|

উইলিয়াম স্কটন

১৫ জানুয়ারি, ১৮৫৬ তারিখে নটিংহামের মাউন্ট স্ট্রিট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

তাঁর জন্মসনদে পিতার নাম স্কটর্ন নামে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে, ধারনা করা হয় যে – এটি ভুল ছিল। নটিংহামের পিপলস কলেজে পড়াশুনো করেছেন। মিডো উইলো সিসি’র পক্ষে ক্রিকেট খেলেছেন। ১৮৭৪ সালে সাউথ ডার্বিশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো পেশাদারী পর্যায়ে যুক্ত হন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৭৫ থেকে ১৮৯১ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দলের ১৪১তম খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হন। ১৮৮০ থেকে ১৮৮৬ সময়কালে জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ার্সের মধ্যকার ছয়টি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। একটি বাদে কোনটিতেই দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি।

১৮৮১ থেকে ১৮৮৭ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে ১৫ টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ায় ইংল্যান্ডের সফরকারী দলে সর্বনিম্নসংখ্যক খেলোয়াড় রাখা হলেও এবং তেমন সফল না হলেও ১৮৮১-৮২, ১৮৮৪-৮৫ ও ১৮৮৬-৮৭ মৌসুমের তিন সিরিজের প্রত্যেকটিতেই অংশ নিয়েছিলেন।

১৮৮১ থেকে ১৮৯৩ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ২৩ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৮১-৮২ মৌসুমে আলফ্রেড শ’য়ের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৩১ ডিসেম্বর, ১৮৮১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আর্থার শ্রিউসবারি, টেড পিট, ডিক পিলিং, ডিক বার্লো ও বিলি বেটসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২১ ও ৫০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৭১ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ফুটবল ও ক্রিকেট – উভয় খেলাতেই পারদর্শী ছিলেন। তবে, ক্রিকেটকেই পরবর্তীতে বেঁছে নেন। ফুটবলার হিসেবে খ্যাতিলাভ করেছিলেন। এফ.এ. কাপের খেলায় অংশ না নিলেও নটস কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। পিজিওন শটে বেশ দক্ষ ছিলেন। ১৮৭৯ সালে বিস্টোনের বোট ইন ও ১৮৮৬ সালে লং রো’র ক্রাউন ইন এলাকায় খামার ক্রয় করেন। তবে, পরের বছরই ওয়েস্ট ব্রিজফোর্ডে চলে যান। ৯ জুলাই, ১৮৯৩ তারিখে লন্ডনের সেন্ট জোন্স উড এলাকায় মাত্র ৩৭ বছর ১৭৫ দিন বয়সে আত্মহত্যা করেন। তাঁকে নটিংহামের জেনারেল সিমেট্রিতে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর পূর্বে বেশ বিপর্যস্ত অবস্থায় দিনাতিপাত করেছেন। এক পর্যায়ে নটস একাদশের বাইরে তাঁকে রাখা হয়েছিল ও বিষয়টি তাঁর মনে বেশ রেখাপাত করেছিল। তাঁর কাকাতো ভাই জর্জ হাউইট নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে খেলেছেন।

Similar Posts

  • |

    মাসুদ আনোয়ার

    ১২ ডিসেম্বর, ১৯৬৭ তারিখে পাঞ্জাবের খানেওয়াল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে ফয়সালাবাদ, লাহোর, মুলতান,…

  • | |

    মোহাম্মদ আশরাফুল

    ৭ জুলাই, ১৯৮৪ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক কিংবা লেগ-বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে ধারাবাহিকতাহীন খেলা তাঁর নিত্য সঙ্গী ছিল। তাসত্ত্বেও যদি খেলোয়াড়ী জীবনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর দিকে আলোকপাত করা হয়, তাহলে…

  • |

    জাভেদ ওমর

    ২৫ নভেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘গুল্লা’ ডাকনামে পরিচিত জাভেদ ওমর বেলিম কখনোবা ‘ওমর বেলিম’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    রজার হ্যারিস

    ২৭ জুলাই, ১৯৩৩ তারিখে অকল্যান্ডের ওটাহুহু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। টেস্টের সাথে তুলনান্তে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অধিক সফল ছিলেন। ৩৮৬৩ রান সংগ্রহ করেছেন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে…

  • | |

    ডোনাল্ড নাইট

    ১২ মে, ১৮৯৪ তারিখে সারের সাটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত শৌখিন ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ম্যালভার্নে অধ্যয়ন করেছেন। বিদ্যালয় জীবনেই তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৯০৯ থেকে ১৯১৩ সময়কালে পাঁচ বছর বিদ্যালয় একাদশে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এ…

  • |

    ক্ল্যারি গ্রিমেট

    ২৫ ডিসেম্বর, ১৮৯১ তারিখে ডুনেডিনের ক্যাভারশাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী নিউজিল্যান্ডীয় বংশোদ্ভূত বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। রিচার্ড জেমস গ্রিমেট ও মেরি দম্পতির সন্তান ছিলেন। এক পর্যায়ে পরিবারটি ওয়েলিংটনে চলে যায়। সেখানকার মাউন্ট কুক বয়েজ স্কুলে…