| |

টিম ও’ব্রায়ান

৫ নভেম্বর, ১৮৬১ তারিখে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে বোলিং করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাথের ডাউনসাইড স্কুলে অধ্যয়নের পর নটিং হিলভিত্তিক সেন্ট চার্লস কলেজে পড়াশুনো করেন। এরপর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৮৭৯ থেকে ১৮৮১ সময়কালে কেনসিংটন পার্ক ও মিডলসেক্স কোল্টসের সদস্যরূপে তিনটি দ্বিতীয়-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আয়ারল্যান্ড ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন তিনি। ১৮৮৪ ও ১৮৮৫ সালে ক্রিকেটে ব্লুধারী হন। ১৮৮১ থেকে ১৯১৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। নিজস্ব বিংশতিতম জন্মদিন উদযাপনের পাঁচ মাস পূর্বে ১৮৮১ সালে লর্ডসে ডব্লিউজি গ্রেসের নেতৃত্বাধীন গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে মিডলসেক্সের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। খেলায় তিনি উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। শূন্য রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ লাভ করেন। ঐ খেলায় গ্লুচেস্টারশায়ার দল ৬ উইকেটে জয়লাভ করে।

মিডলসেক্সের পক্ষে ১৮৮১ থেকে ১৮৯৮ সময়কালে দশ শতক সহযোগে ২৯.৬৩ গড়ে ৭৩৭৭ রান সংগ্রহ করেছেন। ১৮৯৫ সালে হোভে সাসেক্সের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২০২ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, ১৩৬.০০ গড়ে ২ উইকেট লাভসহ ১১১ ক্যাচ ও ২টি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। তিন মৌসুমে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ১৮৮৪ সালে ২৭.৩৮ গড়ে সর্বাধিক ১১৫০ রান তুলেছিলেন।

১৮৮৪ থেকে ১৮৯৬ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র পাঁচ টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে, এক টেস্টে দলের নেতৃত্বে ছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ৭.৩৭ গড়ে ৫৯ রান ও ৪টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দুইবার বিদেশ সফর করেন। ১৮৮৪ সালে নিজ দেশে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ঐ টেস্টে বয়োজ্যেষ্ঠ ইংরেজ ক্রিকেটার ছিলেন। ১০ জুলাই, ১৮৮৪ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ২০ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে ফ্রেড স্পফোর্থের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৮৮৭-৮৮ মৌসুমে ভার্ননের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। এছাড়াও, ১৮৯৫-৯৬ মৌসুমে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৬ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৭ ও ১৬ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। খেলায় তাঁর দল ২৮৮ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। স্মর্তব্য যে, ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড দলের সর্বনিম্ন ২৬ রান সংগ্রহের পূর্ব-পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ৯৪ বলে মাত্র ৩০ রান সংগ্রহের রেকর্ড গড়ে।

একই সফরের ২১ মার্চ, ১৮৯৬ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৩৩ রানে জয়লাভ করলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯০২ থেকে ১৯০৭ সময়কালে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ১৯১৪ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সর্বশেষ খেলেন। এল. রবিনসন একাদশের সদস্যরূপে ৯০ ও ১১১ রান তুলেছিলেন।

তাঁর কাকা প্যাট্রিকের দেহাবসানের ফলে তিনি স্যার টিমোথি নাম ধারন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। দশ সন্তানের জনক ছিলেন। ৯ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে আইল অব ম্যানের রামসে এলাকায় ৮৭ বছর ৩৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    ম্যাথু হেইডেন

    ২৯ অক্টোবর, ১৯৭১ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের কিঙ্গারয়ে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক। শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। শক্ত-মজবুত গড়নের বামহাতি ব্যাটসম্যান। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। ‘হেডোস’ ডাকনামে পরিচিতি পান। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের স্বর্ণযুগে ভীতিহীন অবস্থায় বোলারদের উপর ছড়ি ঘুরাতেন। স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব নিয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গীমায় খেলা প্রদর্শন করতেন।…

  • | |

    টাটেন্ডা তাইবু

    ২৪ মে, ১৯৮৩ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি (১.৬৫ মিটার) উচ্চতার বাঁধা ডিঙ্গানো ‘টিবলি’ ডাকনামে পরিচিত টাটেন্ডা তাইবু হাল্কা-পাতলা…

  • |

    মোহাম্মদ সামি

    ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নতুন প্রজন্মের অন্যতম পাকিস্তানী ফাস্ট বোলার। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে উল্লেখযোগ্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন ব্যতিরেকেই টেস্ট দলে ঠাঁই পান। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন…

  • |

    অসি ডসন

    ১ সেপ্টেম্বর, ১৯১৯ তারিখে নাটালের রসবার্গ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দৌঁড়ুতে বেশ পটু ছিলেন। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    হেনরি ফোলি

    ২৮ জানুয়ারি, ১৯০৬ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ওয়েলিংটন কলেজে ভর্তি হন। এরপর, ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে কলায় স্নাতক ও বাণিজ্যে স্নাতকধারী হন। ১৯২৭-২৮ মৌসুম থেকে ১৯৩২-৩৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয়…

  • |

    জন হেইস

    ১১ জানুয়ারি, ১৯২৭ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দলীয় সঙ্গীদের কাছ থেকে ‘হেব্যাগ’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। দীর্ঘদেহের অধিকারী ছিলেন। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত…