|

যজুবিন্দ্র সিং

১ আগস্ট, ১৯৫২ তারিখে রাজকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত হতে সচেষ্ট ছিলেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে দ্রুত রান সংগ্রহে তৎপরতা দেখাতেন। সৌরাষ্ট্রের জুনাগড় জেলার বিল্খায় রাজপরিবারে তাঁর জন্ম। রাজকোটের খ্যাতনামা রাজকুমার কলেজে অধ্যয়ন করেন। এরপর, দেরাদুনভিত্তিক ওয়েলহাম স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৮১-৮২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে সৌরাষ্ট্র ও মহারাষ্ট্রের পক্ষে খেলেছেন। রঞ্জী ট্রফিতে উভয় দলের সদস্য ছিলেন।

১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সময়কালে ভারতের পক্ষে সব মিলিয়ে মাত্র চার টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। তবে, খেলোয়াড়ী জীবনে দুইটি বিশ্বরেকর্ডের সমকক্ষ হবার কৃতিত্বের অধিকারী হন। এ সময়ে ভারতীয় ক্রিকেটারদের মাঝে ফিল্ডিংয়ের দক্ষতা বহিঃবিশ্ব থেকে বেশ পিছিয়ে ছিল। পূর্বেকার মৌসুমে দারুণ খেলার সুবাদে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে টনি গ্রেগের নেতৃত্বাধীন সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে টেস্ট খেলার জন্যে মনোনীত হন। এ পর্যায়ে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে অসাধারণ ব্যাটিং ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখেছিলেন।

২৮ জানুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে ছয় নম্বর ও দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ নম্বর অবস্থানে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন। এ পর্যায়ে বব উইলিস ও ডেরেক আন্ডারউডের বল মোকাবেলায় হিমশিম খেতে হয়েছিল তাঁকে। ৮ ও ১৫ রান তুলেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ১৫০ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করেছিলেন।

তবে, ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও উইকেটের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করে বিষেন বেদী, ভাগবত চন্দ্রশেখর ও ইরাপল্লী প্রসন্নের বল থেকে ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। প্রথম ইনিংসে কিথ ফ্লেচার, ডেরেক র‍্যান্ডল, টনি গ্রেগ, ডেনিস অ্যামিস ও ডেরেক আন্ডারউডের ক্যাচ মুঠোয় পুড়েন। এরফলে, ৪১ বছর পূর্বে ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে ভিক রিচার্ডসনের গড়া পাঁচ ক্যাচ লাভের রেকর্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত করার গৌরব অর্জন করেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের ১৪০ রানের জয়ে ভূমিকা রাখলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। কর্ষণ ঘাবরী’র বলে ডেনিস অ্যামিস ও ভাগবত চন্দ্রশেখরের বলে কিথ ফ্লেচারের প্রথম দুই ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এরফলে, কয়েক বছর পূর্বে ভিক রিচার্ডসনের নাতি গ্রেগ চ্যাপেলের সংগৃহীত সাত ক্যাচের বিশ্বরেকর্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত করে সবিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী হন। পরবর্তীতে অবশ্য অজিঙ্কা রাহানে উইকেট-রক্ষকবিহীন খেলোয়াড় হিসেবে তাঁদের সাফল্যকে ম্লান করে দেন।

তবে, বাদ-বাকী তিন টেস্টে খুব কমই সফল হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ড সফরে যান। সিরিজের শেষ টেস্টে কঠিন মুহূর্ত অতিক্রম করেন। ওভালের নাটকীয় টেস্টে নিজের সর্বোচ্চ রান করেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। কিন্তু, চূড়ান্ত দিনে অসম্ভব বিজয়ের দিকে ধাবমান ভারতীয় দলে থেকে তাঁর এ রান কাজে লাগেনি।

১৯৭৯-৮০ মৌসুমে নিজ দেশে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হয়েছেন। ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়া বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ০/২৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। এছাড়াও, ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজ অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হন।

ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে তিনি মেলে ধরতে পারেননি। ২০-এর অধিক গড়ে রান সংগ্রহ করেছিলেন। তুলনান্তে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে অধিকতর সফল ছিলেন। ৭৮ খেলা থেকে ৯ শতক সহযোগে ৪২ গড়ে রান তুললেও আর তাঁকে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে খেলতে দেখা যায়নি।

২৭ বছরের অধিক সময় মহিন্দ্র এন্ড মহিন্দ্রে চাকুরী করেন। এছাড়াও, দলটির পক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক ক্রিকেটে অংশ নেন। স্বল্পসংখ্যক ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে উইজডেন ইন্ডিয়ায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিন বছর কাজ করেন। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসে পরামর্শক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। মুম্বইয়ের ওরলি’র স্পোর্টসফিল্ড বিল্ডিংয়ে বসবাস করছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট