১৫ অক্টোবর, ১৯৮২ তারিখে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
সাদা-বলের ক্রিকেটে দূর্দান্ত সফল ছিলেন ও ইয়র্কারে সিদ্ধহস্তের অধিকারী। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে – হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্স, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স, পেশাওয়ার; ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার ও সাসেক্স এবং অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কলকাতা নাইট রাইডার্স, মুলতান সুলতান্স, নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্স প্যান্থার্স, পেশাওয়ার প্যান্থার্স, কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স ও ইউভা নেক্সটের পক্ষে খেলেছেন।
২০০৩ থেকে ২০১৬ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ৪৭ টেস্ট, ১৩০টি ওডিআই ও ৬০টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। মাত্র নয়টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণের পরপরই জাতীয় দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দলের বিপর্যয়কর ফলাফলের পরই তিনি এ সুযোগ পান। ৩ এপ্রিল, ২০০৩ তারিখে শারজায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। শারজার নিষ্প্রাণ পিচেও চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। নতুন বল নিয়ে পর্যাপ্ত আউট সুইং বোলিং করেছিলেন।
দূরন্ত গতিশক্তির অধিকারী ছিলেন না। তবে, বলকে দ্রুতলয়ে ও ব্যতিক্রমী পন্থায় নিয়ন্ত্রণসহ পর্যাপ্ত সিম আনয়ণে নিজেকে অসাধারণ পর্যায়ে উপনীত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ২০০৩ সালে নিজ দেশে খালেদ মাহমুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২০ আগস্ট, ২০০৩ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। মোহাম্মদ হাফিজ, শাব্বির আহমেদ ও ইয়াসির হামিদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/৯১ ও ০/৫৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, অপর অভিষেকধারী ইয়াসির হামিদের জোড়া শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০০৩-০৪ মৌসুমে লাহোর টেস্টে ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রতিপক্ষের ব্যাটিং স্তম্ভে ফাটল ধরান। শীর্ষসারির ব্যাটসম্যানদেরকে নাজুক অবস্থায় ফেলেন। এ পর্যায়ে উভয় দিকেই সিম বোলিংয়ের পাশাপাশি তীক্ষ্ণ পেসের সমন্বয় ছিল। প্রথম ইনিংসে ৫/৩১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে স্বাগতিক দলের জয়কে ত্বরান্বিত করেন।
দূর্ভাগ্যজনকভাবে এক বছরের মধ্যে এটিই তাঁর শেষ খেলা ছিল। এ পর্যায়ে তিনবার পিঠের আঘাতের কবলে পড়েন। এ ধরনের আঘাতের কারণে অনেকের অকালে খেলোয়াড়ী জীবন শেষ হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকলেও তিনি পূর্ণোদ্যমে ২০০৫ সালের শেষদিকে পুণরায় দলে ফিরে আসেন। নিজ দেশে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সালে ভারতের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে অংশ নেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে উভয় টেস্টে আবারও বিশ্রামে যাবার ইঙ্গিত ছিল।
২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে পুণরায় নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দেন। এরপর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দলের প্রধান বোলারদের আঘাতজনিত অনুপস্থিতিতে দীর্ঘ দেহ নিয়ে পাকিস্তানের সেরা বোলারে নিজেকে নিয়ে যান।
২০০৭ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন। পরবর্তী দুই বছরও এ ধারা অব্যাহত রাখেন। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। দুবাইয়ে টি২০আইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪/৮ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন।
২০০৯ সালে ওডিআই ও টেস্টে বিরাট ধরনের সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা ছয়-উইকেট লাভ করেন। এছাড়াও, বিশ্বের সেরা টি২০ বোলার হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০৯ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ী পাকিস্তান দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। সেরা বোলার হিসেবে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তান দল শিরোপা জয় করে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫/৬ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। এ পর্যায়ে ইয়র্কারের সর্বোচ্চ মানের প্রদর্শন ঘটান।
২০১২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের একদিনের আন্তর্জাতিক দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পান। তবে, এরপর থেকে আঘাতের কবলে পড়তে থাকলে দলে আসা-যাওয়ার পালায় অবস্থান করতে থাকেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় মূল দল থেকে বাদ পড়লে খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তির সম্ভাবনা দেখা দেয়। তবে, এক বছর পরই জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা পান।
২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দলের অন্যতম খেলোয়াড় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ১৪ উইকেট নিয়ে দলের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। ২০১৩ সালে আইসিসি কর্তৃক বর্ষসেরা টি২০ আন্তর্জাতিক অবদানকারীর মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। তবে, ২০১৩ সালে হাঁটুর আঘাতের কারণে খেলোয়াড়ী জীবনে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। অস্ত্রোপচারের জন্যে তাঁকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমাতে হয়। একই বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান দলের বাইরে রাখা হয়। এরপর থেকে হঠাৎ আলোর ঝলকানীর ন্যায় দলে অন্তর্ভুক্ত হতেন।
২০১২-১৩ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ০/৭৪ ও ১/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। উভয় ইনিংসেই ভার্নন ফিল্যান্ডারের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, রবিন পিটারসনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা চার উইকেটে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। এ টেস্টে অংশ নেয়ার পর আর দলে ঠাঁই পাননি। তবে, ২০১৬ সালে ৩২ বছর বয়সে ওডিআই দলে পুণরায় খেলার সুযোগ দেয়া হয়েছিল।
১৬ অক্টোবর, ২০২০ তারিখে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। এর তিনি কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ১২ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বোলিং কোচ হিসেবে মনোনীত হন।
