৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৬ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের হাইগেট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৯১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ক্যাডবারিতে তিনি কাজ করতেন। এক পর্যায়ে কর্মকালীন দূর্ঘটনায় তাঁর দুই আঙ্গুলের ঊর্ধ্বাংশ কাটা পড়ে। তাসত্ত্বেও, তাঁকে ওয়ারউইকশায়ারের উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৪ থেকে ১৯৩০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ডব্লিউ. জি. গ্রেসের সাথে ও বিপক্ষে খেলেছেন। ৭০ বছরের অধিক সময় ‘টাইগার’ নামে পরিচিত ছিলেন। তবে, ওয়ারউইকশায়ারের সাথে জড়িত স্বল্প কয়েকজন তাঁকে ‘জিম’ নামে ডাকতেন।
১৯০৪ সালে ওয়ারউইকশায়ারের সদস্যরূপে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকান একাদশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো খেলেন। ঐ বছরে আরও দুই খেলায় অংশ নিলেও ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিবেদনে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে এমসিসি’র দ্বিতীয়সারির সদস্যরূপে মনোনীত হন। এ সময়ে তিনি ডব্লিউ. জি. গ্রেসের সাথে পরিচিত হন ও কয়েকটি খেলা একত্রে খেলেন। এছাড়াও, গ্রেস লন্ডন কাউন্টি একাদশের বিপক্ষেও খেলেছিলেন। মাঠকর্মীর দায়িত্ব পালনকালে কখনওবা অনুশীলনীতে জর্জ রবি’র বিপক্ষে বোলিং করতেন।
১৯১১ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ১১ টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯১১-১২ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩০ ডিসেম্বর, ১৯১১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। বিল হিচের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ৮ উইকেটে জয়লাভ করে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় চলে আসে।
১৯১২ সালে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ফ্রাঙ্ক মিচেলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১০ জুন, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৬২ রানে জয় পায়।
১৯১৩-১৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯১৩ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ইনিংস ও ১২ রানে জয়লাভ করলে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবন স্বল্পকালীন হলেও ১৯৩০ সাল পর্যন্ত ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে খেলেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সর্বমোট ৪৯৬টি খেলায় অংশ নিয়ে প্রায় নয়শত ডিসমিসালের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ১৬৯৯৭ রান তুলেছিলেন। সব মিলিয়ে প্রায় পঁচাত্তর বছর ওয়ারউইকশায়ারের সাথে সম্পর্ক রেখেছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও তাঁর ব্যাটিংও কোন অংশেই কম ছিল না।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। আটটি টেস্ট ও ২৬টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা পরিচালনা করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। রোজ নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ৩১ আগস্ট, ১৯৭৯ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের নর্থফিল্ড এলাকায় ৯৩ বছর ২০৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। মৃত্যুর ৮৩ বছর পূর্বে গাছে চড়ে ওয়ারউইকশায়ারের খেলা দেখার মাধ্যমে ক্লাবটির সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।
