২৯ অক্টোবর, ১৯৮৯ তারিখে বিহারের সিংহভূম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতি পেসার হিসেবে খেলছেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
প্রতিভাবান ফাস্ট বোলার হিসেবে দূরন্ত গতিবেগে বোলিংয়ের কারণে পরিচিতি লাভ করেন। ভারতের অন্যতম দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার। খামখেয়ালীপূর্ণ বোলিং করা সত্ত্বেও কিছু সময় বেশ গতির ঝড় তুলেছিলেন। ২০১৪ সালের এশিয়া কাপে ঘণ্টায় ১৪৯.৯ কিলোমিটার ও ২০১৫ সালের আইপিএলে ১৫০.২ কিলোমিটার গতিবেগে বল করেছেন। ১৫ বছর বয়সে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচীর আওতায় তাঁকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর, চেন্নাইভিত্তিক এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে যোগ দেন। কৈশোরকালেই ফাস্ট বোলিংয়ের দিকে মনোনিবেশ ঘটান। সেখানে পেস ও দক্ষতায় সকলকে বিমোহিত করেন।
২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বিহার, দিল্লি, ইন্ডিয়া গ্রীন, ইন্ডিয়া রেড, ঝাড়খণ্ড এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার অব এক্সিলেন্স, অস্ট্রেলিয়ান স্পোর্ট ইন্সটিটিউট, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, কলকাতা নাইট রাইডার্স, মাদ্রাজ রাবার ফ্যাক্টরি, রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন।
২০০৮-০৯ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফিতে ঝাড়খণ্ডের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। এর পরপরই দুইবার পিঠে আঘাত পান। ২০১০-১১ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফিতে ১৩ উইকেট নিয়ে স্বীয় প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটান। ১৩ উইকেট দখল করেন তিনি। এ প্রতিযোগিতায় ঘণ্টায় ১৫৩.৪ কিলোমিটার গতিবেগে বল ছুঁড়েন। সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপ খেলার উদ্দেশ্যে ডারহাম কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০১৫-১৬ মৌসুমে এমএস ধোনি’র ব্যস্ততার সুযোগে ঝাড়খণ্ড দলকে ঘরোয়া ক্রিকেটে নেতৃত্ব দেন। অক্টোবর, ২০১৮ সালে দেওধর ট্রফি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকল্পে ইন্ডিয়া ‘বি’ দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০১৯-২০ মৌসুমের সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফি প্রতিযোগিতায় আট খেলা থেকে ১০ উইকেট দখল করেন।
২০১১ থেকে ২০১৫ সময়কালে ভারতের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও সমসংখ্যক ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০১১ সালে ইংল্যান্ড সফরে যান। তবে, কোন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। ভারতের বিপর্যয়কর ফলাফলের পর কয়েক মাসের ব্যবধানে ফিরতি সফরে পাঁচ-ওডিআই নিয়ে গড়া সিরিজে খেলেন। ২৩ অক্টোবর, ২০১১ তারিখে মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। অভিষেক ওডিআইয়ে ৩/২৪ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। পেস বোলিংয়ের দূরন্তপণায় প্রতিপক্ষকে নাকাল করে দেন। সবগুলো উইকেটই বোল্ডের মাধ্যমে লাভ করেন। পাশাপাশি নিজস্ব প্রথম পাঁচটি উইকেটই বোল্ডের মাধ্যমে লাভ করেছিলেন।
২০১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। দলটি তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজ খেলতে ভারত সফরে আসে। ২২ নভেম্বর, ২০১১ তারিখে মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩/১০৬ ও ০/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করেছিলেন তিনি। তবে, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের অপূর্ব বোলিংশৈলীর কারণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল ও স্বাগতিক দল ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে।
ভারতের পক্ষে সাধারণমানের খেলা প্রদর্শন করেছেন। মূলতঃ কৌশলগত কারণে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতীয় দলে তাঁর খেলার সুযোগ কমে আসে। ২ বছর পর ২৫ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পুণরায় তাঁকে খেলতে দেখা যায়। এরপূর্বে তিনি পিঠের আঘাতে জর্জড়িত ছিলেন। ১/৫২ লাভ করেন। বলে বৈচিত্র্যতা আনয়ণে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাটসম্যানেরা এ সুযোগ পান। ২০১৪ সালের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের বিপক্ষেও একই মানের বোলিং করেন। ৭.৫-০-৭৪-১ বোলিং বিশ্লেষণ করেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘণ্টায় ১৫২.৫ কিলোমিটার গতিবেগে বোলিং করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের তৃতীয় দ্রুততম বোলিং করেন।
২০১৫-১৬ মৌসুমে নিজ দেশে হাশিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৪ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও স্বাগতিক দল চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ১/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ন্যায় আইপিএলেও তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন থেমে থেমে অগ্রসর হয়। উইকেট লাভ করলেও প্রচুর রান খরচ করে ফেলতেন। বেশ কয়েকটি বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দলের পক্ষে খেলেছেন। শুরুতে বিখ্যাত চিত্রতারকা শাহরুখ খানের নিয়ন্ত্রণাধীন কলকাতা নাইট রাইডার্সের সদস্য হলেও ২০১১ সালে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের পক্ষে অভিষেক ঘটে। এছাড়াও বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৪ সালের আসরে ১০ খেলা থেকে ১৬ উইকেট দখল করেছিলেন। তবে, আঘাত ও ছন্দহীন খেলার কারণে পুণরায় দল ত্যাগ করতে হয়। ভিত্তিমূল্য ₹৩০ লক্ষ রূপী হলেও ২০১৭ সালের আইপিএল নিলামে কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব ₹২.৮ কোটি রূপীতে তাঁকে ক্রয় করে। আইপিএলের দ্বাদশ আসরে রাজস্থান রয়্যালসে যোগ দেন ও ২০২০ সালেও এ দলের পক্ষেই খেলেন।
