১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দ্রুতগতিসম্পন্ন ও নিখুঁতমানের বামহাতি ফাস্ট বোলার। বলে বেশ পর্যাপ্ত পরিমাণে পেস আনয়ণ করতে পারেন। জাতীয় দলে প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর অন্তর্ভুক্তি ঘটে। এর পূর্বে ইউভা নেক্সট, শ্রীলঙ্কা বোর্ড সভাপতি একাদশ ও শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে খেলতেন। মোরাতুয়ার সেন্ট সেবাস্টিয়ান্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ২০১১-১২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব এবং মোরাতুয়া স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ক্যান্ডি তুস্কার্সের পক্ষে খেলেছেন।
২০১২ সালের প্রথম মৌসুমে ২৬ উইকেট পান। ফলশ্রুতিতে, ডিসেম্বর, ২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার জন্যে ১৬-সদস্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। তবে, কোন খেলায় তাঁকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি। শমিন্দা ইরঙ্গা, নুয়ান প্রদীপ, ধম্মিকা প্রসাদ ও লাসিথ মালিঙ্গাকে দলে নেয়া হলেও বিদেশ সফরের জন্যে বেশ কিছু সময় প্রতীক্ষার প্রহর গুণতে হয়। পরের বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে পুণরায় স্বরূপ ধারন করেন। ২০১৪-১৫ মৌসুমের প্রিমিয়ার লীগ টুর্নামেন্টে সর্বাধিক সফলতম পেসারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ২২-এর কম গড়ে ৪০ উইকেট দখল করেন।
ধীর চিত্তে চমৎকার পেস বোলিং করেন। দীর্ঘতর সংস্করণের খেলায় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরূপে অংশ নিচ্ছেন। প্রস্তুতিমূলক খেলায় বোর্ড সভাপতি একাদশের সদস্যরূপে ভারতীয় একাদশের বিপক্ষে খেলেন। এরপর, ১৫-সদস্যের দলের সদস্যরূপে ভারতের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন।
জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো খেলার আমন্ত্রণ পান। ২০১৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দলের সদস্যরূপে গমন করেন। এর পূর্বে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। তবে, কোন আন্তর্জাতিক খেলার সুযোগ পাননি। দেশে ফিরে সফররত ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে সিরিজে মাঝারিমানের খেলা প্রদর্শন করেন।
২০১৬ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৪ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। স্পিনারদের উপযোগী পিচে তিনিই দলের শীর্ষ পেসার ছিলেন। প্রথম ওভারেই জো বার্নসের উইকেট লাভ করেন। ঐ খেলার বাদ-বাকী ১৯ উইকেট স্পিনারদের অনুকূলে চলে যায়। এমনকি দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি বোলিং করারই সুযোগ পাননি। দিলরুয়ান পেরেরা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
সুরঙ্গা লকমল ও ধম্মিকা প্রসাদের ন্যায় শ্রীলঙ্কার প্রধান ফাস্ট বোলারদের দলে প্রত্যাবর্তনের ফলে এক বছর দলে খেলার সুযোগ পাননি। ২২ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট লাভ করেছিলেন। ২০ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত একই দলের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। নিজস্ব তৃতীয় ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার পূর্বে কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। অবশেষে বিরাট কোহলিকে বিদেয় করে প্রথম উইকেটের সন্ধান পান।
২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে কটকে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথম অংশগ্রহণের সুযোগ পান। একমাত্র টি২০আইয়েও উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
২০১৮-১৯ মৌসুমে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে অবিস্মরণীয় খেলা উপহার দেন। চতুর্থ ইনিংসে এগারো নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে কুশল পেরেরা’র সাথে ৭৮ রান যোগ করে দলের অতিনাটকীয় জয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। এ অবস্থানে তাঁরা রেকর্ড গড়েন। এরফলে, একই বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বেন স্টোকস – জ্যাক লিচের মধ্যকার ৭৬* রানের রেকর্ড ম্লান হয়ে পড়ে। পোর্ট এলিজাবেথে পরের টেস্টে চার উইকেট নিয়ে দলকে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ বিজয়ে অংশ নেন। প্রসঙ্গতঃ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এটিই শ্রীলঙ্কার প্রথম সিরিজ বিজয় ছিল।
২০২০-২১ মৌসুমে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৩ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। ৫/১০১ ও ৯/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ডিন এলগারের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
২০২৩-২৪ মৌসুমে ধনঞ্জয় ডি সিলভা’র অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ গমন করেন। দুই টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে অপূর্ব খেলেন। সব মিলিয়ে ঐ সিরিজে ১৬.১০ গড়ে ১০ উইকেট লাভ করে দলের ২-০ ব্যবধানের বিজয়ে অংশ নেন।
২০২৪ সালে ধনঞ্জয় ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২/৪৬ ও ৩/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে শূন্য রানে অভিষেকধারী জোশ হালের বলে এলবিডব্লিউতে বিদেয় নেন। তবে, পথুম নিসাঙ্কা’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০২৫ সালে নিজ দেশে নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ২০২৫ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৪৫ ও ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ২* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, পথুম নিসাঙ্কা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৭৮ রানে পরাভূত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
