| | |

বিজয় মেহরা

১২ মার্চ, ১৯৩৮ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

শীর্ণকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে তেমন সাফল্য না পেলেও শারীরিক সক্ষমতা ব্যতিরেকে মনেপ্রাণে যে-কোন পরিবেশে সংগ্রাম করে গেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতেই তাঁর মাঝে প্রতিভার বিচ্ছুরণ লক্ষ্য করা যায়। পরবর্তীকালে বিষেন বেদী মন্তব্য করেন যে, তিনি প্রচণ্ড পরিশ্রমী। কিন্তু, তাঁর মাঝে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি আরও সেরা ক্রিকেটারের মর্যাদা পেতে পারতেন। ৩৪ গড়ে ৫৬১৪ রান তুলে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করেন। খাঁটিমানের কৌশল অবলম্বনসহ ঘণ্টার পর ঘণ্টা মনোযোগ সহকারে ব্যাটিং করার গুণাবলী বহমান ছিল। তবে, তাঁর এ অবস্থানের ফলে বড় ধরনের সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন।

১৯৫৩-৫৪ মৌসুম থেকে ১৯৭০-৭১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি, ইস্টার্ন পাঞ্জাব ও রেলওয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম মৌসুমে দারুণ খেলা উপহার দেয়ার পর টেস্ট খেলার সুযোগ পান।

১৯৫৫ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে সব মিলিয়ে ভারতের পক্ষে মাত্র আট টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যারি কেভের নেতৃত্বাধীন কিউই মুখোমুখি হন। ১৭ বছর ২৬৫ দিন বয়সে ২ ডিসেম্বর, ১৯৫৫ তারিখে বোম্বের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। নরি কন্ট্রাক্টর ও সদাশিব পাতিলের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এ পর্যায়ে তিনি বিশ্বের কনিষ্ঠতম টেস্ট অভিষেক লাভকারীদের তালিকায় পঞ্চম ও প্রায় তিন দশক সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় ক্রিকেটারের মর্যাদা পান। পরবর্তীতে, ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে মনিন্দার সিং এ রেকর্ডটি নিজের করে নেন। অভিষেক টেস্টটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর ষষ্ঠ খেলা ছিল। তিনি মাত্র ১০ রান তুলেন। তবে, বিনু মানকড়সুভাষ গুপ্তে’র কল্যাণে ভারত দল ইনিংস ও ২৭ রানের ব্যবধানে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়। এরফলে, স্বাগতিক দল পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

পরের টেস্টে ৩২ রান তোলার পর বাদ পড়েন। এ পর্যায়ে নরি কন্ট্রাক্টরের সাথে প্রথম উইকেট জুটিতে ৬৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পরবর্তী ছয় বছরে তাঁকে আর ভারত দলে ডাকা হয়নি। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে ১২৬ গড়ে ৭৫৫ রান সংগ্রহের স্বীকৃতিস্বরূপ পুণরায় তাঁকে জাতীয় দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

বিস্ময়করভাবে অভিষেকের ছয় বছর পর তাঁকে পরের টেস্ট খেলার সুযোগ দেয়া হয়। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে নিজ দেশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কলকাতা টেস্টে ৬২ রানের অর্ধ-শতক হাঁকিয়ে তাঁর প্রতিভার স্ফূরণ ঘটাতে সচেষ্ট হন। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং উদ্বোধন করলেও বৃদ্ধাঙ্গুলে আঘাতের কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে ১১ নম্বর অবস্থানে ব্যাটিং করতে বাধ্য হন। এরফলে, পরের টেস্টে অংশগ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত হন।

এরপর, স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আরও একটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। তাসত্ত্বেও খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময় দলে আসা-যাওয়ার পালায় থাকতেন। ক্যারিবীয় দ্বীপে তাঁর ইনিংসটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়ালেও বৃদ্ধাঙ্গুলে গুরুতর আঘাত পান। আঘাত নিয়েই তিনি এ বীরোচিত ইনিংস উপহার দেন।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২১ জানুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে বোম্বের বিএসে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৯ ও ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে প্রায় ২৫ গড়ে ৩২৯ রান তুলেন। তন্মধ্যে, দুইটি ৬২ রানের ইনিংস ছিল। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে ইডেন গার্ডেন্সে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে ২২৪ মিনিটে হতাশাব্যঞ্জক ৬২ রান তুললেও ভারতের বিজয়ে ভিত্তি এনে দেন। এ পর্যায়ে তিনি বামহাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে মারাত্মক আঘাত পান। এরপর, কুইন্স পার্ক ওভালে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপর ইনিংসটি খেলেন। গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেললেও দলের পরাজয় রোধ করতে পারেননি। সেলিম দুরানি’র সাথে ১৪৪ রানের জুটি গড়েছিলেন।

ঐ গ্রীষ্মে তাঁকে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনার্থে ভারত দলে রাখা হয়। এর দুই বছর পর পুণরায় তাঁকে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হলেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। কিছুসময় রেলওয়ে দলে অবস্থানের পর দিল্লি দলে ফিরে যান। ৩২ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ঘরোয়া পর্যায়ে সফলতম উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে সুনাম কুড়ান। এ পর্যায়ে কয়েকটি দলের সদস্য ছিলেন।

১৯৭৫ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিক থেকে ১৯৮০-এর দশকের সূচনাকাল পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেটে শক্তিধর দল হিসেবে দিল্লির উত্থানে ভূমিকা রাখেন। অল ইন্ডিয়া রেডিও ও দূরদর্শনের সম্প্রচার কর্মে অংশ নেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর সন্তান অজয় মেহরা পাঞ্জাব ও রাজস্থানের পক্ষে খেলে পিতার ব্যাটিং গড়ের প্রতিচিত্র তুলে ধরেন। ২৫ আগস্ট, ২০০৬ তারিখে হৃদযন্ত্র ক্রীয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৬৮ বছর ১৬৬ দিন বয়সে দিল্লিতে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | |

    মার্ক বাউচার

    ৩ ডিসেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের ইস্ট লন্ডন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারির কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি (১.৬৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ভার্ডন…

  • |

    আগা জাহিদ

    ৭ জানুয়ারি, ১৯৫৩ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। খাঁটি মানসম্পন্ন ব্যাটসম্যান ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭০-৭১ মৌসুম থেকে ১৯৯২-৯৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, লাহোর ও পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও,…

  • |

    জন শার্প

    ৯ ডিসেম্বর, ১৮৬৬ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের রাডিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পিতা স্যামুয়েল শার্প দুইবার নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। তিনি দুইবার দ্বাবিংশতিতম কোল্টস বনাম নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে খেলে উভয়ক্ষেত্রে প্রাইজ বল লাভ করেন। তবে,…

  • | | |

    এমএল জয়সীমা

    ৩ মার্চ, ১৯৩৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের সেকান্দারাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৮০-এর দশকে টাইগার পতৌদি, সেলিম দুরানি’র ন্যায় ভারতীয় ক্রিকেটের শীর্ষ ১০জন তারকা ক্রিকেটারের অন্যতম ছিলেন। তন্মধ্যে, টাইগার…

  • | |

    গ্রায়েম হোল

    ৬ জানুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের কনকর্ড ওয়েস্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী মানসম্পন্ন ব্যাটসম্যান ছিলেন। ১৩ বছর বয়সে মোসম্যানের পক্ষে ক্রিকেট খেলতেন। এরপর, নর্থ সিডনি বয়েজ হাইয়ে অধ্যয়ন…

  • | |

    কেনরয় পিটার্স

    ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে সেন্ট ভিনসেন্টে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০১০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। পাড়ার ক্রিকেটে অংশ নিতেন। ২০০০ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে উইন্ডওয়ার্ড…