| |

টিম কার্টিস

১৫ জানুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে কেন্টের চিজলহার্স্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

রয়্যাল গ্রামার স্কুল ওরচেস্টারে অধ্যয়নের পর ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পরবর্তীতে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৯ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ডানহাতে ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডারহামে ছাত্রাবস্থায় ওরচেস্টারশায়ার দলে খেলতে থাকেন। এরপর থেকে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। কেমব্রিজ থেকে একবার ব্লুধারী হন।

১৯৮৪ সালে প্রথম শতক হাঁকান। ঐ মৌসুমে ৪২.৫৭ গড়ে ১৪০৫ রান তুলেন। সংখ্যার দিক দিয়ে এটি এগারো মৌসুমে সহস্র রান সংগ্রহের মধ্যে প্রথম ঘটনা ছিল। কেবলমাত্র খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকেই নিচেরদিকে খেলতেন। অধিনায়ক ফিল নীলের নেতৃত্বে দুইটি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপ ও সমসংখ্যক জন প্লেয়ার লীগের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।

১৯৮৮ থেকে ১৯৮৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে নিজ দেশে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন শক্তিধর ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২১ জুলাই, ১৯৮৮ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। রবিন স্মিথের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে ১২ রান করে সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, কার্টলি অ্যামব্রোসের বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

তবে, এরপর আর মাত্র চার টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তবে, কোনটিতেই অর্ধ-শতরানের সন্ধান পাননি ও ১৫.৫৫ গড়ে রান পেয়েছেন।

১৯৮৯ সালে নিজ দেশে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১০ আগস্ট, ১৯৮৯ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে টেরি অল্ডারম্যানের বলে বিদেয় নেন। মার্ক টেলরের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮০ রান জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে মনোনিবেশ ঘটান। এক পর্যায়ে তিন বছর মেয়াদে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। ১৯৯৪ সালে লর্ডসে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির শিরোপা বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০-এর দশকের সূচনাকাল পর্যন্ত দলটির পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে ত্রিশ হাজারের অধিক রান পেয়েছেন।

আট বছর প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৭ সালে দায়িত্ব থেকে চলে আসার পর ওরচেস্টারশায়ারের সাথে নিবীড় সম্পর্ক বজায় রাখেন। নয় বছর বোর্ডের সদস্য থাকা অবস্থায় এক মেয়াদে সহঃসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ও ক্রিকেট স্টিয়ারিং গ্রুপের নেতৃত্ব দেন। এরপূর্বে সম্মানসূচক আজীবন সদস্যের মর্যাদা পান। ৪০ বছর কাউন্টি দলের সাথে যুক্ত থাকার পর ২৪ মার্চ, ২০২১ সালের বিশেষ অধরা সাধারণ সভায় সম্মানসূচক সহঃসভাপতি হিসেবে মনোনীত হন।

Similar Posts

  • | |

    সিরিল ভিনসেন্ট

    ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯০২ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং শৈলী প্রদর্শন করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। স্পিনারদের আদিভূমি হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার তেমন পরিচিতি না থাকলেও তাঁর মাধ্যমে দেশের পরিচিতি ঘটে। এছাড়াও, দীর্ঘ সময়…

  • | | | |

    বিলি মারডক

    ১৮ অক্টোবর, ১৮৫৪ তারিখে ভিক্টোরিয়ার স্যান্ডহার্স্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া – উভয় দলের পক্ষেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া দলের দ্বিতীয় অধিনায়ক ছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর কর্পোরাল গিলবার্ট উইলিয়াম লয়েড মারডক ও এডিথ সুজান হক দম্পতির সন্তান ছিলেন। বলারাটভিত্তিক ড. ব্রোমলিজ স্কুলের…

  • |

    কাসিম উমর

    ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭ তারিখে নাইরোবিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললেও মাঝারিসারিতে যে-কোন অবস্থানে খেলতে নামতেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী…

  • | |

    আকরাম রাজা

    ২২ নভেম্বর, ১৯৬৪ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে ফয়সালাবাদ, হাবিব ব্যাংক…

  • | | | |

    ওয়াকার ইউনুস

    ১৬ নভেম্বর, ১৯৭১ তারিখে পাঞ্জাবের বিহারী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায়শঃই তাঁকে ‘সুইংয়ের সুলতান’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। তরুণ বয়সে অন্যতম সেরা দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার ছিলেন। তিনি তাঁর সময়কালের অন্যতম…

  • | | | |

    গৌতম গম্ভীর

    ১৪ অক্টোবর, ১৯৮১ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার, কোচ ও রাজনীতিবিদ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি (১.৬৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। দীপক গম্ভীর ও সীমা গম্ভীর দম্পতির…