| |

টিনু যোহানন

১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে কেরালার কুইলনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকের শুরুরদিকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দীর্ঘদেহের অধিকারী। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে কেরালার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দীর্ঘলম্ফে ভারতের বিখ্যাত খেলোয়াড় থাডাথুভিলা যোহাননের সন্তান তিনি। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০০৯-১০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কেরালার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পরপরই তাঁর মাঝে পেস বোলারের চমৎকার সম্ভাবনা লক্ষ্য করা যায়। তবে, হঠাৎ আলোর ঝলকানীর ন্যায় দ্রুততম সময়ে বিদেয় নেন।

২০০০-০১ মৌসুমে তাঁর বোলিংয়ের বিচ্ছুরণ ঘটে। রঞ্জী ট্রফিতে খেলতে নেমে ২৪ গড়ে ১৯ উইকেট পেয়েছিলেন। তাঁর বোলিংয়ে সকলেই বিমোহিত হন। খুব দ্রুত তাঁকে ভারত দলে ঠাঁই দেয়া হয়।

২০০১ থেকে ২০০২ সময়কালে ভারতের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও সমসংখ্যক ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০১-০২ মৌসুমে নিজ দেশে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৩ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে মোহালিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। সঞ্জয় বাঙ্গার ও ইকবাল সিদ্দিকী’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/৭৫ ও ২/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ২ রানে অপরাজিত ছিলেন। তবে, অনিল কুম্বলে’র দূর্দান্ত বোলিংনৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

বামহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে খোলা বুকে বোলিংয়ে নেমে ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদ্বয় – মার্ক বুচার ও মার্কাস ট্রেসকোথিকের সমীহের পাত্রে পরিণত হন। ইনিংসের শুরুতে স্লিপে মার্ক বুচার ভিভিএস লক্ষ্মণের হাতে ধরা পড়েন। এরপর, মার্কাস ট্রেসকোথিক তাঁর বল মোকাবেলা করলেও পিচে পড়ে স্ট্যাম্পে আঘাত হানে। দ্বিতীয় ইনিংসেও তাঁরা তাঁর শিকারে পরিণত হন। এরফলে, ক্রিকেট জগতে বেশ সাড়া জাগায় ও আশার বাণী শোনায়। ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা তাঁর ছন্দোবদ্ধ দৌঁড়, অপরিসীম শক্তিমত্তার পাশাপাশি দৌঁড়ানোর উপযোগী শারীরিক কাঠামোর প্রশংসায় মেতে উঠে।

২০০১-০২ মৌসুমে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনার্থে ভারত দলের সদস্য হন। চমৎকার বোলিংশৈলীর ধারা অব্যাহত রাখেন। ২৯ মে, ২০০২ তারিখে বার্বাডোসের ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। ৩/৩৩ নিয়ে ওডিআইয়ে ভারতের জয় এনে দেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ এরপর থেকে তাঁর খেলার বাঁক নিচের দিকে চলে যেতে থাকে। ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে পরবর্তী ওডিআই থেকে দুই উইকেট লাভ করেন। কিন্তু, এ পর্যায়ে তিনি ক্রিস গেইলের পাল্টা আক্রমণের কবলে পড়েন। তরুণ বোলারের উপর এক চোট নেন ক্রিস গেইল।

২০০২ সালে ন্যাটওয়েস্ট ত্রি-দেশীয় সিরিজে অংশ নেন। ব্রিস্টলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। মারভান আতাপাত্তুকুমার সাঙ্গাকারা’র বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। তবে, ভারত দল বেশ সহজে জয় পেলেও তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন হুমকির মুখোমুখি হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ওডিআই দল থেকে তাঁকে বাদ দেয়া হয়।

২০০২-০৩ মৌসুমে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৯ ডিসেম্বর, ২০০২ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ০* ও ৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৬ ও ১/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এক সময় তাঁকে ভারতের শীর্ষ পেসার হিসেবে বিবেচনায় আনা হয়েছিল। তবে, মাত্র কয়েক টেস্টে অংশ নেয়ার পরই দল থেকে বাদ পড়েন। বলে পর্যাপ্ত বাউন্স আনয়ণ করতে পারতেন ও পেস সহযোগে বোলিং করতেন। কিন্তু, ধারাবাহিকতা রক্ষায় ব্যর্থ হন ও এক পর্যায়ে পর্দার অন্তরালে তাঁকে চলে যেতে বাধ্য হতে হয়।

আইপিএলের ২০০৯ সালের আসরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০১৪ সালে কেরালার বোলিং কোচ হিসেবে মনোনীত হন।

Similar Posts

  • |

    বাকা জিলানী

    ২০ জুলাই, ১৯১১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ৬ ফুট উচ্চতার দীর্ঘদেহের অধিকারী ছিলেন। লেগ-ব্রেক ও মিডিয়াম-পেস লেগ-কাটার সহযোগে বোলিং করতেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত…

  • |

    ভিনসেন্ট ট্যানক্রেড

    ৭ জুলাই, ১৮৭৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ১৮৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে লর্ড…

  • |

    ফ্রেড লে রুক্স

    ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮২ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৮-০৯ মৌসুম থেকে ১৯২৮-২৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত…

  • |

    জিম লেকার

    ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯২২ তারিখে ইয়র্কশায়ারের ব্রাডফোর্ডের ফ্রিজিংহল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও অসাধারণ ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ব্রাডফোর্ডে জন্মগ্রহণ করলেও সারেতে চলে যান। পরবর্তীতে, ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের সকল স্পিনারদের চেয়ে সেরা বোলিং গড়ে অবস্থান করছেন। দুই বছর বয়সে পিতা…

  • |

    রয় মিলার

    ২৪ ডিসেম্বর, ১৯২৪ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫০-৫১ মৌসুম থেকে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। সংক্ষিপ্ত…

  • |

    শাদাব কবির

    ১২ নভেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান কাস্টমস, পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং…