টম ব্লান্ডেল

১ সেপ্টেম্বর, ১৯৯০ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে নিউজিল্যান্ডের পক্ষ খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটান। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী তিনি। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হিসেবে সুনাম রয়েছে তাঁর। প্রায়শঃই উদ্ভাবনীমূলক খেলার প্রদর্শনে সচেষ্ট থাকেন। পাশাপাশি, দর্শনীয় স্ট্রোকের মারের সাথে খাঁটিমানের কৌশল অবলম্বনে অগ্রসর হন। ২০১০ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় টম ল্যাথাম, জেমস নিশাম ও ডগ ব্রেসওয়েলের সাথে একত্রে খেলেছিলেন। তাঁরা সকলেই নিউজিল্যান্ড দলে খেলার সুযোগ পেলেও তাঁকে ধৈর্য্য পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল। ২০১৩ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ২০১৩ সালে ওয়েলিংটনের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও লিস্ট-এ ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো খেলেন। ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত অকল্যান্ড বনাম ওয়েলিংটনের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। তবে, জাতীয় দলে খেলার জন্যে তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল।

২০১৫-১৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। সকল স্তরের ক্রিকেটের ২৮ খেলায় অংশ নিয়ে ১০৭৩ রান তুলেন। পরের মৌসুমেও একই ধারা অব্যাহত রাখেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে ১৭ খেলা থেকে ৫৩৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ মৌসুমের সুপার স্ম্যাশ প্রতিযোগিতায় নয় ইনিংস থেকে ২৪৩ রান সংগ্রহের বিষয়টি যে-কোন উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের মধ্যে সর্বাধিক ছিল।

২০১৭ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। জানুয়ারি, ২০১৭ সালে সিরিজের সর্বশেষ টি২০আইয়ে আঘাতপ্রাপ্ত লুক রঙ্কি’র স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন তিনি। ৮ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। খুব শীঘ্রই চ্যাপেল-হ্যাডলি ট্রফি খেলতে ওডিআই দলে যুক্ত হন।

ডিসেম্বর, ২০১৭ সালে টেস্ট দলে খেলার সুযোগ পান। ২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন সফররত ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। আঘাতের কবলে পড়া বিজে ওয়াটলিংয়ের পরিবর্তে খেলেন। সুযোগের সদ্ব্যবহারে তৎপরতা দেখান। ১ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। শতক হাঁকিয়ে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। ঐ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০৭ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। তবে, নীল ওয়াগনারের অসাধারণ বোলিং দাপটে তাঁর দল ইনিংস ও ৬৭ রানের ব্যবধানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতাকে ঘিরে নিউজিল্যান্ড দলের বিকল্প উইকেট-রক্ষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

২০২২ সালে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ১০ জুন, ২০২২ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজ অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৮১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১০৬ ও ২৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, পাঁচটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, জনি বেয়ারস্টো’র অসাধারণ মারকুটে শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

২০২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। প্রথম ইনিংসে ১২২ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে ১৩৬ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ১৩৮ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ ও দুইটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, হ্যারি ব্রুকের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৬৭ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০২৪-২৫ মৌসুমে টম ল্যাথামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ১ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে ওয়াংখেড়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে ০ ও ৪ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, এজাজ প্যাটেলের স্মরণীয় বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা মাত্র ২৫ রানে পরাভূত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২১ ও ৪৪* রান সংগ্রহসহ একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। মিচেল স্যান্টনারের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৪২৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে রোস্টন চেজের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ডেভন কনওয়ে’র অসাধারণ জোড়া শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৩ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

Similar Posts

  • | |

    পল হিবার্ট

    ২৩ জুলাই, ১৯৫২ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ব্রান্সউইক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘ড্যাশার’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। বামহাতে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং করতেন। কার্লটনের পক্ষে দশ মৌসুম খেলেন। এরপর, অধিনায়ক-কোচ হিসেবে এসেনডন ক্লাবে আরও…

  • | | |

    ডেভ গ্রিগরি

    ১৫ এপ্রিল, ১৮৪৫ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ফেইরি মিডো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৮৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেয়াসহ অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের জনক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এডওয়ার্ড উইলিয়াম গ্রিগরি ও মেরি অ্যান দম্পতির সন্তান ছিলেন।…

  • |

    জর্জ বিসেট

    ৫ নভেম্বর, ১৯০৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কিম্বার্লী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে মারকুটে ভঙ্গীমায় ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাশাপাশি চমৎকার ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ১৯২০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘকায় ও লিকলিকে গড়নের অধিকারী ছিলেন। তিনি তাঁর সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার…

  • | | |

    ইউনুস খান

    ২৯ নভেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের মারদান এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে অংশ নিতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। মারদানে জন্মগ্রহণ করলেও শৈশবেই পাকিস্তানের বন্দর নগরী করাচীতে চলে যান।…

  • |

    চার্লস ম্যারিয়ট

    ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৫ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের হিটন মুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। জন্ম নিবন্ধনে তিনি চার্লি স্টোওয়েল ম্যারিয়ট নামে পরিচিত। ‘ফাদার’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। নিজের সময়কালে অন্যতম সেরা লেগ-ব্রেক ও গুগলি বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ…

  • |

    স্যামি কার্টার

    ১৫ মার্চ, ১৮৭৮ তারিখে ইয়র্কশায়ারের নর্থোরাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণের সাথে যুক্ত ছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করলেও পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসিত হন। ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন উইকেট-রক্ষক ছিলেন। তবে, সমসাময়িক অনেকে স্ট্যাম্পের কাছে থাকলেও তিনি তা করতেন না। ব্যাটিংকালে কাঁধের উপর দিয়ে স্কুপ করতেন। ব্যাটিংয়ে…