|

টনি ম্যাকগিবন

২৮ আগস্ট, ১৯২৪ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী উপহার দিতেন। পাশাপাশি স্লিপ অঞ্চলে চমৎকার ও অসাধারণ ফিল্ডিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

নিউজিল্যান্ডীয় ফাস্ট বোলার ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটের পুণরুজ্জ্বীবনকালীন পেস বোলিং আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বাক্ষর রাখেন। অন্যান্য বোলারের উজ্জ্বীবনী শক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। বেশ লম্বাটে গড়নের অধিকারী ছিলেন। এরফলে, বিশ্বের অধিকাংশ পিচেই পর্যাপ্ত বাউন্স আনয়ণে সক্ষমতা দেখান। এছাড়াও, বলে গতির সঞ্চার আনয়ণে ব্যাটসম্যানের সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমণ করে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন।

৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। বলকে উভয় দিক দিয়েই সুইং করানোয় দক্ষতার পরিচয় দিতেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৫১ থেকে ১৯৫৮ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৬ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। এ সময়ে নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রেডি ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৭ মার্চ, ১৯৫১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অ্যালেক্স মইর ও জনি হেইসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, ব্যাট কিংবা বল হাতে নিয়ে খেলায় তেমন কোন ভূমিকার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। ঐ টেস্টে ৭৪ রান খরচায় কোন উইকেট দখল করতে না পারলেও একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

দূরত্ব কমিয়ে ফেলার ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। পরের বছর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তাৎক্ষণিক সুফল পান। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে জিওফ রাবোনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। দুই দলের মধ্যকার প্রথম টেস্ট সিরিজে অংশ নেন। ১১ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ২১ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। ২১ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। -টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ’র উইকেট লাভ করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা সাফল্য ছিল ১/১৭। খেলায় তিনি ৩/৭৩ লাভ করেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৭৩। এরপর, দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে সিবি ফন রায়নেভেল্ডকে বিদেয় করে আবারও একই সাফল্যের পুণরাবৃত্তি ঘটান। এ পর্যায়ে তাঁর পূর্বেকার সেরা সাফল্য ছিল ৩/৬১। খেলায় তিনি ৩/৬১ ও ৪/৬২ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ১৩২ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের মাধ্যমেই দলে স্বীয় অবস্থান পাকাপোক্ত করেন ও প্রায় আট বছর দলের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পান। ঐ সিরিজে অবশ্য শারীরিকভাবে সমস্যা পড়েন। আন্ত্রিক প্রদাহে আক্রান্ত হলে দেহ অসাড় হয়ে যায়। তাসত্ত্বেও, টেস্টে ২২ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে হ্যারি কেভের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সফরে যান। ১৩ অক্টোবর, ১৯৫৫ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ২১ রানে পৌঁছানোকালে পূর্বতন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানকে অতিক্রম করেন। ৩৩ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৪/৯৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ১ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯ নভেম্বর, ১৯৫৫ তারিখে হায়দ্রাবাদের ডেকানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সাত ঘণ্টা ক্রিজে অবস্থান করে ১০২ রানের ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে ষষ্ঠ উইকেটে জেডব্লিউ গাই ও এআর ম্যাকগিবন ৮৭ রানের নিউজিল্যান্ডীয় রেকর্ড গড়েন। পরবর্তীতে, ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে সিডি ম্যাকমিলান (৭৪*) ও সিএল কেয়ার্নস (৬১) ১৩৭ রানের জুটি গড়লে তাঁদের রেকর্ড ম্লান হয়ে পড়ে।

একই মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। প্রতিযোগীধর্মী ব্যাটসম্যান হিসেবেও পরিচিতি পান। নিজ দেশে ডেনিস অ্যাটকিনসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ৯ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩১* ও ৩৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২/৮১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৬৪ রানে পরাভূত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৯ মার্চ, ১৯৫৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে এটি রবার্টসের চতুর্থ উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/৬২। খেলায় তিনি ৪/৪৪ ও ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, নিম্নমূখী রানের খেলায় ৯ ও ৩৫ রান সংগ্রহসহ দুই ক্যাচ তালুবন্দী করে ২৬ বছর ও ৪৫ টেস্টে অংশ নেয়ার পর নিউজিল্যান্ডের প্রথম টেস্ট বিজয়ে অনবদ্য অবদান রাখেন। তবে, খেলায় তাঁর দল ১৯০ রানে জয় পেলেও ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৫৮ সালে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড সফরে যান। ৫ জুন, ১৯৫৮ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে এমসি কাউড্রেকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/৪৪। এ পর্যায়ে টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। ৫/৬৪ ও ৩/৪১ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ২০৫ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২১ আগস্ট, ১৯৫৮ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৪/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৫৮ সালে ইংল্যান্ড সফর শেষে অবসর গ্রহণ করেন ও উচ্চ শিক্ষার্থে ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরঃকৌশল বিষয়ে অধ্যয়নকল্পে সেখানে অবস্থান করেন। এ সিরিজে শোচনীয় পরাজয়ের কবলের মুখে পতিত হয় তাঁর দল। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ব্যক্তিগত ৬৬ রান তুলে সফরের সর্বোচ্চ রানের অধিকারী হন। এরপর, আরও কয়েক বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

৬ এপ্রিল, ২০১০ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে ৮৫ বছর ২২১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট