিত হয়ে পড়ে।

সোজাসাপ্টা, পূর্ণোদ্দ্যমে দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলিংয়ের কল্যাণে ডিসেম্বর, ২০০৫ সালে করাচীতে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের উইকেটপ্রাপ্তি সবিশেষ উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল। এ ধরনের বোলিংয়ের কল্যাণে একই সিরিজের পূর্বে প্রস্তুতিমূলক খেলায় ইংরেজ একাদশের বিপক্ষে নয় উইকেট পেয়েছিলেন।

একই বছরে কায়েদ-ই-আজম ট্রফি প্রতিযোগিতায় পূর্বতন চ্যাম্পিয়ন ফয়সালাবাদের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডির সদস্যরূপে ছয় বল থেকে পাঁচ উইকেট লাভ করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৯৩৭ সালে বিল কপসন, ১৯৩৮ সালে উইলিয়াম হেন্ডারসন ও ১৯৭২ সালে প্যাট পোককের পর চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে অনন্য সাধারণ কীর্তিটির সাথে নিজেকে যুক্ত করার বিরল কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছেন। এছাড়াও, একমাত্র বোলার হিসেবে এ উইকেটগুলো লাভের জন্যে দুই ইনিংসে বোলিং করেছিলেন।

যুক্তরাজ্যে স্কটল্যান্ডের পক্ষে প্রথম ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতাপুষ্ট হন। এরপর, ২০০৬ সালে সাসেক্সের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। প্রথম তিন খেলায় ১৭ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে দুইবার পাঁচ-উইকেট লাভসহ দুইবার অর্ধ-শতরানের সন্ধান পেয়েছেন। ২০০৭ সালে কেন্টের পক্ষে দূর্দান্ত সূচনা করেন। বলের পাশাপাশি ব্যাট হাতে নিয়েও সফলতা পেতে থাকেন। ফলশ্রুতিতে, প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় তাঁকে নিয়ে আসা হয়। কাউন্টি ক্রিকেটে তাঁর এ সফলতায় সাসেক্স, সারে, ল্যাঙ্কাশায়ার, সমারসেট ও হ্যাম্পশায়ার থেকেও একদিনের ক্রিকেট খেলার জন্যে আমন্ত্রণ পেতে থাকেন। বোলিংয়ে বেশ উজ্জ্বীবিত করেন। এছাড়াও, ২০১৩ সালে পার্থ স্কর্চার্স দলেও খেলার সুযোগ পান।

২০০০ থেকে ২০১২ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট, ১১টি ওডিআই ও ১৩টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০০০ তারিখে করাচীতে আয়োজিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

মোহাম্মদ আসিফ ও উমর গুলের আঘাতের কারণে পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে তাঁকে দলে যুক্ত করা হয়। ২০০৭-০৭ মৌসুমে ইউনুস খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। ৮ ডিসেম্বর, ২০০৭ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দূর্দান্ত বোলিংশৈলী প্রদর্শন করে অভিষেক পর্বকে স্মরণীয় করে রাখেন। ৫/১৬১ ও ২/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, সৌরভ গাঙ্গুলী’র অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১ মার্চ, ২০০৯ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। একমাত্র ইনিংসে ১/১০৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, শ্রীলঙ্কা দলের উপর সন্ত্রাসী হামলার কারণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

Similar Posts

  • |

    লাহিরু উদারা

    ২৭ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে কালুবোবিলা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করে থাকেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী লাহিরু উদারা নুগেগোডাভিত্তিক সেন্ট জোন্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব ও…

  • |

    ফ্রেড মার্টিন

    ১২ অক্টোবর, ১৮৬১ তারিখে কেন্টের ডার্টফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘নাটি’ ডাকনামে পরিচিত ফ্রেডরিক মার্টিনকে ‘নাটি মার্টিন’রূপে পরিচিতি ঘটানো হয়েছে। ১৮৮৫ থেকে ১৯০০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি…

  • | |

    মুদাসসর নজর

    ৬ এপ্রিল, ১৯৫৬ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। টেস্টে খাঁটিমানের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ও ওডিআইয়ে দূর্দান্ত অল-রাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অপরিসীম ধৈর্য্য ও ফুরফুরে মেজাজের অধিকারী থেকে খেলায় বিরাট ভূমিকা রেখে গেছেন।…

  • |

    স্টু গিলেস্পি

    ২ মার্চ, ১৯৫৭ তারিখে ওয়াঙ্গানুই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতি মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। এ মৌসুমে ২২.১৭ গড়ে ৪৫ উইকেট নিয়ে নিজস্ব স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। তবে, চার বছর নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে…

  • | |

    অজিঙ্কা রাহানে

    ৬ জুন, ১৯৮৮ তারিখে মহারাষ্ট্রের অশ্বি-কেডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি (১.৬৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। বাবুরাও রাহানে ও সুজাত রাহানে দম্পতির সন্তান। শশাঙ্ক রাহানে…

  • |

    জর্জ ব্রাউন

    ৬ অক্টোবর, ১৮৮৭ তারিখে অক্সফোর্ডের কাউলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। অন্যতম বর্ণাঢ্যময় ক্রিকেটার ছিলেন। বামহাতে আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভূত হতেন। ১৯০৮ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ…