বিবেক রাজদান

২৫ আগস্ট, ১৯৬৯ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে নিজেকে দক্ষ করে তুলেন। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ১৯৯২-৯৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব করেন। চেন্নাইয়ের এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর থেকে ১৯৯০-৯১ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফিতে তামিলনাড়ুর সাথে যুক্ত হন। পাকিস্তান গমনার্থে ভারত দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হলেও মাত্র দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ সময়কালে ভারতের পক্ষে মাত্র দুই টেস্ট ও তিনটি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে কৃষ শ্রীকান্তের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ২৩ নভেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম অংশ নেন। শচীন তেন্ডুলকরের সাথে একই সিরিজে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। কিন্তু, দলে তাঁর অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বেশ প্রশ্নবিদ্ধতার পরিবেশ সৃষ্টি করেন। একটিমাত্র ইনিংসে তিনি উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এছাড়াও, একই সফরের ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে গুজরানওয়ালায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে উভয়েরই একযোগে অভিষেক হয়েছিল। শচীন তেন্ডুলকর পরবর্তীতে ক্রিকেট বিশ্বে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেলেও তাঁকে খুব দ্রুত পর্দার অন্তরালে চলে যেতে হয়েছিল। দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে তৃতীয় টেস্ট থেকে বাদ পড়েন।

সিরিজের চতুর্থ টেস্টে দূর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন। ৯ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে শিয়ালকোটে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে পিচের পূর্ণাঙ্গ সদ্ব্যবহারে তৎপর হন। ৫/৭৯ নিয়ে ভারতকে ৭৪ রানে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করেন। শোয়েব মোহাম্মদ, রমিজ রাজা, সেলিম মালিকের পর ওয়াসিম আকরামকে বোল্ড করেন। এরপর, আব্দুল কাদিরকে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের কটে বিদেয় করেন। ঐ সময়ে যে-কোন ভারতীয় পেসারের জন্যে দূর্লভ অর্জনরূপে স্বীকৃত ছিল। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর একমাত্র পাঁচ-উইকেট লাভের ঘটনা হিসেবে চিত্রিত হয়ে পড়ে। ২৭-৫-৭৯-৫ বোলিং বিশ্লেষণটি বিস্ময়করভাবে তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বশেষ ইনিংস ছিল। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

নিউজিল্যান্ড সফরে তাঁকে রাখা হলেও আর কোন টেস্টে তাঁকে খেলানো হয়নি। ঐ সফরে তিনি ৬০ ওভার বোলিং করার সুযোগ পেয়ে মাত্র এক উইকেট পেয়েছিলেন। ওডিআইয়েও তিনি নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। অংশগ্রহণকৃত তিনটি ওডিআইয়ের দুইটি পাকিস্তান ও একটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিলেন। তবে, একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। ১ ডিসেম্বর, ১৯৯০ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে তাঁর ৪ ওভার থেকে অরবিন্দ ডি সিলভা বড় ধরনের রান সংগ্রহে তৎপরতা দেখালে ভারতের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবন শেষ হয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন মন্তব্য করেন যে, এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক বিষেন সিং বেদী’র খামখেয়ালীপণা ও বিজ্ঞানবিরোধী প্রশিক্ষণের ফলেই তাঁকে দ্রুত পর্দার অন্তরালে চলে যেতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছিল।

নিজ জন্মস্থান দিল্লিতে ফিরে আসেন ও আকস্মিকভাবে মারকুটে ব্যাটসম্যানে পরিণত হন। ১৯৯১-৯২ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় দলের শিরোপা বিজয়ে বড় ধরনের ভূমিকা রাখেন। চূড়ান্ত খেলায় অংশগ্রহণের পূর্বে দিল্লির পক্ষে দুইটি শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। চূড়ান্ত খেলায় সাবেক দল তামিলনাড়ুর বিপক্ষে ৯৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে দিল্লির শিরোপা বিজয়ের পথ সুগম করে তুলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়েও বিরাট প্রভাব ফেলেন। ঐ মৌসুমে ২৩ উইকেট দখল করেছিলেন তিনি।

দুই মৌসুম পর কিছু খেলায় দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটকে বিদেয় জানান। হঠাৎ আলোর ঝলকানীর ন্যায় তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তাঁকে অবসর নিতে হয়। এরপর থেকে টেলিভিশনে ধারাভাষ্যকার দলে যোগ দেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *