১৬ জুলাই, ১৯৩৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
দীর্ঘাকায় ও লিকলিকে গড়নের অধিকারী। মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মিডিয়াম পেস বোলিংয়েও দক্ষতার ছাঁপ রেখেছেন। এছাড়াও, ক্রিজের কাছাকাছি এলাকায় নিরাপদ দূরত্ব নিয়ে ফিল্ডিং করতেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৬৯-৭০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মহীশূর দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬০-এর দশকে ব্যাটিং নির্ভর মহীশূর দলে দারুণ খেলেছিলেন।
মহীশূর দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে দলকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। ফিল্ডিংয়ের উপর জোর দেন। মহীশূর দলের পক্ষে ৪৪ খেলায় অংশ নিয়ে ২৭টিতে নেতৃত্ব দেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে মাদ্রাজের বিপক্ষে ২১৩ রানে অপরাজিত থাকেন। পরের খেলায় বোম্বের বিপক্ষে ১০৫ রান তুলেন। শেষ উইকেট জুটিতে চন্দ্রের সাথে ১১৩ রান যুক্ত করেন। চন্দ্র করেছিলেন ৮ রান। ঐ মৌসুমে ৪৯ গড়ে ৯৬৮ রান তুলেন। সাধারণমানের ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করা সত্ত্বেও সৌভাগ্যবশতঃ জাতীয় দলে খেলার জন্যে মনোনীত হন।
১৯৬৫ থেকে ১৯৬৮ সময়কালে ভারতের পক্ষে সব মিলিয়ে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। টেস্টগুলোতে মাঝারিমানের সফলতা পেয়েছেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৯ মার্চ, ১৯৯৫ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০/৩ ও ২/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিক দল ৭ উইকেটে জয় পেয়ে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। ওয়েস হল, চার্লি গ্রিফিথ, গ্যারি সোবার্স, ল্যান্স গিবসের ন্যায় তারকা বোলারদের রুখে দিয়ে ৭৫ মিনিটে ৬১ রান তুলতে সমর্থ হন। পরের মৌসুমে অ্যাডিলেড ওভাল টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে গ্রাহাম ম্যাকেঞ্জি’র বোলিং মোকাবেলা করে ৭৫ রান তুলেন। ঐ মৌসুমের শেষদিকে দলের সংগ্রহ ২৬৮/৭ থেকে ৩২৭ রানে নিয়ে যেতে যথাযথ ভূমিকা রাখেন। এ পর্যায়ে তিনি ৩২ রানে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন।
মাঝে-মধ্যে বোলিং উদ্বোধন করার সুযোগ পেয়েছেন। ১৯৬৭ সালে পতৌদির নবাবের অধিনায়কত্বে ইংল্যান্ড সফর করেন। তেমন উল্লেখযোগ্য সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। শেষদিকে ছন্দ ফিরে পান ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের দুই টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। এজবাস্টন টেস্টের প্রথম ওভার করাকালীন কেবল একবারই স্পিনার চতুষ্টয়কে ফিল্ডিং করতে বাধ্য হয়। নিজস্ব পঞ্চম বলে জিওফ বয়কটকে বোল্ড করেন। সর্বোচ্চ স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়ে ১৯ গড়ে ২৬৩ রান ও ৪৪ গড়ে ৩ উইকেট পান।
১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে মনসুর আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে ৩২* রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করাসহ ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৭ মার্চ, ১৯৬৮ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ০/০ ও ০/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ২৭২ রানে জয় পেয়ে সফরকারীরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হন।
দূর্ভাগ্যজনকভাবে খেলোয়াড়ী জীবনে মাত্র ৩১ গড়ে ৪২১৯ রান ও ৪৪ গড়ে ৭০ উইকেট পেয়েছিলেন। ১০১টি খেলা থেকে ১২০ ক্যাচ নিয়েই সর্বাধিক কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ৪৬ গড়ে ৫০৪ রান ও ২৩ গড়ে ৭ উইকেট দখল করেন। অবসর গ্রহণের পর সিডনিতে বসবাস করতে থাকেন। নিউ সাউথ ওয়েলস ল’ ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন। তাঁর ভ্রাতৃদ্বয় – রামদাস ও কৃষ্ণপ্রসাদ মহীশূরের পক্ষে খেলেছেন।
