| |

বিজয় যাদব

১৪ মার্চ, ১৯৬৭ তারিখে উত্তরপ্রদেশের গণ্ডা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

উইকেট-রক্ষণে তাঁর সহজাত দক্ষতা ছিল। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হরিয়াণার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯০-এর দশকে রঞ্জী ট্রফিতে হরিয়াণার সদস্যরূপে দারুণ খেলে সাড়া জাগান। এছাড়াও, নিজের সেরা দিনে কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবেও বিরাট ভূমিকা রাখতেন। ১৯৯০-৯১ ও ১৯৯১-৯২ মৌসুমে উইকেট-রক্ষণে অসাধারণ ভূমিকার কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।

হরিয়াণা দলের সদস্য থাকাকালীন কপিল দেবচেতন শর্মা’র বল অবলীলাক্রমে গ্লাভসবন্দী করতেন। ১৯৯০-৯১ মৌসুমে রঞ্জী ট্রফিতে হরিয়াণার শিরোপা বিজয়ে অংশ নেন। সেমি-ফাইনালে বাংলা দলের বিপক্ষে চার ঘণ্টার অধিক সময় ক্রিজে অবস্থান করে ১০৬ রান তুলেছিলেন। পরের মৌসুমে দিলীপ ট্রফির সেমি-ফাইনালে প্রায় নয় ঘণ্টা বেঙ্কটেশ প্রসাদ, রবিন সিং, অনিল কুম্বলে, আরশাদ আইয়ূবের বল রুখে দিয়ে ২০১ রানের স্মরণীয় ইনিংস উপহার দেন।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৪ সময়কালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও ১৯টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে ভারতীয় দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে কিরণ মোরে’র সহকারী হিসেবে তাঁকে রাখা হয়। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৯২ তারিখে ব্লোমফন্তেইনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ঐ সফরে ওডিআই অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হলেও কোন টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি।

এক পর্যায়ে একটিমাত্র টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে ডেভ হটনের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৩ মার্চ, ১৯৯৩ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। স্ট্যাম্পের পিছনে ও সামনে থেকে দারুণ খেলেন। প্রাণহীন জিম্বাবুয়ে বোলিং আক্রমণে ভারতের সংগ্রহ ৪৬৪/৬ থাকা অবস্থায় আট নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নামেন। মাত্র ২৫ বল মোকাবেলা করে তিন বাউন্ডারি ও দুই ছক্কা সহযোগে ঝড়োগতিতে ৩০ রান সংগ্রহ করে বিদেয় নেন। বিনোদ কাম্বলি’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩ রানে জয় পায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ওডিআইয়ে নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বড় ধরনের ইনিংস খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ১০১.৭০ স্ট্রাইক রেটে রান তুলেছেন। ইস্ট লন্ডনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রবীণ আম্রেকে সাথে নিয়ে দলের জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। অ্যালান ডোনাল্ড, ফ্যানি ডি ভিলিয়ার্স, ব্রায়ান ম্যাকমিলান, ক্রেগ ম্যাথুজের ন্যায় বোলারদের রুখে দিয়ে ২২ বলে ৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।

তবে, কিরণ মোরে’র পর নয়ন মোঙ্গিয়া’র ন্যায় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের আবির্ভাবে উইকেটের পিছনে তাঁর ভূমিকা ক্ষীণতর হয়ে পড়ে। তাসত্ত্বেও, ওডিআই দলে তাঁকে খেলার সুযোগ দেয়া হয়। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে হিরো কাপের শিরোপা বিজয়ী ভারত দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। এক বছর পর নয়ন মোঙ্গিয়া’র নিষেধাজ্ঞার কারণে উইলস বিশ্ব সিরিজের চূড়ান্ত খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটিই তাঁর সর্বশেষ খেলায় অংশগ্রহণ ছিল।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে সরব থাকেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ম্যাচ রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। পাঁচটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও দুইটি লিস্ট-এ খেলা পরিচালনা করেছিলেন।

Similar Posts

  • | |

    হনুমন্ত সিং

    ২৯ মার্চ, ১৯৩৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাজস্থানের বাঁসারা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ভারতের আরও একজন রাজপুত্র হিসেবে ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দিলীপ সিংয়ের ভ্রাতুষ্পুত্র ও ইন্দ্রজিৎসিংজী’র কাকাতো ভাই ছিলেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম…

  • | |

    মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন

    ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও রাজনীতিবিদ। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন ও অন-সাইডে দৃষ্টিনন্দন কব্জীর মোচড়ে রান সংগ্রহে তৎপরতা চালাতেন। অসাধারণ ফিল্ডিং ও নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁর…

  • |

    জিমি সিনক্লেয়ার

    ১৬ অক্টোবর, ১৮৭৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের সুয়েলেন্ডাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। উঁচু থেকে বলে বৈচিত্র্যমূখী পেস বোলিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করে তুলতে অন্যতম পথিকৃতের ভূমিকায়…

  • |

    মঈন আলী

    ১৮ জুন, ১৯৮৭ তারিখে বার্মিংহামে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলে থাকেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘মো’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী মঈন আলী মোজলে স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। কিশোর বয়সেই তাঁর মাঝে দ্রুত রান সংগ্রহের প্রবণতা লক্ষ্য…

  • |

    জসুভাই প্যাটেল

    ২৬ নভেম্বর, ১৯২৪ তারিখে গুজরাতের আহমেদাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অফ-স্পিন বোলিং করতেন। তবে, মিহির বসু তাঁকে সিম সহযোগে বোলিং করার কথা উল্লেখ করেছেন। ১৯৪৩-৪৪ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত…

  • |

    ব্যারি মিলবার্ন

    ২৪ নভেম্বর, ১৯৪৩ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনের মাওরি হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৯ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে মাত্র তিনটি…