১২ নভেম্বর, ১৯২৮ তারিখে অকল্যান্ডের পাপাটোটো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
দীর্ঘদেহের অধিকারী ও সীমিত পর্যায়ের দক্ষতা নিয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। তবে, সহজাত প্রতিভার তুলনায় আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গীমায় খেলতেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৫৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের পক্ষে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। তিন মৌসুম ওয়েলিংটনে তেমন খেলতে না পারলেও ইংল্যান্ড খেলার চেষ্টা চালান। ক্লাব ক্রিকেটে ইলিং দলের পক্ষে খেলেন ও কেন্ট দলে যুক্ত হবার চেষ্টা চালান।
১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে মাত্র দুইটি প্রথম-শ্রেণীর শতক হাঁকালেও উভয়টিই সফরকারী দলের বিপক্ষে সম্পন্ন করেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান একাদশের বিপক্ষে ১১২ রান তুলে ওয়েলিংটনের সমূহ পরাজয় রোধ করেন। অপরটি ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে ফিজির বিপক্ষে করেন।
১৯৫৮ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ওয়েলিংটনের পক্ষে পর্যাপ্ত সফলতা লাভ করতে না পারলেও ইংল্যান্ড অভিমুখে যাত্রা করেন। ১৯৫৮ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হলে সমালোচনার কবলে পড়েন। কেননা, গত চার বছরে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তিনি মাত্র একটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাসত্ত্বেও, ৫ জুন, ১৯৫৮ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। বিল প্লেল ও জন ডার্সি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্টে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৭ ও ১০ রান তুললে পরের দুই টেস্ট থেকে বাদ পড়েন। সফরকারীরা ২০৫ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ওভালে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে পুণরায় তাঁকে খেলানো হয়। ২১ আগস্ট, ১৯৫৮ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টসহ সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় পরিণত হয়।
দুই টেস্ট থেকে ৫.২৫ গড়ে ২১ রান তুলেছিলেন। পুরো গ্রীষ্ম জুড়ে ও পুরো দলের সাথে তিনিও বেশ হিমশিম খান। ইংল্যান্ড সফরে দলটি তাদের অন্যতম বাজে সফর করে। এ সফরে ২১.৮২ গড়ে ৫০২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর, ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
২১ মে, ২০১০ তারিখে অকল্যান্ডের ওরিওয়া এলাকায় ৮১ বছর ১৯১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
