১১  সেপ্টেম্বর, ১৮৪৯ তারিখে কেন্টের মেইডস্টোন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

আট বছর বয়সে ইংল্যান্ড ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসেন। কেবলমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ২৭ বছরের পূর্ব পর্যন্ত ক্রিকেটের প্রতি তেমন আকৃষ্টবোধ করেননি। খুব দ্রুত ধীরগতিসম্পন্ন লেগ-ব্রেক বোলার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপিত করতে সমর্থ হন।

১৮৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৮৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এক পর্যায়ে ভিক্টোরিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

১৮৮১ থেকে ১৮৮৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৮৮১-৮২ মৌসুমে নিজ দেশে আলফ্রেড শ’য়ের নেতৃত্বাধীন দলের মুখোমুখি হন। ৩১ ডিসেম্বর, ১৮৮১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হিউ ম্যাসি, এডউইন ইভান্স ও জর্জ গিফেনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দূর্দান্ত বোলিং করে অভিষেক পর্বকে স্মরণীয় করে রাখেন। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক টেস্টে নয় উইকেট দখল করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৮০ ও ৬/১২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৮৮৪ সালে ডব্লিউ. এল. মারডকের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। তবে, এ সফরে কোন টেস্ট খেলেননি। এরপর, ১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১২ ডিসেম্বর, ১৮৮৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০* ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এরপর, তিনি আর তেমন খেলেননি। ১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে আসা আলফ্রেড শ’য়ের নেতৃত্বাধীন দলের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ইস্ট মেলবোর্নের সদস্যরূপে ২/৭০ লাভ করেন। তবে, খেলাটি প্রথম-শ্রেণীর গণ্য হয়নি। এক সপ্তাহের মধ্যেই সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। অস্ট্রেলীয় ও ইংরেজদের মিশেলে গড়া অধূমপায়ী দলের সদস্যরূপে ধূমপায়ী দলের বিপক্ষে খেলেন। প্রত্যেককে তাক লাগিয়ে ব্যক্তিগত সেরা ৪৬ রান তুলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের প্রশাসনের দিকে ধাবিত হন। ১৮৮১ থেকে ১৮৮৩ ও ১৮৮৭ থেকে ১৮৮৯ সাল পর্যন্ত ভিক্টোরিয়া দলের একক দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে, ভিক্টোরিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সহঃসভাপতি হিসেবে মনোনীত হন।

৫ এপ্রিল, ১৯৩৯ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ম্যালভার্ন এলাকায় ৮৯ বছর ২০৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন অস্ট্রেলিয়ার বয়োজ্যেষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটার ছিলেন। বেইন অ্যাটউড কর্তৃক ‘উইলিয়াম কুপার: অ্যান এবোরিজিনাল লাইফ স্টোরি’ শীর্ষক আত্মজীবনী প্রকাশিত হয়। তাঁর গ্রেট-গ্র্যান্ডসন পল শিহান টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছে।

সম্পৃক্ত পোস্ট