৪ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘মার্ক রিচার্ডসন স্কুল অব ব্যাটিং’ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০১৩-১৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে অকল্যান্ড এইসেসের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ঐ মৌসুমে মাত্র কয়েকটি খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রথম দুই মৌসুমে কেবলমাত্র হাতেগোনা কয়েকটি খেলায় ভালো করেছিলেন। পরবর্তী তিন মৌসুম দারুণ খেলেন। তন্মধ্যে, ২০০২-০৩ মৌসুমে নিজের সেরা সময়ে অবস্থান করেন। ৫৮.৫৭ গড়ে ৮২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ক্যান্টারবারির বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৬৮ রান তুলেন।
পরবর্তীতে অকল্যান্ড এইসেস ত্যাগ করে ২০০৪-০৫ মৌসুমে ক্যান্টারবারিতে যোগ দেন। কিন্তু, তাঁর এ দলবদল মোটেই সুবিধের হয়নি। মাত্র ৪.৯০ গড়ে রান পেয়েছিলেন। তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে পুণরায় অকল্যান্ডে ফিরে যান। ২০০৮-০৯ মৌসুমে রানের ফল্গুধারায় চলে আসেন। ক্যান্টারবারির বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৬৮ রান তুলেন। এরফলে, মার্ক রিচার্ডসনের অবসর গ্রহণের কারণে নিউজিল্যান্ডীয় দল নির্বাচকমণ্ডলী উপযুক্ত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর সন্ধান পায়।
২০০৮ থেকে ২০১১ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৭ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। বেশ বয়স নিয়ে ২৯ বছর বয়সে টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে ক্রিস গেইলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১১ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। স্নায়ুর চাপে ভোগেন। প্রথম রান তুলতে তিনি ৩৮ বল মোকাবেলা করেছিলেন। কিন্তু, একাগ্রতা সহকারে দলের ভিত্তি গড়তে অনন্য ভূমিকা রাখেন। খেলায় তিনি ৩৪ ও ২৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। জেরোম টেলরের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
দ্বিতীয় টেস্টে তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতিশীলতা তুলে ধরতে সচেষ্ট হন। নেপিয়ারে ধ্রুপদীশৈলীর শতক হাঁকিয়ে নিউজিল্যান্ড দলের জয়ের সুযোগ এনে দেন।
২০০৯ সালে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে হিমশিম খান ও শ্রীলঙ্কা সফরেও ছন্দহীন অবস্থায় খেলেন। পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজগুলো থেকে অর্ধ-শতকের সন্ধান পেলেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি। ভারত সফরে জোড়া শূন্যের সন্ধান পান ও জহির খানের বল মোকাবেলায় দৃঢ়চেতা মনোভাবের পরিচয় দিতে পারেননি। তবে, হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত পরবর্তীতে টেস্টেই দর্শনীয় শতক হাঁকান। এরফলে, একাদশ ব্যাটসম্যান হিসেবে জোড়া শূন্য লাভের পর শতরানের ইনিংস খেলার কৃতিত্ব দেখান।
২০০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৭ ও ৮৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মার্টিন গাপটিলের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১২১ রানে পরাজিত হয়েছিল।
দৃশ্যতঃ নিউজিল্যান্ডের শীর্ষসারিতে বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। কিন্তু, এরজন্যে সময়ের প্রয়োজন ছিল। পরবর্তী দুই টেস্টে দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শে ব্যর্থ হন ও প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেননি।
২০১০-১১ মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন। ৭ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, আব্দুর রেহমানের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এরপর, দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টির অগোচরে চলে যান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও অকল্যান্ডের পক্ষে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন।
