১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৯ তারিখে কেপ প্রভিন্সের রন্ডেবশ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে মাঝারিসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি, সীমানা বরাবর দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯২৭-২৮ মৌসুম থেকে ১৯৪৯-৫০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। এ পর্যায়ে ১৯৩১ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর ব্লুধারী হন। মিডলসেক্সের পক্ষে ২৪.৮৩ গড়ে ৯৯৩ রান সংগ্রহসহ ২১.৫০ গড়ে ১০০ উইকেট দখল করেন। ব্যক্তিগত সেরা ৬/৬৮ পান।
১৯২৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টেই প্রতিপক্ষ ছিল ইংরেজ দল। ১৯২৯ সালে নামি ডিনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ১৫ জুন, ১৯২৯ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্রুস মিচেল, জিম ক্রিস্টি ও নেভিল কুইনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। এ সফরে ৩৫.৮৯ গড়ে ১১৬৮ রান ও ২৫.৮০ গড়ে ৩০ উইকেট পান। এছাড়াও, লিডসে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ১২৬ রানের শতক হাঁকান।
এরপর, ২৯ জুন, ১৯২৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৫২* ও ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৩ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫২ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম ও একমাত্র শতরানের ইনিংস খেলেন। খেলায় তিনি ৬ ও ১২৯ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৫ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৭ আগস্ট, ১৯২৯ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৫ ও ০/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ৪২.০০ গড়ে ২৫২ রান তুলেন। সর্বোচ্চ করেছেন ১২৯ রান। এছাড়াও, ৪টি ক্যাচ মুঠোয় পুড়েন। সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে তিন শতক সহযোগে ২৬.৮৮ গড়ে ৪০৫৯ রান তুলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৬৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বল হাতে নিয়ে ২৩.২২ গড়ে ৩১৯ উইকেট পেয়েছেন। ব্যক্তিগত সেরা ৭/১৫৩ লাভ করেন। এছাড়াও, ৯৩টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।
১৯৩০ সালে রোডস বৃত্তিধারী হিসেবে পুণরায় ইংল্যান্ডে আসেন ও চিকিৎসা বিষয়ে অক্সফোর্ডে পড়াশুনো করেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি মুষ্টিযুদ্ধ ও রাগবি খেলায় সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করলেও রাগবিতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংল্যান্ডের পক্ষে ফুলব্যাক অবস্থানে খেলেন। ১৯৩৩ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলার পর ১৯৩৭ সালে তিনটি খেলায় ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কত্ব করেছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডে ব্যতিক্রমধর্মী সর্বক্রীড়াবিদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ক্রিকেট ও রাগবিতে ব্লু লাভ করেন। এছাড়াও, অ্যাথলেটিক্স ও মুষ্টিযুদ্ধে অংশ নেন। এরপর, সেন্ট মেরিজে চিকিৎসাশাস্ত্র বিষয়ে অধ্যয়ন করেন।
১৯৩০ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেটের বাইরে পেশাগত জীবনে চিকিৎসক ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের রোজব্যাংক এলাকায় ৮১ বছর ১০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
