| |

উপুল থারাঙ্গা

২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে বালাপিতিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

শৈশবকাল থেকেই ক্রিকেটের সাথে নিজেকে জড়ান। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব, রুহুনা ও সিংহ স্পোর্ট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, এশিয়া একাদশ, কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স, ডাম্বুলা ভাইকিং, কন্দুরাতা ম্যারুন্স, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেট সিক্সার্সের পক্ষে খেলেছেন।

প্রিমিয়ার লীগ ক্রিকেটে সিংহ সিসি’র পক্ষে ১৫ বছর বয়সে অংশ নেন। এরপর, শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্য হন। ২০০৪ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিত্ব করেন। এ পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১১৭ রানের ইনিংস খেলেন। এরপর, পরের খেলায় ভারতের বিপক্ষে ৪২ বলে ৬১ রান তুলে সকলের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উপনীত হন।

পাকিস্তানে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে চমৎকার খেলেন। দুইটি অনানুষ্ঠানিক টেস্ট ও দুইটি অনানুষ্ঠানিক একদিনের খেলায় অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। এরফলে, শ্রীলঙ্কান বোর্ড তাঁকে লীগ ক্রিকেট খেলতে এসেক্স পাঠায়। সেখানে লাফটন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছিলেন। খুব দ্রুত তাঁকে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সদস্য করা হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিপক্ষে সুন্দর ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। এর এক সপ্তাহ পরই জাতীয় দলের পক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে মনোনীত করা হয়।

২০০৫ থেকে ২০১৯ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ৩১ টেস্ট, ২৩৫টি ওডিআই ও ২৬টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। এশীয় সুনামীতে স্বীয় পরিবারের সর্বশান্ত হবার পর নিজ দেশে ২০০৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হন। ২ আগস্ট, ২০০৫ তারিখে ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।

একই বছরের শেষদিকে ২০০৫-০৬ মৌসুমে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১৮ ডিসেম্বর, ২০০৫ তারিখে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২ ও ৪৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, হরভজন সিংয়ের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৫৯ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

পরের বছর অসাধারণ খেলেন। ২০০৬ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। লর্ডসে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওডিআইয়ে ১২০ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলেন ও ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার পান। এ শতরানের ফলে লর্ডসের লিমিটেড-ওভার্স অনার্স বোর্ডসে নিজেকে চিত্রিত করেন। ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে দলের সংগ্রহ ১৮৭/৪ থাকা অবস্থায় সাজিদ মাহমুদের বলে জ্যামি ড্যালরিম্পল মুঠোয় পুড়লে বিদেয় নেন। ১৫৬ বলে ১৪টি চারের মারে এ সংগ্রহ দাঁড় করান। ঐ খেলায় সফরকারী দল ২০ রানে জয়ী হয়। সিরিজের চূড়ান্ত খেলায় সনথ জয়সুরিয়া’র সাথে উদ্বোধনী জুটিতে ৩২ ওভারে ২৮৬ রান তুলেছিলেন। ঐ সিরিজে তাঁর দল ৫-০ ব্যবধানে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলকে ধবল ধোলাই করে।

এরপর, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে উপর্যুপরী শতক হাঁকান। এ পর্যায়ে সনথ জয়সুরিয়া’র সাথে বিধ্বংসী জুটি গড়েছিলেন। তবে, পরবর্তী শতকের জন্যে তাঁকে তিন বছর অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দূর্দান্ত খেলেছিলেন। ২০০৭ ও ২০১১ সালের প্রতিযোগিতায় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন। উভয় আসরেই তাঁর দল রানার্স-আপ হয়েছিল। তন্মধ্যে, ২০০৭ সালের আসরে তিনটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। সেমি-ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৩ রান তুলেছিলেন। এ বিশ্বকাপের পর ঐ বছরের শেষদিকে ওডিআই দল থেকে বাদ পড়েন। তবে, পুণরায় পরবর্তী বিশ্বকাপে তাঁকে খেলানো হয়েছিল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩৩ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।

২০১৩ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের জ্যামাইকায় অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় সিরিজে ভারতের বিপক্ষে ১৭৪ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। তবে, এরপর থেকে তিন বছরের অধিক সময়ে ১৮টি ওডিআইয়ে আর কোন অর্ধ-শতক হাঁকাতে পারেননি। এ সময়ে বেশ কয়েকটি খেলায় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় আঘাতের কারণে তাঁকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। ২০১৬ সালে তুলনামূলকভাবে কিছু দীর্ঘ সময় ধরে খেলেন। এ পর্যায়ে ৫ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে জিম্বাবুয়ের মাটিতে ত্রি-দেশীয় সিরিজকে ঘিরে তাঁকে দলের অধিনায়কত্ব করা হয়।

২০১৬-১৭ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ২৬* ও ১২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। কাগিসো রাবাদা’র অসাধারণ বোলিং দাপটে সফরকারীরা ২৮২ রানে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের পরিবর্তে পুণরায় দলকে নেতৃত্ব দানের জন্যে আহ্বান করা হয়। ঐ বছর নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৫ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, হার্দিক পাণ্ড্য’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলায় সফরকারীরা ইনিংস ও ১৭১ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অনেকাংশেই হতাশাগ্রস্ত ও বিস্ময়কর – উভয় ধরনের বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনে তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখেননি। দশ বছরের অধিক সময়ে মাত্র তিনটি শতক হাঁকাতে পেরেছিলেন। ঐ তুলনায় ওডিআইয়ে বর্ণাঢ্য সময় অতিবাহিত করেছেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

Similar Posts

  • | |

    কেনিয়া জয়ন্তীলাল

    ১৩ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হায়দ্রাবাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে…

  • |

    দানিশ কানেরিয়া

    ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৮০ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্পিনার ছিলেন। শারীরিক গড়নের কারণে চমৎকার বাউন্স করতে পারতেন। বলকে তেমন শূন্যে না ভাসালেও উল্লেখযোগ্যভাবে বলকে বাঁক খাওয়াতে পারতেন। তবে,…

  • | |

    সিদাথ ওয়েতিমুনি

    ১২ আগস্ট, ১৯৫৬ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৭ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ২৩ টেস্ট…

  • | |

    ওয়ালি হার্ডিঞ্জ

    ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৬ তারিখে লন্ডনের গ্রীনউইচ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, ফুটবলার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০২ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। কেন্টের ৬৪তম ক্যাপধারী খেলোয়াড় ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন রয়্যাল…

  • | |

    হান্সি ক্রোনিয়ে

    ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের ব্লোমফন্তেইনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতার স্বাক্ষর রেখেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ফ্রি স্টেট ও…

  • |

    কাইল জেমিসন

    ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৯৪ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত তিনি। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ‘কিলা’ ডাকনামে ভূষিত কাইল জেমিসন ৬ ফুট ৮ ইঞ্চির দীর্ঘ উচ্চতার অধিকারী। বেশ লম্বাটে গড়ন নিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হন ও পেস বোলিংয়ে ব্যাটসম্যানদের…