|

উইলিয়াম ব্রুস

২২ মে, ১৮৬৪ তারিখে ভিক্টোরিয়ার সাউথ ইয়ারা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সাউথ ইয়ারা এলাকায় জন্মগ্রহণ করলেও শৈশবকাল ক্রোমওয়েল স্ট্রিটে অতিবাহিত করেছেন। স্কচ কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ১৮৮০ ও ১৮৮১ সালে বিদ্যালয়ের প্রথম একাদশের সদস্য ছিলেন। আকর্ষণীয় বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে পুরো খেলোয়াড়ী জীবনেই বিনোদনপ্রিয় ছিলেন। তরবারী নিয়ে খেলতে ভালোবাসতেন ও অতঃপর মৃত্যুমুখে পতিত হতেন। এছাড়াও, প্রধান সিমারদের সহযোগিতা করতেন।

১৮৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮২-৮৩ মৌসুমে ভিক্টোরিয়ার সদস্যরূপে ইভো ব্লাইয়ের নেতৃত্বাধীন একাদশের বিপক্ষে অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ১৮ বছর বয়সী উইলিয়াম ব্রুস ২ ও ৪০ রান তুলেছিলেন।

১৮৮৫ থেকে ১৮৯৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৪টি টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন দলের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৮৮৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অ্যাফি জার্ভিস, আলফ্রেড মার, হ্যারি মাসগ্রোভ, জ্যাক ওরেল, জন ট্রাম্বল, রোল্যান্ড পোপ, ডিগার রবার্টসনস্যাম মরিসসহ নয়জন অস্ট্রেলীয় টেস্ট অভিষেকধারীর অন্যতম ছিলেন। প্রথম ইনিংসে তিনি ৩/৮৮ লাভ করেন। দশ নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে এক ছক্কার মারে দলের সর্বোচ্চ ৪৫ রান তুলেন। ঐ খেলায় ইংল্যান্ড দল ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। 

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে ইংল্যান্ড সফর করেন। তাৎক্ষণিকভাবে দারুণ খেলতে থাকেন। দর্শনীয় স্ট্রোকপ্লে খেললেও কিছু সীমাবদ্ধতার কবলে পড়েন। বিশেষতঃ বল মোকাবেলায় রক্ষণাত্মক ভঙ্গীমা প্রদর্শন করতে পারতেন না।

১৮৯৩ সালে দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ড্রু স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৫ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৪৭ রান জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় আসতে সমর্থ হয়।

এরপর, ১ মার্চ, ১৮৯৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২২ ও ১১ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে ববি পিলের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭ ও ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৬ উইকেটে জয়লাভ করে সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ২৯.২৫ গড়ে ৭০২ রান তুলেন। এছাড়াও, ১২ উইকেট দখল করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে চার শতক সহযোগে ২৩.৯৭ গড়ে ৫৭৩১ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ২৯.৬৭ গড়ে ১৪৩ উইকেট দখল করেছেন। তন্মধ্যে, পাঁচবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন।

ক্রিকেটের বাইরে বেশ মদ্যপান করতেন। ক্রিকেটের বাইরে আইনজীবী ছিলেন। এছাড়াও, কিছুটা মানসিকভাবে উদভ্রান্ত ছিলেন। ৩ আগস্ট, ১৯২৫ তারিখে ভিক্টোরিয়ার এলউড এলাকায় সাগরে ডুবে ৬১ বছর ৭৩ দিন বয়সে তিনি আত্মহত্যা করেন।

Similar Posts

  • |

    ডেন ভিলাস

    ১০ জুন, ১৯৮৫ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেন। ২০১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ভিলি’ ডাকনামে ভূষিত ডেন ভিলাস ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। সপ্তম রাজা এডওয়ার্ড প্রিপাইরেটরিতে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর, রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড স্কুলে পড়াশুনো করেন। প্রতিভাবান উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে…

  • |

    জন কোচরান

    ১৫ জুলাই, ১৯০৯ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘকায় ও মজবুত গড়নের ফাস্ট বোলার ছিলেন। উভয় দিক দিয়েই বল ফেলতে পারতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান…

  • | |

    গ্যারি ট্রুপ

    ৩ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে ওয়াঙ্গানুইয়ের তৌমারুনুই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে অগ্রসর হতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। উদ্বোধনী বোলার হিসেবে ১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে রিচার্ড হ্যাডলি’র সাথে নতুন বল নিয়ে বোলিং আক্রমণ কার্য পরিচালনা করতেন। বলে পেস না থাকলেও ক্রমাগত…

  • | |

    অমল সিলভা

    ১২ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে মোরাতুয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে মোরাতুয়া স্পোর্টস ক্লাব ও নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট…

  • |

    হ্যারল্ড বামগার্টনার

    ১৭ নভেম্বর, ১৮৮৩ তারিখে ইংল্যান্ডের হেনলে-অন-টেমস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৩-০৪ মৌসুম থেকে ১৯১৩-১৪ মৌসুম পর্যন্ত…

  • | | |

    শোফিল্ড হেই

    ১৯ মার্চ, ১৮৭১ তারিখে ইয়র্কশায়ারের বেরি ব্রো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলীয় সঙ্গীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন ও ‘ইয়র্কশায়ার একাদশের…