১৭ জুলাই, ১৯৩৩ তারিখে রোডেশিয়ার আমটালি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে খেলতে অধিক পছন্দ করতেন। পেসারদের কাছ থেকে তেমন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হননি। প্রতিপক্ষীয় বোলারদেরকে মোকাবেলা করে দলের ইনিংসের ভিত্তি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতেন। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হবার ফলে ব্যাটিং উদ্বোধনসহ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। স্ট্রোক খেলার চেয়ে রক্ষণাত্মক ভঙ্গীমায় খেলতেই অধিক পছন্দ করতেন।

১৯৫০-৫১ মৌসুম থেকে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে রোডেশিয়া ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৫৭ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৭ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে নিজ দেশে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জানুয়ারি, ১৯৫৭ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২৫ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এছাড়াও, ১৯৬০ সালে ইংল্যান্ড এবং ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে অস্ট্রালাশিয়া সফরে যান। ১৯৬০ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ইংল্যান্ড করেন। ৯ জুন, ১৯৬০ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ১০০ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের শেষ টেস্ট সিরিজে অপূর্ব ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ৫১.৩৩ গড়ে ৪৬২ রান তুলেন। কেপটাউনের নিউল্যান্ডস টেস্টে ১৫৪ রানের মনোরম ইনিংস খেলেছিলেন। পরবর্তীতে এটিই তাঁর একমাত্র টেস্ট শতকে পরিণত হয়। এ পর্যায়ে তাঁকে গভীর মনোযোগ ও ধৈর্য্যশক্তির পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল। বেশ ধীরলয়ে চমৎকার ব্যাটিং উপযোগী পিচে ছয় ঘণ্টা অবস্থান করেন। পরের টেস্টে ৯৫ রান তুললেও একই ধাঁচের ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন।

১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৬৫ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু, ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে নিজেকে এ সফর থেকে প্রত্যাহার করে নেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে শতকের দিকে দিয়ে বেশ এগিয়েছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৯১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের পুণরায় অংশগ্রহণকালীন তাৎক্ষণিকভাবে দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

১৭ নভেম্বর, ২০০৬ তারিখে নাটালের সাউথব্রুম এলাকায় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৭৩ বছর ১২৩ দিন বয়সে নিজ গৃহে তাঁর দেহাবসান ঘটে। এর পূর্বে মে মাসে অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা ডেভিড পিদি দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্টে অংশ নিয়েছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট