৯ অক্টোবর, ১৯৮০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ২০০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
কেপটাউনভিত্তিক পাইনল্যান্ডস হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন ও সেখানে বৃত্তি লাভ করেন। এখানে অবস্থানকালে ক্রিকেট ও হকির মৌলিক জ্ঞান লাভ করেন। ১৯৯৯ থেকে ২০১৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে কেপ কোবরাজ, লায়ন্স ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮ বছর বয়সে এসে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। এক বছর পর নিজের দ্বিতীয় লিস্ট-এ খেলায় তিনটি ক্যাচ ও ৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। মাইকেল ওয়েন-স্মিথ ‘দ্য কেপ টাইমসে’ তাঁর ইনিংস সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, ‘মনোমুগ্ধকর, দুঃসাহসী ও সৃষ্টিশীলতার বহিঃপ্রকাশ।’
২০০৪ সালে মার্ক বাউচার ছন্দহীনতার কবলে পড়লে তাঁকে ভারত সফরের জন্যে দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০০৯-১০ মৌসুমে কোবরাজ থেকে লায়ন্সে চলে আসার পর ব্যাটিং ও উইকেট-রক্ষণে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন।
২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০৪-০৫ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ভারত সফরে যান। ২০ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জান্ডার ডি ব্রুনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, চতুর্থ কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট খেলেন। তবে, উইকেটের পিছনে গ্লাভস কর্মে বেশ ভালো করলেও বাউন্স ও স্পিন বল মোকাবেলায় তাঁকে বেশ হিমশিম খেতে দেখা যায়। একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৯ রান তুলে অনিল কুম্বলে’র বলে বিদেয় নেন। অ্যান্ড্রু হলের অসাধারণ অল-রাউন্ড কৃতিত্বে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। কলকাতায় দ্বিতীয় টেস্টে ১৫ ও ১ রান তুলতে সমর্থ হন।
টেস্ট অভিষেকের এক মাস পর ২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৭ ডিসেম্বর, ২০০৪ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২২ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণের সাথে নিজেকে জড়ান। অ্যান্ড্রু স্ট্রসের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
এরপর, এবি ডি ভিলিয়ার্সকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। স্বল্পকালীন খেলোয়াড়ী জীবনে ব্যাট হাতে বেশ পিছিয়ে পড়েন। পাঁচ ইনিংস থেকে মাত্র ৪৭ রান তুলতে পেরেছিলেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হবার পর ক্রিকেট খেলা থেকে দূরে সড়ে যান। ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে কেরাণীর চাকুরী নেন। ২০০৯ সালে পুণরায় খেলার জগতে চলে আসেন। হাইভেল্ড লায়ন্সের নিয়মিত সদস্য ছিলেন। ২০১২ সালে সিএলটি২০ প্রতিযোগিতায় দলকে চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। খুব কমই তাঁকে ব্যাট হাতে নামার প্রয়োজন পড়তো। তবে, ঐ খেলায় দুই ছক্কার মারে বিনোদনধর্মী ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন ও ২০ রান তুলেন। এছাড়াও, ঐ প্রতিযোগিতায় ছয়টি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান।
২০১২ সালে আঘাতপ্রাপ্ত মার্ক বাউচারের পরিবর্তে খেলার জন্যে তাঁকে ইংল্যান্ডে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু, এবি ডি ভিলিয়ার্সকে উইকেট-রক্ষণের সুযোগ দেয়া হলে পুরো সফরে তাঁকে মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হয়। ক্রিকেটের বাইরে হকি খেলায় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার হকি দলে খেলেছেন। প্রথম খেলায় একটি গোল করেন। তবে, খুব দ্রুত ক্রিকেটের দিকে ধাবিত হন। ৩৫ বছর বয়সে এসে ২০১৫ সালের র্যাম স্ল্যাম টি২০ প্রতিযোগিতায় খেলা গড়াপেটার অভিযোগে আগস্ট, ২০১৬ সালে ১২ বছরের জন্যে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন।
