৩০ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০১৮-১৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, গায়ানা অনূর্ধ্ব-১৯ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের পক্ষে খেলেছেন। ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে গ্রোস আইলেটে অনুষ্ঠিত গায়ানা বনাম উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০১৬ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সদস্য ছিলেন। এ প্রতিযোগিতায় তিনি সংরক্ষিত উইকেট-রক্ষক হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-১৯ দলে যুক্ত ছিলেন। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় আলজারি যোসেফের বলে অপ্রত্যাশিতভাবে ঋষভ পন্তকে স্ট্যাম্পিং করেন। ইয়ান বিশপের ভাষায়, বিষয়টি অত্যন্ত চাতুর্য্যতাপূর্ণ ছিল।
জ্যেষ্ঠ উইকেট-রক্ষকদের প্রাধান্য দেয়ায় গায়ানার পক্ষে সীমিত পর্যায়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছেন। তবে, ২০১৬ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পর তাঁকে সম্মুখসারিতে নিয়ে আসে। গত বছর জ্যামাইকার বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম প্রথম-শ্রেণীর শতক হাঁকান। এ পর্যায়ে ১৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের সহঃঅধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ইয়ান বিশপ মন্তব্য করেন, নিজের উত্তরণে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে সংবাদ শিরোনামে নিজেকে তুলে ধরতে না পারলেও ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি দূর্দান্ত খেলেন।
২০২৫ সাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট খেলছেন। ২০২৪-২৫ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান সফরে যান। ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৬ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, সাজিদ খানের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১২৭ রানে জয়লাভ করলে সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ০ ও ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিংসহ সমসংখ্যক রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, জোমেল ওয়ারিকানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১২০ রানে পরাজিত হলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
২০২৫-২৬ মৌসুমে রোস্টন চেজের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৭ ও ১৫* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ডেভন কনওয়ে’র অসাধারণ জোড়া শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৩ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
