২৭ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মাতাবেলেল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৮ ঊর্ধ্ব গড়ে রান সংগ্রহসহ ১০৮টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন। ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৪ সালে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত লোগান কাপে ম্যাশোনাল্যান্ডের বিপক্ষে মাতাবেলেল্যান্ডের সদস্যরূপে নিজস্ব প্রথম ও পরবর্তীতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এপ্রিল, ১৯৯৪ সালে বুলাওয়েতে সফররত ওরচেস্টারশায়ার দলের বিপক্ষে মাতাবেলেল্যান্ড আমন্ত্রিত একাদশের অধিনায়কত্ব করেন। ৯৬ রানে বিদেয় নেন।
১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ১০৭ ও ১২৭ রান তুলেছিলেন। সেপ্টেম্বর, ১৯৯৪ সালে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় রিচার্ড স্নেল, হেনরি উইলিয়ামস, নীল জনসন, ডেভ কালাহান, নিকি বোয়ে ও শফিক আব্রাহামসের বল মোকাবেলা করে সফলকাম হয়েছিলেন।
১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় দলের অধিনায়কত্ব করেন। এপ্রিল, ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ম্যাশোনাল্যান্ড কান্ট্রি ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে সাত ক্যাচ ও দুই স্ট্যাম্পিংসহ সর্বমোট ৯টি ডিসমিসাল ঘটিয়ে বিশ্বরেকর্ডের সাথে যৌথভাবে স্বীয় নামকে যুক্ত করেন। পরবর্তীতে, দ্বিতীয় ইনিংসে আরও চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করে খেলায় সর্বমোট ১৩টি ডিসমিসাল ঘটিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন। পরবর্তীতে, নভেম্বর, ২০১১ সালে আসামের বিপক্ষে হায়দ্রাবাদের ইব্রাহিম খলিল ১১টি কট ও ৩টি স্ট্যাম্পিংসহ মোট ১৪টি ডিসমিসাল ঘটিয়ে তাঁর এ রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলেন। তবে, একটি খেলায় ১১টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করার রেকর্ডটি অক্ষত আছে।
এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১৮৫ বলে ৯৯ ও দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও ৯৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। কেবলমাত্র অময় খুরাশিয়া প্রথম-শ্রেণীর খেলায় উভয় ইনিংসে দুইটি ৯৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। তন্মধ্যে, দলের অপর কেউই ৪০-এর কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। ১৭৪ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে ১৫/৪ থাকা অবস্থায় মাঠে নেমে ৬ উইকেটে দলকে জয় এনে দিলেও মনক্ষুণ্ন হৃদয়ে অপরাজিত ৯৯ রান করে মাঠ ত্যাগ করেন। সর্বোপরি এপ্রিল, ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় দলের জয়সূচক রানটি ডোনাল্ড ক্যাম্পবেলের চারটি বাই রানের মাধ্যমে আসে।
১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও ১১টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে নিউ প্লাইমাউথে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। এছাড়াও, নিউ সাউথ ওয়েলসের অ্যালবারিতে অনুষ্ঠিত নিম্নমূখী রানের খেলায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের বিজয়ের ন্যায় সেরা অঘটনের নেপথ্যে অবস্থান করে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। খেলায় মাত্র ১৩ রান তুলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। গ্রুপ পর্বের ঐ খেলায় দল মাত্র ১৩৪ রানে গুটিয়ে গেলেও ৯ রানের নাটকীয় জয় তুলে নেয়।
১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের নেতৃত্বে জিম্বাবুয়ে দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে একমাত্র ইনিংসে ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ডেভিড ব্রেইনের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কারণে খেলাটি ড্র হয়। স্বাগতিক দল ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৬ অক্টোবর, ১৯৯৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দুই ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। একমাত্র ইনিংসে ২ রান তুলেন। ঐ খেলাসহ সিরিজটি ০-০ ড্রয়ের দিকে গড়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ধ্রুপদীশৈলীর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ও চমৎকার ফিল্ডার ছিলেন। নিয়মিতভাবে উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালন করতেন। টেস্টগুলোর সবকটিতেই উইকেট-রক্ষকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তবে, এ সময়ে দলে তেমন কোন প্রভাব ফেলতে পারেননি। উদীয়মান অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে যুক্ত হলে বাইরে চলে যেতে হয়।
দূর্ভাগ্যজনকভাবে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের ন্যায় বিখ্যাত খেলোয়াড়ের সাথে তাঁকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল। এরফলে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাত্র পনেরোটি খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। এক পর্যায়ে ব্যাটিংয়ে নামলে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার উইকেট-রক্ষণের দায়িত্বে থাকতেন। অন্যান্য খেলায় তাঁদের দায়িত্ব অদল-বদল হতো।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২০১১ সালে জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হন। তবে, তিন বছর পর এপ্রিল, ২০১৪ সালে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এরপর, মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্সের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। বি জেমস নামীয় সন্তানের জনক।
