২৬ অক্টোবর, ১৯৫০ তারিখে মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
আয়ানগর পরিবারে তাঁর জন্ম। নাঙ্গামবাক্কাম কর্পোরেশন স্কুলে পড়াশুনো করেছেন। সেখানকার কংক্রিটের পিচে অনুশীলন করতেন। বিদ্যালয়ের পেস বোলারদের বিপক্ষে দারুণ খেলতেন। এক পর্যায়ে তাদেরকে ১৮ গজ দূর থেকে বোলিং করতে বলতেন। মূলতঃ এটিই পেস বোলারদের বিপক্ষে বিশেষতঃ উঁচু বলে তাঁর সফলতার প্রধান চাবিকাঠি ছিল।
স্পিনের বিপক্ষে বিশেষ দূর্বলতা লক্ষ্য করা যায়। বিদ্যালয়ের দিনগুলো অত্যন্ত বাচাল প্রকৃতির ছিলেন। বিবেকানন্দ কলেজে চলে যান। এছাড়াও, অরুণা সিসি, মাদ্রাজ সিসি ও ইন্ডিয়ান পিস্টন্সের পক্ষে খেলেছেন। তামিলনাড়ুর অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেয়েছেন। একই সময়ে দৃষ্টিনন্দন ও বিধ্বংসী ইনিংস খেলায় পারঙ্গমতা দেখিয়েছেন।
১৯৭০-৭১ মৌসুম থেকে ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে। কেরালার বিপক্ষে ঐ খেলায় ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। শুরুটা বেশ ভালো করলেও বড় অঙ্কের সন্ধান পেতেন না। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে কর্ণাটকের বিপক্ষে সপ্তম উইকেটে বেঙ্কটের সাথে ৮৯ ও অষ্টম উইকেটে লরেন্স এডমন্ডসের সাথে ৬৪ রান তুলে ইনিংস পরাজয় এড়াতে ভূমিকা রাখেন। তবে, প্রসন্ন ও চন্দ্রের বিপক্ষে ১২টি বাউন্ডারি মারলেও ৭২ রানে তাঁকে বিদেয় নিতে হয়েছিল।
অবশেষে, ১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো শতরানের সন্ধান পান। কর্ণাটকের বিপক্ষে ১৩০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পর ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন। এ পর্যায়ে তামিলনাড়ুর সংগ্রহ ৪২/৫ থেকে ৭ উইকেটে ১১২ রানে নিয়ে যান। বামহাতি স্পিনারদের বিপক্ষে বেশ অপ্রস্তুত থাকতেন। তবে, পরের মৌসুমে দিলীপ ট্রফি প্রতিযোগিতায় বিষেন বেদী ও রাজিন্দার গোয়েলের বিপক্ষে ১১২ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৯৭৮ সালে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন।
১৯৮০ থেকে ১৯৮১ সময়কালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুমে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। ৬ ডিসেম্বর, ১৯৮০ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশ করেন।
একই সফরের ১৩ মার্চ, ১৯৮১ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২৯ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, রবি শাস্ত্রী’র অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে টেস্টটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। স্ট্রোকের ফুলঝুড়ি ছোটালেও জাতীয় দলে তাঁকে পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করা হয়নি।
এস থায়াগারাজন দ্য হিন্দুতে লিখেছিলেন যে, ‘তিনি খুব কমই বোলারদেরকে রেহাই দিতেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই রান সংগ্রহের দিকে নজর দিতেন। সামনের পায়ে ভর রেখে স্ট্রোক মারতেন, ফিল্ডারদেরকে তুচ্ছ মনে করতেন। বলকে শূন্যে মেরে আনন্দ উপভোগ করতেন এবং অবিবেচনাপ্রসূত ও সময়ের হেরফেরে অযাচিত শটে বিদেয় নিতেন।’
সুরেশ মেনন ইএসপিএনক্রিকইনফোয় উল্লেখ করেছেন যে, ‘সিডি গোপীনাথ ও কৃষ্ণমাচারী শ্রীকান্তের মাঝখানের বছরগুলোয় টিই তামিলনাড়ুর সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন। দলের সঙ্কট মুহূর্তে নিজেকে এগিয়ে রেখে বাদ-বাকীদেরকে বিশ্রামে রাখতেন।’ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর একটি প্রথম-শ্রেণী ও সমসংখ্যক লিস্ট-এ খেলা আম্পায়ার হিসেবে পরিচালনা করেছিলেন। মস্তিষ্কের ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে ৬ ডিসেম্বর, ২০১০ তারিখে চেন্নাইয়ে ৬০ বছর ৪১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
