২৮ মার্চ, ১৯৫৬ তারিখে মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
দীর্ঘকায় ও শক্ত-মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে তিনি নিশ্চিতভাবেই ভারতের দ্রুততম ও ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন ফাস্ট বোলার ছিলেন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ১৯৮৯-৯০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মধ্যপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর পক্ষে খেলেছেন।
১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সময়কালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও চারটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটে কোন উইকেটের সন্ধান না পেলেও ওডিআইয়ে তেমন মন্দ খেলেননি। ২৫.৬০ গড়ে ৭ উইকেট পেয়েছিলেন। ওভারপ্রতি ৪.৯২ গড়ে রান খরচ করেন।
১৯৮২-৮৩ মৌসুমে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। এ সফরে ভারতের শোচনীয় ফলাফলের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। আঘাতপ্রাপ্ত মদন লালের কারণে তাঁকে দলে যুক্ত করা হয়। এ পর্যায়ে ভারত দল ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের চারটিতে অংশ নিয়ে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। শেষ দুই টেস্টে অংশ নেন। বড় ধরনের রান সংগ্রহের খেলাগুলো পরবর্তীতে ড্রয়ে পরিণত হয়। ২৩ জানুয়ারি, ১৯৮৩ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০/৮৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।
এরপর, একই সফরের ৩০ জানুয়ারি, ১৯৮৩ তারিখে করাচীতে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ০/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্র হলে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ঐ সফরে তিনি একটি ওডিআইয়ে অংশ নেন ও চার ওভার বোলিং করেন। ২১ জানুয়ারি, ১৯৮৩ তারিখে করাচীতে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। তিন বছর পর ব্যাঙ্গালোরে পুণরায় তাঁকে ভারত দলে ঠাঁই দেয়া হয়। সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে এবার তিনি তিনটি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। নাগপুরে শেষদিকে বোলিংয়ে নেমে ২/৫০ ও চণ্ডীগড়ে ৩/২৩ লাভ করেন। তন্মধ্যে, ডেভিড গাওয়ার ও মাইক গ্যাটিং তাঁর শিকারে পরিণত হন। একটি খেলা ১৫ ওভারের হলে তিন ওভার বোলিং করেন। ২৭ জানুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে চণ্ডীগড়ে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন।
দূর্ভাগ্যজনকভাবে দীর্ঘদিন তিনি খেলতে পারেননি। স্বল্পকালের খেলোয়াড়ী জীবনের কারণ খুব সম্ভবতঃ বলে নিখুঁতভাব না থাকা। মাত্র ৪৪টি খেলায় সীমাবদ্ধ ছিল তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন। ২৭ গড়ে ১৩০ উইকেট দখল করেন। এক পক্ষেরও কম সময়ে দ্রুততার সাথে তাঁকে পাকিস্তানে প্রেরণের পূর্বে কেরালার বিপক্ষে ৪/৪২ ও ৯/৫৪ পান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত তামিলনাড়ুর পক্ষে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। পরবর্তীতে, মধ্যপ্রদেশের সদস্য হন। উপর্যুপরী খেলাগুলোয় যথাক্রমে ১৪১ রান খরচায় আট উইকেট ও ৯৮ রান খরচায় দশ উইকেটের সন্ধান পান। খেলা থেকে অবসর নেয়ার পূর্বে শেষ হাসি হাসেন। শেষ দুই মৌসুমে ২২ গড়ে ৩১ উইকেট পেয়েছিলেন।
অবসর গ্রহণের পর কোচ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। ২০০৮ সালে গ্যাটোরেড পেসার্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জবাগল শ্রীনাথের সাথে অংশ নেন। এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে কোচের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যসহ আইপিএলে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের ব্যবস্থাপক হিসেবে মনোনীত হন। দক্ষিণাঞ্চলের দল নির্বাচনের সাথে জড়িত ছিলেন। ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমির পরিচালনা পরিষদ ডব্লিউভি রমন ও নরেন্দ্র হিরবাণী’র সাথে ফাস্ট বোলিং কোচ হিসেবে তাঁকে নিযুক্ত করে।
