| |

ওয়ালি হার্ডিঞ্জ

২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৬ তারিখে লন্ডনের গ্রীনউইচ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, ফুটবলার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০২ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। কেন্টের ৬৪তম ক্যাপধারী খেলোয়াড় ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন রয়্যাল নেভিতে (এয়ার ফোর্স) চিফ পেটি অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। যুদ্ধকালীন ৭০বার ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন।

১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের বিপক্ষে বিধ্বস্ত সিরিজে অংশ নেন। ২ জুলাই, ১৯২১ তারিখে লিডসে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। অ্যান্ডি ডুকাট, জর্জ ব্রাউন ও জ্যাক হোয়াইটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মাত্র ২৫ ও ৫ রান তুলতে পেরেছেন। ২১৯ রানে পরাভূত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ইংল্যান্ডের পক্ষে ক্রিকেট ও ফুটবল – উভয় খেলায় অংশগ্রহণকারী মাত্র ১২জন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেন। জুন, ১৯১৩ সালে আর্সেনালের পক্ষে ইন-সাইড ফরোয়ার্ড এলাকায় অবস্থান করতেন। শেফিল্ড ইউনাইটেডের পক্ষে খেলাকালীন জাতীয় দলের পক্ষে ইতিমধ্যে খেলেছেন। ৫৫ খেলা থেকে ১৪ গোল করেন। সেপ্টেম্বর, ১৯১৩ সালে হাইবারিতে আর্সেনালের প্রথম খেলায় লিচেস্টার ফসির বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের মাধ্যমে খেলা শুরু করেন।

যুদ্ধের পর আর্সেনালের পক্ষে লীগ ফুটবলে অংশ নেন। প্রথম বিভাগে ক্লাবটির পক্ষে তেরোবার খেলেন। এছাড়াও, ১৯২০ থেকে ১৯২৩ সময়কালে কেন্টের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছিলেন।

১৯১৫ সালে উইজডেন অ্যালমেনাক কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। এতে উল্লেখ করা হয় যে, ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর প্রায় সকল ধরনের গুণাবলী থাকলে মানসম্পন্ন ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে তাঁকে মেলে ধরতে দেখা যায়নি। এ সমালোচনার বিষয়টি পুরো খেলোয়াড়ী জীবনের বিরাজমান ছিল।

খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে লিচেস্টারে কোচের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর, সিমেন্ট মার্কেটিং বোর্ডে কাজ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৯০৮ সালে ডেইজি কর্নফোর্ড নাম্নী এ রমণীর সাথে ডেপ্টফোর্ডের সেন্ট জোন্স চার্চে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির এক কন্যা ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন বোমাবর্ষণে গৃহের ক্ষতি হলে অর্জিত সকল ট্রফি হারিয়ে ফেলেন। ৮ মে, ১৯৬৫ তারিখে কেমব্রিজের টেনিসন রোড এলাকায় ৭৯ বছর ৭২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুর পর তিনি £১,৬৯৩ পাউন্ড-স্টার্লিং মূল্যমানের সম্পদ রেখে যান।

Similar Posts

  • |

    লধা রামজী

    ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯০০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের পিদরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ফাস্ট বোলিং করতেন। কনিষ্ঠ ভ্রাতা অমর সিংয়ের জন্মগ্রহণের এক দশক পূর্বে তাঁর জন্ম। তাঁর পেস বোলিং যথেষ্ট কার্যকর ছিল। নিখুঁত…

  • ল্যান্স গিবস

    ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৪ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার কুইন্সটাউনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ডেমেরারা সিসি’র পক্ষে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। শুরুতে লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। গুগলিতে পারদর্শী ছিলেন না। তবে, মাঝে-মধ্যে অফ-স্পিন বোলিংয়ে বৈচিত্র্যতা আনয়ণকালে বেশ হিমশিম…

  • |

    শামসুর রহমান

    ৫ জুন, ১৯৮৮ তারিখে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-পেস বোলিংয়ে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘শুভ’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ২০০৫ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে মধ্যাঞ্চল, ঢাকা বিভাগ ও ঢাকা…

  • | | |

    অশঙ্কা গুরুসিনহা

    ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনসহ ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের…

  • | |

    জনি ক্লে

    ১৮ মার্চ, ১৮৯৮ তারিখে ওয়েলসের বনভিলস্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। উইনচেস্টারে অধ্যয়ন করেছেন। চিপস্টো এলাকায় ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারের সন্তান ছিলেন। যুবক অবস্থায় ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন ফাস্ট বোলার ছিলেন। শুরুতে মাইনর কাউন্টি…

  • |

    ট্রাভিস হেড

    ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে থাকেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৯ মিটার) উচ্চতাসম্পন্ন। চমৎকার নেতৃত্বের গুণাবলীর অধিকারী। পরিচ্ছন্ন মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে।…