১৩ সেপ্টেম্বর, ১৮৬৩ তারিখে ইয়র্কশায়ারের শেফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে স্লো বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ইয়র্কশায়ারের পক্ষে কয়েকটি খেলায় অংশগ্রহণকারী উইলিয়াম কাটেলের সন্তান ছিলেন। আঁটোসাঁটো নিখুঁতমানের বোলিংয়ের পাশাপাশি উভয় দিক দিয়েই বলকে বাঁক খাওয়ানোয় দক্ষতা প্রদর্শনের কারণে দলের অপরিহার্য্য খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে চিত্রিত করেন। অল-রাউন্ড গুণাবলীর সাথে দূর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি পরিস্থিতিমাফিক রক্ষণাত্মক ব্যাটিং কিংবা আক্রমণাত্মক ধাঁচ অবলম্বনের কারণে তাঁকে আরো মহীয়ান করে তুলে।
১৮৯৬ থেকে ১৯০৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার ও ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করতেন। উইলিস কাটেল ইয়র্কশায়ারের পক্ষে দুই খেলায় অংশ নেয়ার পাশাপাশি ল্যাঙ্কাশায়ারের লীগ ক্রিকেটে যুক্ত হয়ে পড়েন। এরফলে, আবাসকালীন যোগ্যতা লাভের প্রেক্ষিতে ১৮৯৬ থেকে ১৯০৬ সাল পর্যন্ত ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলেন। এসি ম্যাকলারেনের অধিনায়কত্বে খেলে নিজের বিচ্ছুরণ ঘটান। ১৮৯৮ সালে প্রথম ল্যাঙ্কাশায়ারীয় খেলোয়াড় হিসেবে ‘ডাবল’ লাভের গৌরব অর্জন করেন।
১৮৯৯ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন। এ সিরিজে বল হাতে বেশ ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হয়েছিলেন। ১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ক্লেম উইলসন, ফ্রাঙ্ক মিচেল, ফ্রাঙ্ক মিলিগান, জ্যাক বোর্ড, জনি টিল্ডসলে, পেলহাম ওয়ার্নার ও শোফিল্ড হেইয়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৯ ও ২১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৪২ ও ৩/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৩২ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১ এপ্রিল, ১৮৯৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৭ ও ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ২১০ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৮৯৮ উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। রাগবিতে ২০ বছর কোচের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর, দুই মৌসুম প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন।
৯ ডিসেম্বর, ১৯২৯ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের নেলসন এলাকায় ৬৬ বছর ৮৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
