ওয়াল্টার ব্রিয়ার্লি

১১ মার্চ, ১৮৭৬ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের বোল্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ডার্বিশায়ারভিত্তিক টাইডসওয়েল গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। দর্শকদের কাছে নিজের পরিচিতি ঘটাতে বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়। বিদ্যালয়ের শুরুরদিকের দিনগুলোয় ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলতেন। ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এ. সি. ফক্স মন্তব্য করেন যে, ক্রিকেট তাঁর প্রথম পছন্দের ছিল। বিদ্যালয় থেকে সোজা ব্যবসায় জগতে প্রবেশ করতেন। তবে, বোলিংয়ের জন্যে ঠিকই সময় বের করে নিতেন।

ফার্নওয়ার্থ পারিশ চার্চের প্রথম ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেন। স্থানীয় প্রতিযোগিতাগুলোয় ব্যাপক সফলতা লাভ করায় প্রথম একাদশে রয়ে যান। এক মৌসুম ফার্নওয়ার্থের স্থানীয় ক্লাবে খেলেন। তবে, এ পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য তেমন ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেননি। তবে, বোল্টন ক্লাবে যুক্ত হবার পর নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। তিন মৌসুম বোলিং করে বেশ সফল হন। এক গ্রীষ্ম বারির পক্ষে খেলার পর ল্যাঙ্কাশায়ার কাউন্টি ক্লাবের সাথে যুক্ত ম্যানচেস্টার ক্লাবে যোগ দেন। ল্যাঙ্কাশায়ারের দ্বিতীয় একাদশে খেলার জন্যে যাচাই-বাছাইয়ে অংশ নেন।

১৯০২ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। ১৯০২ সালে প্রথম কাউন্টি খেলায় অংশ নেন। ব্রাইটনে সাসেক্সের বিপক্ষে খেলেন। খুব কমই সফলতা পাবার ফলে কাউন্টি দল থেকে বাদ পড়েন। তবে, পরবর্তী বছরের মে মাসে নিজেকে পুণরুজ্জ্বীবিত করেন। খেলায় ছন্দ আনার পর তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে, বসন্তের শেষদিকে ঝগড়ায় লিপ্ত হলে ল্যাঙ্কাশায়ারের সাথে তাঁকে সম্পর্কচ্ছেদের হুমকি হজম করতে হয়। শেষ গ্রীষ্মে দারুণ ছন্দে আরোহন করেন।

১৯০৫ থেকে ১৯১২ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯০৫ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুলাই, ১৯০৫ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। রেজি স্পুনারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দলের একমাত্র ইনিংসে মন্টি নোবেলের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৭২ ও ৪/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৮০ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১৪ আগস্ট, ১৯০৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/১১০ ও ১/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯০৯ সালে নিজ দেশে মন্টি নোবেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১ জুলাই, ১৯০৯ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, হিয়ারফোর্ডের প্রথম টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৪২ ও ১/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৬ ও ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১২৬ রানে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯১২ সালে নিজ দেশে ফ্রাঙ্ক মিচেলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১০ জুন, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে সিড পেগলারের বলে বিদেয় নেন। এছাড়াও, ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৬২ রানে জয় পায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯০৯ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। মিডলসেক্স হাসপাতালে অস্ত্রোপচার শেষে ৩০ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে লন্ডনের মেরিলেবোন এলাকায় ৬০ বছর ৩২৫ দিন বয়সে চিকিৎসা পরবর্তী সময়কালে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *