২৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার টুরাক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
জন স্কট ও এলিজাবেথ দম্পতির সন্তান ছিলেন। ১৮৭১ সালে ওয়েসলি কলেজে অধ্যয়ন করেন। এ পর্যায়ে তিনি প্রতিশ্রুতিশীল ব্যাটসম্যান হিসেবে চিত্রিত হন। বিদ্যালয় ত্যাগ করার পর ভিক্টোরিয়া ব্যাংকে কাজ করেন। ১৮৭৭ সালে সেন্ট কিল্ডা ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দেন।
১৮৭৭-৭৮ মৌসুম থেকে ১৮৮৫-৮৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ফেব্রুয়ারি, ১৮৭৮ সালে সিডনিতে ভিক্টোরিয়ার সদস্যরূপে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে খেলেন। দলকে প্রায় জয় এনে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬/৩৩ লাভ করেন।
১৮৭৯-৮০ মৌসুমে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরকৌশল বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। এরপর চিকিৎসাশাস্ত্র বিষয়ে পড়াশোনা করেন। ১৮৮২-৮৩ মৌসুমের গ্রীষ্মকালে ইস্ট মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলতে থাকেন। বেশ কয়েকটি শতক হাঁকান ও ক্লাবের ব্যাটিং ট্রফি লাভ করেন। এছাড়াও, সেরা অল-রাউন্ডারের পুরস্কার পান। ১৮৮৩ সালে চারটি আন্তঃঔপনিবেশিক খেলায় অংশ নেন।
১৮৮৪ থেকে ১৮৮৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৮৪ সালে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১০ জুলাই, ১৮৮৪ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০২ রান তুলেন। এ সফরে ২২.৬২ গড়ে ৯৭৩ রান তুলে ব্যাটিং গড়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। মেলবোর্নে ফিরে চিকিৎসাশাস্ত্রে তৃতীয় বর্ষ সমাপণ করেন। এছাড়াও, কয়েকটি আন্তঃঔপনিবেশিক খেলায় অংশ নেন।
১৮৮৬ সালে ইংল্যান্ড সফরে টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দেন। ৫ জুলাই, ১৮৮৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২১ ও ৪৭ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১২ আগস্ট, ১৮৮৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ ও ৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জর্জ লোহমানের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২১৭ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে এক শতক সহযোগে ২৭.৬১ গড়ে ৩৫৯ রান সংগ্রহ করেন। ক্রিকেটের বাইরে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এক পুত্র ও দুই কন্যার জনক। টাইফয়েড জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। ২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯১০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের স্কোন এলাকায় নিজ গৃহে ৫১ বছর ২৭১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। চার্চ অব ইংল্যান্ড সমাধিক্ষেত্রে তাঁকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুকালীন £৪,৮১৭ পাউন্ড-স্টার্লিং মূল্যমানের সম্পদ রেখে যান। ১৯১৩ সালে তাঁর সম্মানার্থে স্কট মেমোরিয়াল হাসপাতালের নামকরণ করা হয়।
