৬এপ্রিল, ১৯৩৭ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের বীনলেই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
স্কটিশ বংশোদ্ভূত তিনি। রবার্ট রয় ভাইভার্স ও মাজোরি দম্পতির সন্তান ছিলেন। সেডার ক্রিক স্টেট স্কুলে অধ্যয়ন করেন। এরপর, টুওম্বাভিত্তিক ডাউনল্যান্ডস কলেজে পড়াশুনো করেন। কেলভিন গ্রোভ এডভান্স এডুকেশন কলেজ থেকে শিক্ষকতায় সনদ লাভ করেন। রোমান ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী তিনি।
১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দারুণ খেলার সুবাদে সফররত ইংরেজ একাদশের বিপক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয়। শেফিল্ড শীল্ডে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তেমন সময় নেননি। কয়েক মৌসুম সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ অস্ট্রেলিয়া দলে খেলার জন্যে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
১৯৬৩ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে নিজ দেশে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৬ ডিসেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। এএন কনোলি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
জাতীয় দলে তাঁর অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়। দারুণ অফ-স্পিনার হিসেবে ভূমিকা রাখলেও ব্যাট হাতে মোটেই সুবিধের ছিলেন না। বোলিংয়ে বেশ মিতব্যয়ীতার স্বাক্ষর রাখতেন। অতিমাত্রায় রক্ষণাত্মক ক্রীড়াশৈলীর কারণে টেস্টে মাত্র একবার চার-উইকেট পেয়েছিলেন। এরফলে, প্রতিপক্ষের উপর তেমন প্রভাববিস্তার করতে পারেননি। সময়ের সাথে সাথে তাঁর ব্যাটিংয়ের উত্তরণ ঘটতে থাকে। এমনকি অফ-স্পিন বোলিংকে পাশ কাটিয়ে প্রথম একাদশে অন্তর্ভুক্ত হন।
১৯৬৪ সালের ভারত সফরে নিজেকে কেবলই একবার অল-রাউন্ডার হিসেবে মেলে ধরেছিলেন। তবে, এ ধরনের সফলতা খুব কম সময়ই পেয়েছেন। ফলশ্রুতিতে, নিয়মিতভাবে প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পাননি। ঐ বছর প্রায় একশত ওভার বোলিং করে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘসময় ধরে বোলিং করার রেকর্ড গড়েন। শারীরিক সক্ষমতা ও নিখুঁততা বজায় রেখে এর ৩৬টি মেইডেন ছিল।
১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৭৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ‘বব কাউপারের টেস্ট’ নামে পরিচিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়।
১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৭ তারিখে জোহানেসবার্গের নিউ ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৯ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
খেলোয়াড়ী জীবন থেকে দূরে সড়ে আসার পর ব্রিসবেন রেডিও স্টেশনে কাজ করেন। এক পর্যায়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসনে যুক্ত হন। এছাড়াও, রাজ্য দলের নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এছাড়াও, কুইন্সল্যান্ড ক্রিকেটার্স ক্লাবের সদস্য। খেলাধূলার বাইরে শিক্ষক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটিয়েছেন।
ক্রিকেটের পাশাপাশি রাগবি ইউনিয়ন ও রাগবি লীগের খেলোয়াড় ছিলেন। সকল ধরনের খেলাধূলায় তাঁর আগ্রহ রয়েছে। অবসরকালীন গান শুনেন ও মৎস্য শিকার করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ৩০ এপ্রিল, ১৯৬০ তারিখে রবিন স্টাটার্ড নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির চার পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে।
