১২ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কিম্বার্লী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্ট্রোকপ্লে খেলে দর্শকদের মনোরঞ্জন করতেন। তবে, দূর্ভাগ্যজনকভাবে শুরুটা বেশ ভালো করলেও প্রকৃতপক্ষে বড় ধরনের ইনিংসের সন্ধান পাননি। মিডিয়াম পেস বোলিং করলেও মাঝে-মধ্যে দলের প্রয়োজনে করতেন। ফিল্ডার হিসেবে দারুণ ভূমিকা পালন করলেও তেমন দৌঁড়ুতেন না। ১৮৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ১৯০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৮৯৯ থেকে ১৯০৭ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোর কোনটিতেই অর্ধ-শতক হাঁকাতে পারেননি। ১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ এপ্রিল, ১৮৯৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। আলবার্ট পাওয়েল, চার্লস প্রিন্স ও ফ্রেডরিক কাইজের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৯ ও ৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে শেফিল্ড হেইয়ের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ২১০ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯০২-০৩ মৌসুমে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৮ অক্টোবর, ১৯০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৯ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৪২ ও ৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ১৫৯ রানে জয়লাভ করে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯০৪ ও ১৯০৭ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৯০৪ সালের ইংল্যান্ড সফরে অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ২৭ গড়ে ৮৪২ রান তুলেন। এ সফরে ৮১ রানে সর্বোচ্চ ইনিংস উপহার দেন। ১৯০৭ সালে পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরে ব্যাট হাতে বেশ কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলেন। হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে ১০৮ রানের ইনিংস খেলেন। পুরো সফরে ২২ খেলায় অংশ নিয়ে ২২-এর কম গড়ে ৭৪৭ রানের সন্ধান পান ও তালিকায় ষষ্ঠ সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। এ সফরে তিন টেস্টে অংশ নেন। তন্মধ্যে, ১৯ আগস্ট, ১৯০৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে ৩১ ও ২৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
স্বল্পসংখ্যক দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটারদের অন্যতম হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে সীমিত অংশগ্রহণ করলেও ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে বেশ যাদুকরী প্রভাব ফেলেছিলেন। উল্লেখযোগ্য সময় লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে চলে আসার পর সেনাবাহিনীতে যুক্ত ছিলেন। কিম্বার্লী অবরোধে কিম্বার্লী টাউন গার্ডের সদস্য ছিলেন। সাহসী ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ কুইন্স সাউথ আফ্রিকা স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। পরবর্তীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন। ১৮ মার্চ, ১৯১৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের ক্রাডক এলাকায় মাত্র ৩৭ বছর ৩৪ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
